Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৫ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৭ : ৪১ অপরাহ্ন
Home / রকমারি / এক মহীরুহের শূন্যতায়…

এক মহীরুহের শূন্যতায়…

humayon ahammedমোশাররফ রুমী: এক মহীরূহের শূন্যতায় বেদনাসিক্ত দেশের সাহিত্য, চলচ্চিত্র, নাটক আর সংগীতাঙ্গন। গত একটি বছর ধরেই এ শূন্যতা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে নিরন্তর। কারণ, এ মাধ্যম চারটি গত এক বছর ধরে তিনিশূন্য। আপনজনদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে তিনি এখন না ফেরার দেশের বাসিন্দা। তিনি হুমায়ূন আহমেদ। বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি, সর্বাধিক জনপ্রিয় ও সর্বাধিক পঠিত, নন্দিত লেখক এবং সংগীতস্রষ্টা, নাট্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের আজকের দিনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন কীর্তিমান এ মানুষটি। বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় এই লেখকের বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। ১৯৪৮ সালের ১৩ই নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কুতুবপুরে তার জন্ম হয়েছিল। তার ডাকনাম কাজল। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, মা আয়েশা ফয়েজ। হুমায়ূন আহমেদ প্রথম বিয়ে করেন ১৯৭৩ সালে গুলতেকিনকে। তাদের চার সন্তান নুহাশ, নোভা, শীলা ও বিপাশা। ২০০৫ সালে গুলতেকিনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর বিয়ে করেন শাওনকে। এই দম্পতির দুই সন্তান নিষাদ ও নিনীত। হুমায়ূন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই লেখালেখি শুরু করে সাহিত্য সমালোচকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। ‘নন্দিত নরকে’ তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। এরপর শঙ্খনীল কারাগার, রজনী, এপিটাফ, পাখি আমার একলা পাখি, ফেরা, নিষাদ, দারুচিনি দ্বীপ, নির্বাসন, অমানুষ, রূপালী দ্বীপ, শুভ্র, দূরে কোথাও, মন্দ্রসপ্তক, বাদশাহ নামদার, সাজঘর, বাসর, নৃপতির মতো পাঠক হৃদয় জয় করা উপন্যাস আসে তার লেখনীতে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তিনি লিখেছেন  জোৎস্না ও জননীর গল্প, ১৯৭১, সূর্যের দিনের মতো উপন্যাস। হুমায়ূনসৃষ্ট মিসির আলী ও হিমু হয়ে উঠে পাঠকদের প্রিয় চরিত্র। অনন্ত নক্ষত্র বীথি, ইরিনার মতো কয়েকটি কল্পবিজ্ঞান কাহিনীও লিখেছেন তিনি। উপন্যাসের পর নাটক লেখায় হাত দেন হুমায়ূন। এ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠায় অধ্যাপনা ছেড়ে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের এই শিক্ষক। ’৮০-এর দশকে বাংলাদেশ  টেলিভিশনে প্রচারিত ‘এইসব দিনরাত্রি’ ধারাবাহিক নাটক দিয়ে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে যান তিনি। এরপর বহুব্রীহি, অয়োময়, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাতের মতো জনপ্রিয় নাটকও আসে তার হাত দিয়ে। নাটক লেখার এক পর্যায়ে নির্দেশনায়ও নামেন হুমায়ূন। নাটক নির্দেশনায় হাত পাকিয়ে নামেন চলচ্চিত্র পরিচালনায়। ‘আগুনের পরশমনি’ দিয়ে শুরু করে শ্রাবণমেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামলছায়ার মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমনি’ কয়েকটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিল। বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ তৈরি করেছিলেন দারুণ শক্তিশালী এবং বৈচিত্র্যময় এক আবেদন। তার লেখা বই মানেই সর্বাধিক পাঠকগ্রহণযোগ্যতা প্রাপ্তি। তেমনই তার নাটক মানেই ছিল ছেলে বুড়ো সব শ্রেণীর দর্শকের টিভি সেটের সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়া। চলচ্চিত্র নির্মাণেও হুমায়ূন আহমেদ দর্শক সন্তুষ্টিতে জাদুকরী ছোঁয়া দিয়ে গেছেন সবসময়। এই মানুষটি আজ নেই। কিন্তু রয়ে গেছে তার দূর্দান্ত সব সৃষ্টি। সেগুলো অনন্তকাল পর্যন্ত আলো দিয়ে যাবে আমাদের শিল্প সংস্কৃতির চর্তুপাশে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful