Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০ :: ৫ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ৩৭ অপরাহ্ন
Home / বিনোদন / লাইট, ক্যামেরা, ন্যুট

লাইট, ক্যামেরা, ন্যুট

কলকাতা: প্রায় নগ্ন দৃশ্য৷ বাংলা ছবিতে৷ কদাচিত্‍৷ তবু হয়৷ হলও এ-হপ্তায়৷ বাঙালি নায়িকা, ইউনিট, পরিচালক – ট্যাবু কাটিয়ে, নিষিদ্ধ নারীত্বক দর্শনের চাহিদা এড়িয়ে কী ভাবে হয় সেই দৃশ্যের শ্যুটিং? দেখে এলেন ইন্ডিয়া টাইমসের সাংবাদিক ভাস্বতী ঘোষ। লিখেছেন তার বর্ণনা। সেটিই তুলে দেয়া হলো পাঠকদের জন্য।

image_6960যেভাবে নায়িকা ধরা দেন: সুব্রত সেনের নতুন ছবি৷ সে ছবিতে ‘ছত্রাক’-এর নায়িকা আছেন৷ পাওলি দাম৷ কিন্ত্ত তাঁর শরীর কোথাও নগ্ন নয়৷ বরং ছবির একটি দৃশ্যে যে নায়িকার ন্যুড পেইন্টিং করবেন ছবির নায়ক রোহিত রায়, তিনি মালবিকা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ছবিতে সেই দৃশ্যের দৈর্ঘ্য কতই বা? কিন্ত্ত দর্শকমনে দৃশ্যপ্রভাব যাতে চিরস্থায়ী হয়, তার জন্য শৃঙ্গার পর্ব বিরাট৷

উন্মুক্ত ত্বক৷ তাকে উজ্জ্বল করে তোলার দায়িত্ব মেকআপ আর্টিস্টের৷ বেস মেকআপের পরত পড়ে, ভিজে টিস্যু তা তুলেও দেয়৷ তারপর ময়শ্চারাইজার৷ শ্যুটিং ফ্লোরে আলোর খেলায় এই ময়শ্চারাইজারের ওপর ওয়াটার স্প্রে৷ এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে ত্বকের লাবণ্যের প্রাণভোমরা৷ আর অলঙ্কার? তারই বা প্রয়োজনীয়তা কী? ছবির স্টাইলিং করছেন শুচিস্মিতা দাশগুপ্ত৷ বলছেন, ‘নারী দেহে কিছু নেই, শুনলে উত্তেজনা হতে পারে৷ কিন্ত্ত দেখলে বোঝা যায়, নগ্ন নারী শরীরের ওপর খেলে যাওয়া শাড়ির পাড় বা সোনার গয়না, সিঁদুর জলে লাল টিপ, নগ্ন শরীরকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে৷ সেক্স অ্যাপিল তখন অ্যাট ইটস বেস্ট৷’

আর নায়িকা? নারীশরীর রুপোলি পর্দায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, যখন মনের দিকে থেকে আত্মবিশ্বাসের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছন নায়িকা৷ মালবিকা বলছেন, ‘মন থেকে নায়িকারা জানেন, এমন দৃশ্যে কোনও অশ্লীলতা নেই৷ আছে সৌন্দর্য৷ কিন্ত্ত সেই দৃশ্যের জন্য প্রস্ত্তত হয়ে যখন আলোর সামনে মেলে দিই শরীর, নিজেকে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রাখতে হয়৷ যাবতীয় সঙ্কোচকেও দমিয়ে ফেলতে হয় মুহূর্তে৷ কাজটা সহজ নয়৷’ যাবতীয় সঙ্কোচের ঊর্ধ্বে সত্যিই কি উঠতে পারে নারী শরীর? মালবিকা বলছেন, ‘প্রথমেই মাথায় আসে, আমার বাবা-মা-ও নিশ্চয়ই এ দৃশ্য দেখবেন৷ ভাবলে লজ্জা লাগে৷ তখনই মনকে বলতে হয়, যেমনভাবে রুপোলি পর্দায় ধরা দেবে আমার শরীর, সেখানে কোনও অশ্লীলতা নেই, সৌন্দর্য আছে৷ সৌন্দর্যকে মানুষ পুজোই করেন৷’

নায়িকা ক্যামেরাবন্দি হন যেভাবে: শিল্পী ভবতোষ সূতার-এর আর্ট স্টুডিও৷ সেখানেই কয়েক ঘণ্টার প্রয়াসে নায়কের ক্যানভাসে ফুটে উঠল এক নায়িকার নগ্ন শরীর৷ রুপোলি পর্দায় যা একটি দৃশ্য৷ এমন শ্যুটে আলোর খেলাই প্রধান, নারী শরীরকে আকর্ষণীয় করে তোলার অনুঘটক৷ পরিচালক বলছেন, ‘এমন পোট্রেট রেমব্রাঁ আলোয় আঁকা হয় অনেক সময়ই৷ আমার ছবির এই দৃশ্যে সেরকমই একটা ধাঁচ, একটা প্রচেষ্টা রইল৷’ কিন্ত্ত ছবির নায়ক কি সত্যিই তুলির টানে ফুটিয়ে তুলতে পারেন নায়িকার শরীর? না৷ পারেন না৷ সেখানেই টুকরো চালাকি লুকিয়ে থাকে৷ আসলে কোনও শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় আর নায়কের মুখভঙ্গিতে তৈরি হয় দৃশ্য৷ শ্যুটিংয়ে মালবিকা হেলান দিলেন কাউচে, তার দেহ স্থির হল৷ শরীরের খুঁটিনাটি দেখে নেওয়ার পরই ডাক পড়ল চিত্রশিল্পী সুমন কবিরাজের৷ এরপর তিনি ছবিটির বেসিক স্কেচ তৈরি করলেন৷ নায়ক এসে সেই স্কেচের ওপর হাত রাখলেন৷ মনে হল স্কেচটি তৈরি করছেন তিনি৷ তারপর নায়ক ধরলেন তুলি আলতো করে ক্যানভাসের ওপর৷ এরপর আবার সুমনের তুলিতে রং পড়ল ক্যানভাসে৷ মনে হল নায়ক রং লাগাচ্ছেন নায়িকার চিত্রশরীরে৷

এবং ইউনিটের বাকিরা: ছবির প্রি-প্রোডাকশনে স্থির হয়ে যায়, কোনদিন কোন দৃশ্যের শ্যুটিং৷ কিন্ত্ত কোনদিন ন্যুড সিনের শ্যুট রয়েছে, সে কথা আগাম জানেন নায়িকা৷ তাঁর তরফে প্রস্ত্ততি থাকে বিস্তারিত৷ আর জানেন পরিচালক, পরিচালকের প্রধান সহযোগীরা৷ ইউনিটের প্রধান সদস্যরা ছাড়া আর কেউ সে কথা জানুক, চান না পরিচালক৷ কিন্ত্ত এমন কোনও দৃশ্য শ্যুট হবে, সে কথা ইউনিটের সকলে জানেন অন্তত দিন চারেক আগে৷ তাঁদের চোখ-মুখ বলে দেয় একবার হলেও ঢুঁ মারবেন স্পটে, এই দৃশ্যটা শেষ পর্যন্ত কী হল দেখার জন্য৷ এরপর আসে সেই দিন৷ পরিচালক বলেন, ‘এবার ওই সিনটা শ্যুট করব তো৷ মালবিকাকে রেডি করে দে৷’ এই সময় শ্যুটিং ইউনিটে অদ্ভুত একটা গুজগুজ-ফুসফুস৷ পরিচালক বলেন, ‘আলো করে সকলে নেমে আসুক৷ আর উঠবে না৷’ মানে শ্যুটিং জোনে আর কারও প্রবেশ নিষেধ৷ সিনেমাটোগ্রাফার, তাঁর যে সহকারীকে ছাড়া শ্যুটিং হবে না, এবং পরিচালনা-টিমের এক-দু’জনই উপস্থিত থাকবেন৷ আর পরিচালক? বলছেন, ‘আমার মনে হল, আমি না থাকলে মালবিকা কমফর্টেবল হবে৷ শটটা ডিজাইন করে দিয়ে বেরিয়ে এলাম৷ কারণ সাজ, আলো, ফ্রেম আমার দেখা হয়ে গিয়েছিল৷ অনেক পরিচালক থাকতেই পারেন৷ কারণ নায়িকারা বোঝেন পরিচালক তাঁকে সবসময় কমফর্ট জোন তৈরি করে দিতে চেষ্টা করছেন৷’

এরপরই অ্যাকশন৷ বাইরে তখন ভিড়৷ বন্ধ দরজা৷ বাইরে থেকে কিছুই আঁচ করার উপায় নেই৷ কিন্ত্ত দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আলোচনা চলতে থাকে, ভেতরে ঠিক কী হচ্ছে৷ আর ভেতরে? সেখানে দৃশ্য ফ্রেমবন্দি হওয়ার পালা৷ মালবিকা বলছেন, ‘ইউনিট যতই ছোট হোক, এমন দৃশ্যের জন্য এদিক-ওদিক দিয়ে ঢুকে পড়তে চান অনেকেই৷ নায়িকারা কিন্ত্ত বুঝতে পারেন, কে এখানে প্রয়োজনে আছেন, কে অন্য মতলবে৷ তাঁদের দেখে একটু রাগ হয়৷’

সত্যি কথাই৷ এমন দৃশ্যে মেঝে মুছতে এলেন যিনি, তাঁর কাজে মন বসল কি? এমনই আরও কত টুকরো কৌতুহল, মনের ছাপ মুখে৷ আর সবকিছুর শেষে ক্লাইম্যাক্স৷ দৃশ্য শেষ৷ নায়িকা সাধারণ পোশাকে৷ বেরোলেন ফ্লোর ছেড়ে৷ তখনও দরজার বাইরে ভিড়৷ কারও চোখে যেন পলক পড়ে না৷ সোজা তাকিয়ে নায়িকার শরীরে৷ নায়িকা পাত্তা দিলেন না৷ হেঁটে চলে গেলেন৷ নায়িকাকে পোশাকাবৃত অবস্থায় দেখেও, বাকিদের মুখ দেখে বোঝা গেল তাঁরা কল্পনা করছেন নগ্ন শরীর৷ সামান্য শিহরণ বিলাস?

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful