Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০ :: ৪ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১০ : ০৬ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / উত্তরাঞ্চলে ইফতারসামগ্রীতে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ

উত্তরাঞ্চলে ইফতারসামগ্রীতে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ

iftarস্টাফ রিপোর্টার: উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় চলমান মাহে রমজানে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ফাস্ট ফুডের দোকানগুলোতে ইফতারসামগ্রীতে মেশানো হচ্ছে রাসায়নিক পদার্থ ও রং। এতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন ধর্মপ্রাণ রোজাদাররা। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট ফতরের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এই অঞ্চলে ইফতারের জন্য অপরিহার্য পাঁচটি সামগ্রী ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, মুড়ি ও জিলাপিতে নানাভাবে ভেজাল মেশাচ্ছে।
মুড়ি আকারে বড় ও সাদা করতে ব্যবহৃত হচ্ছে ট্যানারির বিষাক্ত রাসায়নিক সোডিয়াম হাইড্রো সালফাইড। এই রাসায়নিক পদার্থটি কাপড়ের মিলে সাদা রং করতে ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে বেগুনি, পেঁয়াজু, চপ ও জিলাপিতে ব্যবহার করা হচ্ছে কাপড়ে ব্যবহৃত রং বা ট্রেটাইল কালার। কম খরচে বেশি লাভের আশায় অসাধু বিক্রেতারা কাপড়ে ব্যবহারের রং ইফতারসামগ্রীতে ব্যবহার করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারণ এক কেজি ট্রেটাইল কালারের বর্তমান বাজার মূল্য ৩০০ টাকা। সেখানে এক কেজি ফুড কালারের মূল্য প্রায় দুই হাজার টাকা। মিষ্টিজাতীয় দ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ভেজাল চিনি। এর রাসায়নিক নাম সোডিয়াম সাইক্লামেট।
মিষ্টিজাতীয় দ্রব্যকে অধিকতর মিষ্টি করতে ব্যবহৃত হচ্ছে স্যাকারিন, সুকরালেস ইত্যাদি। মিষ্টিকে বিভিন্ন রং দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রেটাইল কালার। মসলায় ভেজাল আরো বেশি। বেসনের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে আটা। আটায় হলুদ রং ব্যবহার করায় তা বেসনের রং ধারণ করছে।
এছাড়া রসনা বিলাসের চাহিদা মিটাতে আরো কিছু আইটেম থাকে। তাতে ভেজালও থাকে সমপরিমাণে। হালিমে মাংসের দেখা মেলে খুব কম। এতে মেশানো হচ্ছে আগের দিনের অবিক্রীত ডাল ও মাংসের উচ্ছিষ্ট। ইফতারে ফল কিংবা ফলের জুস রোজাদারদের খুব পছন্দ। কিন্তু বাজারের প্রায় সব ধরনের ফলে মেশানো হয় রাসায়নিক দ্রব্য।
এদিকে ভেজালসামগ্রী থেকে রোজাদারদের উদ্ধার করতে ঘোষণা দিয়ে রংপুর মহানগরীতে নেমেছে চেম্বার অব কমার্স অব ইন্ডাস্ট্রিজ। তারা প্রথম রমজান থেকেই রংপুর মহানগরীর নয়টি হোটেল রেস্তোরাঁকে ভেজালমুক্ত ঘোষণা দিয়ে সিল করে ভেজালমুক্ত ইফতারসামগ্রী বিক্রি করছে। এজন্য এসব দোকানে চেম্বারের সনদ, কারিগরদের গ্লোবসসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। রংপুর চেম্বারের এই উদ্যোগই প্রমাণ করে উত্তরাঞ্চলে ভেজাল ইফতারসামগ্রী বিক্রির ভয়াবহতা কতটুকু হতে পারে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. গোলাম মোস্তফা জানান, ইফতারসামগ্রী পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা, হালিম, চপ, জিলাপি, খেজুর, মৌসুমি ফল, এমনকি মুড়িতেও কোনো না কোনোভাবে ভেজাল সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে।
এসব খাবারে উপস্থিত ক্ষতিকর কার্সিনোজেনিক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ স্বল্পমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ। যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে সৃষ্টি করছে রোগ, তাছাড়া বিষক্রিয়াসহ লিভার ও অন্ত্রে প্রদাহ এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারও হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই রোজায় রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলা এবং ১৪০টি উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সরকারি-বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ডায়রিয়া আমাশয়সহ ভেজাল খাদ্যজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রমজানের শুরু থেকেই রংপুর, ঠাকুরগাঁও রাজশাহীসহ বিভিন্ন উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ভেজালবিরোধী অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশের অভিযান চলছে। সীমিত আকারে জব্দকৃত ভেজাল খাদ্য ও মালিকদের জরিমানাও করা হচ্ছে। কিন্তু বাজার মনিটরিং কর্তৃপক্ষের এ জরিমানা কম ও অনিয়মিত হওয়ায় ভেজাল ইফতারসামগ্রীর বিক্রেতারা কাউকেই গা করছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারিভাবে প্রতি জেলা ও উপজেলায় স্যানিটারি ইনস্পপেক্টর থাকলেও তারা হোটেল রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে মোটা টাকার বিনিময়ে আঁতাত করায় মাঠে ভেজালবিরোধী অভিযান তেমন একটা দেখা যায় না।
বারবার অভিযোগ দেয়ার পর ভেজালবিরোধী অভিযানে নামলে হালকা জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা করায় দোকানিরা এ বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামান না। ফলে ভেজাল ইফতারসামগ্রীতে ছেয়ে গেছে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অলিগলি।
এ ব্যপারে রংপুর স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, “রংপুরে আমার সঙ্গে কোনো দোকানিরই আঁতাত নেই। নিজস্ব অনুসন্ধান এবং অভিযোগ পেলেই হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে বিধিসম্মতভাবে অভিযান, জরিমনা এবং শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। প্রয়োজনের তুলনায় লোকবল কম থাকায় অনেক সময় অভিযান পরিচালনায় বেগ পেতে হয়।”
এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার দেলোয়ার বখত জানান, কোনো ভেজাল খাদ্যসমাগ্রী যাতে ইফতারে সরবরাহ না করা হয়, সেজন্য কড়া দৃষ্টি আছে প্রশাসনের। এ বিষয়ে কোনো দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা যদি কোনো অনিয়ম করার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful