Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৬ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ৪৯ পুর্বাহ্ন
Home / লালমনিরহাট / পাটগ্রামে ধর্ষণের শিকার এক পরিবারকে ফতোয়া দিয়ে একঘরে করেছ মাতবররা

পাটগ্রামে ধর্ষণের শিকার এক পরিবারকে ফতোয়া দিয়ে একঘরে করেছ মাতবররা

Evetrisingসাফিউল ইসলাম সাফি, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংরা ইউনিয়নের ককোয়াবাড়ি এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয় প্রতিবেশীর লম্পট ছেলে মফিজুলের কাছে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি এলাকাবাসীর কাছে বিচার চাইলে উল্টো নির্যাতিত ঐ ছাত্রী এবং তার পরিবারকে ফতোয়া দিয়ে এক ঘরে করে রেখেছে এলাকার কতিপয় মাতবররা।
সরজমিনে গিয়ে জানাগেছে, ককোয়াবাড়ি এলাকার সৈয়দ আলীর ছেলে মফিজুল(২৪) প্রতিবেশী হত-দরিদ্র বুদ্ধি-প্রতিবন্ধীর এক সপ্তম শ্রেণী পড়–য়া সাথে দীর্ঘদিন প্রেমের অভিনয় করে। এক সময় মফিজুল ঐ ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলে। ফলশ্রুতিতে মেয়েটি গর্ভ ধারণ করে। মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে মা গর্ভের আলামত পেয়ে মেয়েকে শাসালে মফিজুলের দ্বারা যৌন নির্যাতনের বিষয়টি মেয়ে মাকে খুলে বলে।
ধর্ষণের শিকার ঐ মেয়ের সাথে কথাবলে যানাযায়, দের-বছর আগে প্রতিবেশী সৈয়দ আলী বাড়িতে বেড়াতে গেলে তার ছেলে মফিজুল তাকে একা পেয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর সে বিষয় বাড়িতে বলতে চাইলে মফিজুল তাকে হাতজোড় করে মিনতি করে এবং তাকে বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি“তি দেয়। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর পর মফিজুল নানা ভারে বিভিন্ন সময় মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।
এরপর মেয়েটির নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসার জন্য ডাক্তার দেখালে ডাক্তার তাকে ৫২ দিনের অন্ত:সত্ত্বা বলে রিপোর্ট দেয়। বিষয়টি মফিজুলের পিতা এবং মফিজুলকে জানালে তারা গর্ভপাত ঘটানোর জন্য ছাত্রীটির পরিবারকে চাপ দেয় এবং গর্ভপাত ঘটালে মফিজুলের সাথে মেয়ের বিয়ে দিবেন বলে তার পিতা সৈয়দ আলী প্রতিশ্রুতি“তি দেয়। প্রতিশ্রুতি“তি অনুযায়ী স্থানীয় ডাক্তার গোলজার রহমানের সাহায্যে মেয়েটির গর্ভপাত ঘটানো হয়। এ সময় গর্ভপাতের সমস্ত খরচের টাকা মফিজুলের পিতা বিকাশ করে রংপুরে মেয়ের কাছে পাঠায় বলে মেয়েটির পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু গর্ভপাতের পর মফিজুল এবং তার পরিবার এই যৌন সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে ।
বিষটি এলাকায় জানাজানি হলে জোংরা ইউ পির ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আজিজুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য হাজের আলী, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি রবিউল ইসলাম রব্বু, গোলজার ডাক্তার ও এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মফিজুলের বাড়ির উঠানে শালিস বস। এ শালিসে মফিজুল তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা অস্বীকার করে এবং শালিস বৈঠককে উপেক্ষা করে উল্টো মেয়ের পরিবারকে বিষয়টি চেপে যাওয়ার কথা বলে হুমকি দেয়। এতে অসহায় হয়ে পরে মেয়েটির পরিবার। তবে এ ঘটনায় অপরাধীকে বাগিয়ে আনতে না পারলেও ঐ এলাকার মসজিদের সভাপতি ছকমল হোসেন ও ইমাম বজলে মুন্সি কতিপয় মুসল্লির যোগসাজশে মেয়েটিকে এবং মেয়েটির পরিবারকে একঘরে করার ফতোয়া দেয়।
এ বিষয়ে মসজিদের সভাপতি ছকমল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি একঘরে করার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বলেন, অবৈধ কাজ করেছে তাই সমাজ তাকে একঘরে করেছে । এটা ইসলামের আইন।
এবিষয়ে মফিজুলের ও তার পরিবারের কারো সাথে কথা বলতে চাইলে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয় নি। এলাকাবাসী জানায়, সাংবাদিক আসার খবর শুনে পরিবারের সবাই বাড়ির বাহিরে সরে গেছে।
এনিয়ে ধর্ষিতার মায়ের সাথে কথা বললে তিনি কাঁদতে কাঁদতে জানান আমাদের বয়কট করেছে এখন আমাদের কেউ কাজে নেয় না কারো বাড়ি যেতে দেয় না। বর্তমানে তারা কাজ না পেয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে বলে তিনি জানান।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful