Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৪ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১ : ৫৫ অপরাহ্ন
Home / গাইবান্ধা / গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অতিদরিদ্র মানুষের খাদ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে ফুড ব্যাংক

গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অতিদরিদ্র মানুষের খাদ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে ফুড ব্যাংক

খায়রুল ইসলাম, ২৭ জুলাই, উত্তরবাংলা ডটকম: গাইবান্ধা জেলার যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের অত্যান্ত একটি চর অধ্যুষিত গ্রাম গলনা আদর্শ পাড়া। এই গ্রামের ১৪১টি পরিবারের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭৫০ জন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এই পরিবারগুলো নিজস্ব কোন জায়গা জমি নেই। এরা ভূমিহীন ছিন্নমুল আর পেশায় সবাই দিনমজুর। এরা ভূমিহীন হিসেবে সরকার কর্তৃক স্থাপিত আদর্শ গ্রামে বসবাস করছে।

স্বল্প আয়ের উপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে আবার যেদিন কোন কাজ থাকে না সেদিন অধিকাংশ পরিবারকেই অর্ধাহার-অনাহারে দিনাতিপাত করতে হয়। তাই চরাঞ্চলের চিরায়ত অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। এমন এক কষ্টকর দু:সময়ে এই পরিবারগুলোর খাদ্য সংকট নিরসন করে আত্মনির্ভর করে গড়ে তুলতে এগিয়ে আসে গাইবান্ধার অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এসকেএস ফাউন্ডেশন। অক্সফ্যাম এর অর্থায়নে ২০১২ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি রি-কল প্রকল্পের আওতায় গলনা আদর্শ পাড়া গ্রামে কাজ শুরু করে। কাজের শুরুতেই তারা চিরায়ত অভাবগ্রস্ত এই পরিবারগুলোকে নিয়ে সমাজ ভিত্তিক সংগঠন নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। সংগঠনটি কার্যক্রমের শুরতেই উপলদ্ধি করে যে ওই গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের মূল সমস্যা হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা। এজন্য এই বিষয়টির উপরে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরিলতি হয় বিশেষ করে বিধবা,স্বামী পরিত্যাক্তা ও তালাক প্রাপ্তা এবং যাদের স্বামী ২ থেকে ৩ মাসের জন্য বাইরে কাজ করতে যায় তাদেরই সমস্যাটা সবচাইতে বেশি। সে কারণে ওই পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গ্রামবাসীদের উদ্বুদ্ধ করে প্রথমে সঞ্চয় জমা করতে তাদের আগ্রহী করে তোলা হয়। এভাবে ২৫ জন সদস্য সঞ্চয় কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে আরও সদস্য সঞ্চয় কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়। বর্তমানে সংগঠনটিতে ৭৫ জন সদস্য সঞ্চয় কার্যক্রম এর সাথে যুক্ত হয়েছে। ব্যাংকে জমাকৃত তাদের নিজস্ব সঞ্চয়কৃত অর্থের পরিমাণ এখন ৪০ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে গেছে। পরে ওই টাকা থেকে অতিদরিদ্র পরিবারগুলো তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লে একটি ‘ফুড ব্যাংক’ তৈরী করে। ফুড ব্যাংকটি পরিচালনার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট্য একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি মনোনীত করা হয়। পরবর্তীতে এসকেএস রি-কল প্রকল্প খাদ্যনিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার জন্য উক্ত সংগঠনকে এককালীণ ২৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। ওই টাকা দিয়ে ফুড ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কমিটি চাউল-ডাল ক্রয় করে। এমনকি সদস্যরা তাদের উৎপাদিত পণ্য যেমন ধান, মরিচ, ডাল ওই ব্যাংকে জমা করে থাকেন।
তাদের গড়ে তোলা এই ফুড ব্যাংক থেকে অতিদরিদ্র্র পরিবারগুলো যখনই খাদ্য সংকটে পড়ছে তখনই সেখান থেকে প্রয়োজন মত খাদ্য সামগ্রী গ্রহন করতে পারছেন। আবার নির্ধারিত সময়েও তা ফেরতও দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত তাদের ফুড ব্যাংক থেকে ৩৭টি অতিদরিদ্র পরিবার খাদ্য সামগ্রী গ্রহন করে খাদ্য সংকট মোকাবেলা করতে সম হয়েছেন। অতিদরিদ্র পরিবারের একজন সদস্য ইমান আলীর স্ত্রী ওবিরন নেছা বলেন “কয়দিন আগেও ঘরে চাউল ছিলনা, ছেলে মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকছি। কিন্তু আজ আমাদের ফুড ব্যাংক হওয়ায় প্রয়োজনে এখান থেকে চাউল নিচ্ছি আবার তা ফেরতও দিচ্ছি। ফলে এখন আর অর্ধাহারে-অনাহারে বা না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে না। ফুড ব্যাংক পরিচালনা কমিটির সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন “আমরা নিজেরাই যে নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবো সে ধারনা ছিলনা। এসকেএস রি-কল প্রকল্প আমাদের তা শিখিয়েছে”।

উলেখ্য গলনা আদর্শপাড়া সমাজ ভিত্তিক সংগঠনের ফুড ব্যাংকের কার্যক্রম দেখে উৎসাহিত হয়ে পার্শ্ববর্তী ফুলছড়ি ও গজারিয়া ইউনিয়নের আরো ৭ টি গ্রামে গ্রাম ভিত্তিক সংগঠন ফুড ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করেছে। ফুড ব্যাংক কার্যক্রমের মাধমে ওইসব গ্রামের সংগঠনগুলি প্রায় ৩শ টি অতিদরিদ্র পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম হয়েছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful