Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০ :: ৫ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ৫০ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / শিক্ষক আজিজুল ইসলামের বিস্ময়কর আবিস্কার; চাষীদের জন্য সুখবর

শিক্ষক আজিজুল ইসলামের বিস্ময়কর আবিস্কার; চাষীদের জন্য সুখবর

RANGPUR-ALOO-PHOTO-....স্টাফ রিপোর্টার: মাত্র ২৫ হাজার টাকায় নিজেদের বসতভিটায়  দেশীয় প্রযুক্তিতে বাঁশ ও খড় দ্বারা  নির্মিত ঘরে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সর্ব্বচ্য ৫ মাস পর্যন্ত আলু সংরক্ষন করার বিস্ময়কর  পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। ফলে কৃষককে আর তাদের উৎপাদিত আলু হিমাগারে রেখে বাড়তি টাকা খরচ করে সংরক্ষন করতে হবেনা। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যান তত্ব বিভাগ যৌথভাবে এবার রংপুর অঞ্চলে আলু সংরক্ষন করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে এক কেজি আলু হিমাগারে রাখতে খরচ হয় ৫টাকা সেখানে দেশীয় প্রযুক্তিতে আলু সংরক্ষন করলে খরচ পড়বে মাত্র কেজিতে ১ টাকারও কম।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে দেশের সর্ব বৃহৎ আলূ উৎপাদনকারী এলাকা বলে খ্যাত রংপুরে এবার  প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিলো। আলু উৎপাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু রংপুরে মাত্র ৩৮টি হিমাগার রয়েছে যার আলু সংরক্ষন করে রাখার ক্ষমতা মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টন। ফলে প্রায় ৭ লাখ টন আলু কৃষকদের স্থানীয় ভাবে সংরক্ষন করতে হয় । কিন্তু সর্ব্বচ্য ২মাস রাখার পর সেই আলু পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলু  সংরক্ষন করতে না পারায়  পানির দামে আগাম আলু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। ফলে আলুর দাম না পাওয়ায় গত ২ বছরে আলু চাষও কমেছে । যেখানে ২০১১সালে আলু চাষ হয়েছিলো ৫৭ হাজার হেক্টরে এবার হয়েছে ৫৩ হাজার হেক্টরে। কার উপর হিমাগার মালিকদের সেচ্ছাচারিতা আর আলু সংরক্ষন করতে কেজি প্রতি ৫ টাকা করে নেয়ায় কৃষকরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যান তত্ব বিভাগের শিক্ষক কৃষি বিজ্ঞানী অধ্যাপক আজিজুল হক স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আলু সংরক্ষন করার এক বিস্ময়কর পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন। এতে করে কৃষকরা তাদের নিজেদের বসতবাড়িতেই ১০ ফুট বাই ১২ ফুট খড়ের ঘরের মধ্যে সর্ব্বচ্য ৮ টন আলু সংরক্ষন করতে পারবেন। ঘর তৈরীতে খরচ পড়ে সর্ব্বচ্য ২৫ হাজার টাকা। এভাবে আলু সংরক্ষন করতে কেজি প্রতি খরচ পড়ে মাত্র ১ টাকা । অথচ হিমাগারে আলু রাখতে কেজি প্রতি খরচ পড়ে ৫ টাকা । দেশীয় প্রযুক্তিতে আলু সংরক্ষন করলে সর্ব্বচ্য ৫ মাস আলু রাখা যায় ।

এ ব্যাপারে কৃষি বিজ্ঞানী আজিজুল হক জানান, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আলু সংরক্ষন করার পদ্ধতি সহজ হওয়ায় কৃষকরা আলু চাষে উৎসাহিত হবে । বিশেষ করে এখন রংপুরে দেশের সবচেয়ে বেশী আলু চাষ হয় । সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হিমাগার না থাকায় এবং সেখানে সংরক্ষন খরচও বেশী পড়ে। এ অবস্থা বিবেচনা করে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএসের সহায়তায় রংপুরে ৮ জন কৃষকের বাড়িতে আলু সংরক্ষন করার জন্য ঘর তৈরী করে দেয়া হয় । সেখানে আলু সংরক্ষন করে আশাতীত ফল পাওয়া গেছে। ৪ মাসেও আলু সতেজ আছে যা হিমাগারে সংরক্ষনের থেকে গুনগত মান ভালো ।

তিনি জানান, এ পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষন জনপ্রিয় করতে প্রয়োজন সরকারের সহযোগীতা। এ জন্য সরকার সহজ শর্তে ঋন দেবার ব্যবস্থা করলে আলু সংরক্ষরন করা সম্ভব । এতে করে কৃষকরাও হবে লাভবান তারা তাদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মুল্য পাবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

এদিকে এ প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য রংপুর শহরতলীর রাজেন্দ্রপুর এলাকায় মাঠ দিবস পালন করা হয় ।এতে প্রায় ২ শতাধিক আলূ চাষী সরজমিন আলু রাখার পদ্ধতি দেখে ব্যাপক ভাবে সাড়া দিয়েছেন । তারা দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে আলু সংরক্ষন করার ব্যাাপারে উৎসাহ প্রকাশ করেছে। কৃষি বিজ্ঞানীরা বলেছেন এ প্রযুক্তি কৃষকদের আলূ চাষে আরো উদ্বুদ্ধ করবে।

দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে আলু সংরক্ষনকারী জগদীশ পুর গ্রামের দুই কৃষক আশরাফুজ্জামান দুলু ও আতাউর রহমান জানান, তারা বসতভিটায় ১০ ফুট বাই ১২ ফুট ঘরে ৮ টন করে আলু সংরক্ষন করে আশাতীত সাফল্য পেয়েছেন । বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও আরডিআরএস তাদের অর্থায়নে এ ঘর তৈরী করে দিয়েছে। তারা জানান প্রতি কেজি আলু সংরক্ষন করতে খরচ হযেছে মাত্র ৮৩ পয়সা । আর হিমাগারে রাখলে ব্যায় হতো প্রতি কেজি ৫ টাকা । এ ছাড়াও নিজেরাই এ পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষন করলে যখন ইচ্ছা বিক্রি করা যায়।

মাঠ দিবসে আসা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের কর্মকর্তা কৃষি বিশেষজ্ঞ আলী আযম জানান, প্রতি বছর রংপুরেই বিপুল পরিমান আলু সংরক্ষনের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এ পদ্ধতির মাধ্যমে আলু সংরক্ষন করলে কৃষকরা লাভবান হবে বলে তিনি মনে করেন।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএসের হেড অব এগ্রিকালচার মামুনুর রশীদ জানান, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যান তত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আজিজুল হকের সরাসরি তত্বাবধানে বসতভিটায় আলু সংরক্ষন করার জন্য এ বছর ৮ জন কৃষককে আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ঘর নির্মান করে দেয়া হয়েছে। এবার আলু সংরক্ষরন করে কৃষকরা সাফল্য পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে আলু সংরক্ষনে আরো উৎসাহিত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন ।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful