Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০ :: ৯ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৬ : ০৩ অপরাহ্ন
Home / কুড়িগ্রাম / রাজীবপুরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ৪ পরিবারে থামেনি শোকের মাতম

রাজীবপুরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ৪ পরিবারে থামেনি শোকের মাতম

নিজের স্ত্রীকে হারিয়ে দিনমজুর আজাদ হোসেন ৪ সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে, (পাশে) স্বামী আনিচুর রহমানের লাশ পর্যন্ত পায়নি

নিজের স্ত্রীকে হারিয়ে দিনমজুর আজাদ হোসেন ৪ সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে, (পাশে) স্বামী আনিচুর রহমানের লাশ পর্যন্ত পায়নি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার বড়বেড় চরে ব্রহ্মপুত্র নদে যাত্রিবাহী এক খেয়ার নৌকা ডুবির দুই লাশ উদ্ধার হলেও গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত (১৩ আগস্ট) আরও ৪ জন নিখোঁজ রয়েছে। ঈদের আগের দিন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওই নৌকা ডুবির ঘটনার ৬ দিন অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ ৪ জনের লাশ উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। চরের অসহায় দুস্থ ওইসব পরিবারের লোকজন তাদের স্বজনদের লাশ উদ্ধারে দিনরাত চেষ্টা করছে।
নৌকা ডুবির ৬দিন পর গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে বড়বেড় চরের নিখোঁজ পরিবারগুলোর বাড়িতে গিয়ে জানা গেছে তাদের বুকফাটা আহাজারির চিত্র। একই পরিবারের মা ও ছেলে : বড়বেড় চরের ভ্যান গাড়ি চালক সাজু আহমেদ। নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে অন্যের জমিতে থাকেন। ঈদের আগের দিন ভিজিএফ’র ১০ কেজি চালের জন্য তার স্ত্রী লিপি আক্তার (৩০) ও সন্তান সুমন মিয়া (৫) খেয়ার নৌকায় নয়াচর যাচ্ছিল। নৌকা ডুবির ঘটনার কবলে পড়ে মা ও ছেলে। সন্তান সুমনের লাশ ওই দিনই পাওয়া গেলেও স্ত্রীর লাশ এখনও পায়নি। তাদের ঘরে আর এক সন্তান আছে লিটন মিয়া (৭)। সুমনের লাশ দাফন করার পরপরই স্ত্রীর লাশের খোঁজে বের হয় সাজু আহমেদ। সংসারের আয় রোজগারের জন্য নিজের একমাত্র ভ্যান গাড়িটা বিক্রি করে ওই টাকায় নৌকা ভাড়া করে সাজু দিনরাত ছুটে চলেছে স্ত্রীর খোঁজে। কিন্তু লাশ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি। সাজু বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। চেয়ারম্যান মেম্বাররা কেউ আমগর দেহে না। ৬ দিন থিকা স্ত্রীর লাশ খুঁজতাছি। গাড়ি বেইচা যে ট্যাহা পাইছিলাম তা শ্যাষ এহন ট্যাহা পামু কনে। আমি আপনাদের কাছে আমার স্ত্রীর লাশটা চাই।’
পরিবারের একমাত্র কর্তা নিখোঁজ : বড়বেড় চরের নদীভাঙা পরিবারের কর্তা আনিচুর রহমান (৪০)। ১২ বার নদীভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব। ঈদের আগের দিন তিনি ভিজিএফ’র চালের জন্য খেয়ার নৌকায় ছিলেন। নৌকা ডুবির ঘটনার পর থেকে তার লাশ আর পাওয়া যায়নি। তার ঘরে ৩ সন্তান রয়েছে। অবুঝ ওই সন্তান বাবা’র জন্য শুধুই কাঁদছেন। ৬দিন থেকে তাদের ঘরে চুলায় রান্না হয় না। স্ত্রী মোসলেমা বেগম (৩৫) স্বামীর খোঁজে নৌকা ভাড়া করে ছোটাছুটি করছেন। তিনি বলেন, ‘দুনিয়াত আমার কেউ নাই। ছোট ছোট মাছুম বাচ্চারা তাদের বাবার জন্য খালি কান্দে। আমি মাইয়া মানুষ হইয়া আর কত জায়গায় যামু।’ স্বামীকে হারিয়ে মোসলেমা’র বুকফাটা কান্নায় চরের বাতাস ভারী হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই চাই না। খালি আমার স্বামীর লাশটা দেখতে চাই। মাছুম বাচ্চাঘরোক নিয়া এহন আমি কটাই যামু। তাগরে খাওন দিব ক্যারা।’
সন্তান হারালো মা, স্বামী হারালো স্ত্রী : দু’হাতের উপর জীবিকা নির্বাহ করা পরিবার। এ পরিবারের কর্তা দিনমজুর আজাদ হোসেন (৪৬)। তাদের ঘরে ৪ সন্তান। আজাদ হোসেনের স্ত্রী ওমেচা খাতুন (৪০) ভিজিএফ’র চাল নেওয়ার জন্য খেয়ার নৌকায় নয়াচর ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার সময় ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে যায়। কিন্তু ওমেচার লাশ এখনও উদ্ধার করা যায়নি। আজাদ হোসেন বলেন, ‘স্ত্রীর লাশের জন্য ফুলছড়ি, ইসলামপুর, বাহাদুরাবাদ ও সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নৌকায় ঘুরে এসেছি। কিন্তু কোথাও লাশ ভেসে উঠার খবর পায়নি। এহন কি করমু। ছোট ছোট বাচ্চাঘরোক নিয়া বিপদে আছি।’ তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ তাই সরকারও খোঁজ নেয় না। যদি কোনো বড়লোক চাকরিজীবী পানিতে ডুইবা যাইত তা হইলে সরকার লাশ উদ্ধারের জন্য কত কিছুই না করত। ৬দিন হইয়া গেল ৪টা লাশ এহন উদ্ধার হইল না। চেয়ারম্যান ও উপজেলার মানুষ খোঁজখবরও নিল না। আসলে আমরা এদেশের মানুষ না।’
বৃদ্ধ ফয়জার হোসেন (৭০) নিখোঁজ ওই চরের বাসিন্দা ফয়জার হোসেন (৭০)। ওই দিন খেয়ার নৌকায় তিনিও যাচ্ছিলেন ভিজিএফ’র চালের জন্য। নৌকা ডুবির পর থেকে তারও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার লাশও খুঁজে পাচ্ছে না তার সন্তানরা। তার সন্তান দেলোয়ার হোসেন (৪০) জানান, ৬দিন থেকে ব্রহ্মপুত্র খোঁজাখুঁজি করা হচ্ছে কিন্তু লাশ পাওয়া যায়নি। নদী প্রচন্ড স্রোত থাকায় লাশ ভেসে গেছে। ফয়জার হোসেন এর স্ত্রী পরিনা বেগম (৬৫) বলেন, ‘আমার স্বামীর লাশটা অন্তত দেখতে চাই।’

নিহত ও নিখোঁজ পরিবার গুলো সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরকারিভাবে পরিবার প্রতি দুই হাজার করে টাকা সাহায্য করেছে। কিন্তু নিখোঁজ উদ্ধারের জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের জন্য ইউএনও ও ডিসি স্যারকে মোবাইল ফোনে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। নয়াচর বাজারের বাসিন্দা রাজীবপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক রায়হানুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে এখনও ৪জনের লাশ পাওয়া যায়নি। সরকারিভাবে ওই লাশ উদ্ধারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’ লাশ উদ্ধার প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল লতিফ খান বলেন, ‘এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful