Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০ :: ৬ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ২২ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / অবশেষে চালু হচ্ছে চিলাহাটি স্থল বন্দর ও শুল্ক ষ্টেশন

অবশেষে চালু হচ্ছে চিলাহাটি স্থল বন্দর ও শুল্ক ষ্টেশন

1.Photo Nilphamari 13.08.2013নজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী ১৩আগষ্ট॥ দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার হলদীবাড়ির সাথে উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক চেক পয়েন্ট অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে। এ খবর মঙ্গলবার জেলায় ছড়িয়ে পড়লে প্রাণের দাবি বাস্তবায়নে জেলা বাসীর মাঝে আনন্দ উৎচ্ছাস জেগে উঠে। বিতরন করা হয় মিষ্টি।চলতি বছরের ৭ সেপ্টেম্বর এটির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

রংপুর বিভাগের সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আখতার হোসেন বাদল নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এর বরাদ দিয়ে জানান মঙ্গলবার সেলফোনের মাধ্যমে মন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদনের পর গ্রেজেট করা হয়েছে।

অপর দিকে নীলফামারী ১ ( ডোমার-ডিমলা) আসনের মহাজোট সরকারের সংসদ সদস্য জাফর ইকবাল সিদ্দিকী চিলাহাটি স্থলবন্দর ও শুল্ক ষ্টেশন আগামী ৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রধান মন্ত্রী অথবা নৌ পরিবহন মন্ত্রী কতৃক উদ্ধোধন করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।

এদিকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সেলফোনে জানান, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে স্থলবন্দর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর উদ্ধোধন করা হবে কুড়িগ্রাম জেলার সোনাহাট ও নীলফামারী জেলার চিলাহাটি। নীলফামারীর চিলাহাটি শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণার ল্েয ওই স্টেশনটি কার্যকর করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশে বর্তমানে ১৭টি স্থলবন্দর রয়েছে। আর শুল্ক স্টেশন রয়েছে ১৭৯টি। ১৭টি স্থলবন্দরের মধ্যে মূলত সাতটি স্থলবন্দর সচল। বাকি স্থলবন্দরগুলোতে আমদানি-রফতানি কম। দর্শনা স্থলবন্দর বন্ধ হয়ে চালু রয়েছে শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম । মন্ত্রী বলেন নীলফামারী জেলার চিলাহাটিতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই একটি চেকপোস্ট চালু ছিলো। বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০২ সালে চেকপোস্টটি বন্ধ হয়ে যায়। ভারতীয় অংশে এলসি স্টেশন বা চিলাহাটি শুল্ক স্টেশনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ভারতীয় অংশে ইমিগ্রেশন ও এলসি স্টেশন স্থাপনে ভারত মতামত দিয়েছে। চিলাহাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যান্ত ভালো।
মন্ত্রী বলেন, আমি ২০১১ সালের ১৯ জুন চিলাহাটি পরিদর্শন করে স্থল বন্দর ও শুল্ক ষ্টেশন চালু করা হবে মর্মে জনসভা করেছিলাম। যা আজ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক এস এম মাহফুজুর রহমান জানান, চিলাহাটি স্থল বন্দর ও শুল্ক ষ্টেশন আগামী ৭ সেপ্টম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধনের মাধ্যমে চালু করা হবে বলে জানতে পেরেছি।
নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ সরকার বলেন, এ খবরে মিষ্টি বিতরন করে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান কে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন স্থলবন্দরটি চালু হলে এ অঞ্চলের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে গতি ফিরে পাবে উত্তরা ইপিজেডের। তাছাড়া আমদানি-রফকানির বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের প্রচুর রাজস্ব আয় বাড়বে মনে করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এ স্থলবন্দরটি আবার চালু হলে ভারত, নেপাল, ভুটান চীনসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের সাথে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দারির্দ্য পীড়িত এ অঞ্চলের আর্থসামজিক অবস্থার উন্নতি হবে। স্থলবন্দর বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার ছিল এলাকাবাসী।
২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর নীলফামারী স্থব্ধ কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। সেদিনের সেই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলো সারা জেলার লাখো মানুষ। ১৫ মিনিটের জন্য থমকে গিয়েছিলো পুরো জেলা।
চিলাহাটী স্থল বন্দর বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আবু মুসা মাহমুদুল হক প্রধানমন্ত্রী ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমরা চিলাহাটি স্থলবন্দর বাস্তবায়নের দাবিতে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। যা আজ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এতে উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি চিলাহাটি স্থলবন্দরটি আবার চালু হলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মর্সস্থান হবে কয়েক লাখ মানুষের। সুবিধা বঞ্চিত এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

উল্লেখ যে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু ছিল ১৯৬০ সালে। নিয়মিত পণ্য আমদানী-রফতানির পাশাপাশি ১৯৫৩ সালে এখানে স্থাপন করা হয় একটি আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট। কিন্তু ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় শুধুমাত্র চেকপোস্টটি চালু রেখে বন্ধ করে দেয়া হয় স্থলবন্দরটি।
২০০২ সালের ২৬ জুন অজানা কারণে সেই চেকপোস্টটিও বন্ধ করে দেয় তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। অনেক নাটকিয়তার পর ২০১১ সালে এ স্থলবন্দরটি আবার চালুর ঘোষণা দেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। সে বছরের ১৯ জুন চিলাহাটি সফর করে স্থলবন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাই করে এক জনসভায় স্থলবন্দর চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে ভারত-বাংলাদেশ রেল কর্তৃপরে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৯৭ সালে চিলাহাটী থেকে ভারতের হলদিবাড়ী পর্যন্ত রেলপথ পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। বাংলাদেশ অংশে আট দশমিক ১০ কিলোমিটার রেল লাইন স্থাপনের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও ১৬ বছরেও পাওয়া যায়নি সে অর্থ। অনেকদিন বন্ধ থাকা এ স্থলবন্দরটি পুনরায় চালুর ঘোষণায় আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এ অঞ্চলের মানুষ।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful