Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ :: ১০ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১ : ২৬ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / ‘শেষ পর্যন্ত একটা লাশই আমাকে বাঁচিয়ে দিল’

‘শেষ পর্যন্ত একটা লাশই আমাকে বাঁচিয়ে দিল’

Nilphamari Pic Tuhin 28.07.2013সেন্ট্রাল ডেস্ক: জ্ঞান ফিরলে দেখি জিঞ্জির দিয়ে হাত-পা বাঁধা। চোখও বাঁধা। পরনে কাপড় নেই। উলঙ্গ করে ফেলে রেখেছিল মাটির ঘরের দোতলায়। রাত যায়। দিন যায়। সময় যায়। কেউ কিছু খেতে দেয় না। অনাহারে আর পানির পিপাসায় বুক ফেটে যাচ্ছিল। পানি চাইলে লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে পেটাত। রামদা হাতে বুকে চড়ে কোপ মারতে চাইত। মেরে ফেলে দিতে চাইত। এভাবে সাত দিন ধরে দুর্বিষহ যন্ত্রণায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছি। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে এই বুঝি দম ফুরিয়ে গেল। মরা লাশ হয়ে গেলাম বুঝি। শেষ পর্যন্ত একটা মরা লাশই আমাকে বাঁচিয়ে দিল।’

আজ বৃহস্পতিবার বগুড়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম। অপহরণের সাত দিন পর গতকাল বুধবার সিরাজগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁকে।
পুলিশ সুপারের কক্ষে বসে সাত দিনের বন্দিদশা এবং অমানুষিক যন্ত্রণার বর্ণনা দেন তিনি। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নীলফামারীর ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, গত ২৪ জুলাই একটি হারানো মোটরসাইকেলের খোঁজে সঙ্গী প্রতিরাম চন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বগুড়ায় যান। অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা জোবাইদুল মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে দিতে বগুড়ায় যেতে বলেন তাঁকে। ওই দিন বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের সামনে জোবাইদুলের সঙ্গে ইফতার করেন তাঁরা। সেখান থেকে বনানীতে গিয়ে জোবাইদুল শফিকুল ইসলামকে ফলের শরবত পান করতে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন শফিকুল। পরদিন জ্ঞান ফিরলে দেখেন হাত জিঞ্জির এবং পা দড়ি দিয়ে বাঁধা। মুখও বাঁধা। এরপর শুরু হয় নির্যাতন। এভাবে সাত দিন কেটেছে অনাহারে, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে।
শফিকুল ইসলামের কাছে তিন কোটি টাকা চায় অপহরণকারীরা। গত ৩০ জুলাই অপহরণকারীরা সারা রাত তাঁকে ধান খেত দিয়ে, মাঠের পর মাঠ হাঁটিয়ে নিয়ে যায়। ভোরের দিকে মাঠের কাছে কবরস্থানের পাশে একটি ভাঙা মাটির ঘরে বেঁধে রাখে। সেখানে একজনের জানাজা শেষে লোকজন দেখে চিত্কার করেন শফিকুল ইসলাম। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন। আটক করে খালেক, বক্কর ও ফরিদ নামের তিনজন অপহরণকারীকে।
এদিকে আজ একই আদালতে অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আটক আসামি ফরিদ আলী, আবু বক্কার সিদ্দিক, আবদুল খালেক, আসাদুল ইসলাম ও সলিম হোসেন।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘তাঁর বর্ণনা লোহমর্ষক, ভয়ংকর ও কষ্টের। তবে মুক্তিপণ আদায় তাঁদের আসল উদ্দেশ্য থাকায় তাঁরা তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলেনি। র্যাব-পুলিশ তত্পর না হলে মুক্তিপণ আদায়ের পাশাপাশি তাঁরা অন্য কিছুও করে বসত।’

বগুড়া থেকে অপহরণের সাত দিন পর নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম (তুহিন) ও তাঁর সঙ্গী প্রতিরাম চন্দ্র রায়কে গতকাল বুধবার সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও র্যাব সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করেছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful