Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ :: ১০ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ২ : ০৬ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / বাপের বাড়ির নাইওরে নববধু; উত্তরবঙ্গের ভাদর কাটানী উৎসব শুরু

বাপের বাড়ির নাইওরে নববধু; উত্তরবঙ্গের ভাদর কাটানী উৎসব শুরু

1.Photo Nilphamario 16.08.2013ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী ১৬ আগষ্ট॥ আবহমান গ্রাম বাংলার চিরায়ত উৎসবের মত স্বামীর মঙ্গল কামনায় পহেলা ভাদ্র শুক্রবার হতে উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের আট জেলায় শুরু হয়েছে ভাদর কাটানী উৎসব। দলে দলে নববধূরা শ্বশুর বাড়ি থেকে নাউওর হিসাবে বাপের বাড়ী চলে এসেছে। তাই বাড়িতে বাড়িতে ভাদর কাটানী উৎসব চলছে। কমপক্ষে ভাদ্র মাসের প্রথম ৩ থেকে ৭ দিন বাপের বাড়িতে অবস্থান করবেন নববধু মেয়েরা।

এই এলাকার রীতি অনুযায়ী ভাদ্র মাসের প্রথম ৩/৭ দিন স্বামী নববধূর মুখ দর্শন করলে চোখ অন্ধ হয়ে যায়, স্বামীর অকল্যাণ হয়। তবে এর কোনো প্রমাণিত ঘটনা না থাকলেও যুগ যুগ ধরে এই এলাকার মানুষ এসব আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। তাই নববধূরা ভাদ্র মাস শুরুর দুই এক দিন আগেই স্বামীর মঙ্গলের জন্য বাবার বাড়ি চলে যান। এই প্রথাটি যুগযুগ ধরে চলে আসছে শুধু মাত্র নববধুদের ক্ষেত্রে। কেউ কেউ আবার বিয়ের এক বছরের নারীকেও এই প্রথায় রেখেছে। নববধূকে সাময়িকভাবে কিছু কালের জন্য স্বামী গৃহ হতে পিতৃগৃহে নেওয়াকে নাইওর নেওয়া বলে। এরূপ স্থলে সেই কন্যাকে বলা হয় নাইওরী, আর যাত্রাকে বলা হয় নাইওর।একটি বালিকা বধূর স্বামীগৃহে অবস্থানকালে পিতৃগৃহে গমনের উন্মুখতা এটি । আদিকাল থেকে এ অঞ্চলে এ রীতি পালন করে আসছেন পূর্ব পুরুষেরা। সেই রীতি অনুযায়ী মেয়েরা সাধারণত এ সময় বাবার বাড়িতে থাকেন। প্রত্যেক নববধূরা বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর জন্য মঙ্গল কামনা করেন। এক নববধূ জানান, স্বামীর মঙ্গলের জন্য আমরা বাবার বাড়ি চলে এসেছি। এ সময় স্বামীর মুখ দর্শন করলে নাকি স্বামীর অকল্যাণ হয়। এ বিশ্বাস নিয়ে আমরা এ রীতি পালন করে আসছি।

ভাদর কাটানীর বিষয়ে নীলফামারী সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এটিএম গোলাম মোস্তফা বলেন,ধর্মীয়ভাবে ভাদর কাটানি করতে হবে এমন রীতি বা বিধান নেই। এটা নিছক পূর্ব পুরুষদের প্রচলিত প্রথা। যার ধারাবাহিকতায় এ অঞ্চলে এ অনুষ্ঠানটি প্রতি বছর সকল ধর্মাবলম্বী অভিভাবকরা পালন করে থাকেন।ভাদর কাটানী নিয়ে নানা মানুষের নানান মত রয়েছে। এটিকে কেউ মনে করেন এলাকা ঐতিহ্য, আবার অনেকে বলছেন কুসংস্কার। তবে যে যাই বলুক না কেন এরই মধ্যে বাড়িতে বাড়িতে মেয়ে বরণের উৎসব শুরু হয়ে গেছে। এবারের ভাদর কাটানী উৎসবটি ভিন্ন আমেজে এসেছে। নববধুরা পবিত্র ঈদ স্বামীর ঘরে পালন করে এবার বাপের বাড়ীতে এসেছে নাইওরে ভাদর কাটানীতে।
‘ভাদরকাটানি’ এক ধরণের লোকাচার হলেও এটি এখন এ এলাকায় হয়ে উঠেছে সামাজিক রেওয়াজ এবং উৎসবে।পাশাপাশি পুরো ভাদ্র মাসই বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বিশেষত এলাকাগুলোর হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এটি বেশী প্রচলিত।
‘ভাদরকাটানির’ এ প্রবণতাটি শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে প্রচলন বেশী। অবশ্য সমাজে ভাদরকাটানির একটি ইতিবাচক দিকও আছে। বিয়ে দেওয়ার পর মেয়ে বাবার বাড়িতে বেশি দিন থাকার একটা সুযোগ পায়না। যাতে তারা পরিবার ও আতœীয় স্বজনের সাথে সময় কাটাতে পারে। এতে করে পরিবার গুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশেরও সৃষ্টি হয়।

নীলফামারীর ইটাখোলা গ্রামের হামিদুল ইসলামের নববিবাহিত স্ত্রী শাহানা (১৯) নাইওর গেছে পিতার বাড়ি।
একই ভাবে সদর উপজেলার টুপামারী গ্রামের নির্মল চন্দ্রের মেয়ে বাসন্তি রাণী (২০), দোগাছি গ্রাম থেকে রাজিরউদ্দীনের মেয়ে আয়শা আকতার, বাড়াইপাড়া গ্রাম থেকে ইনাম আহমেদের মেয়ে রহিমা বেগম, সর্দার পাড়া গ্রামের সাদেক ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম, রোস্তম আলীর স্ত্রী সাথী আকতার, পুরাতন রেল ষ্টেশন এলাকার মহুবারের স্ত্রী এলিনা বেগম ,জলঢাকা উপজেলার উপজেলা পাড়ার সাদেক আনোয়ার প্রিন্স এর স্ত্রী রুবিনা (২০) সহ অসংখ্য নবনধু স্বামী বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি নাইওর এসেছেন।
স্বামীর কর্মস্থল দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে ভাদরকাটানীতে বাবার বাড়িতে এসেছে লুছি। সে হাসতে হাসতে বলে এ কোন রিতি জানিনা। তবে তার স্বামীর খাওয়া দাওয়ার কষ্ট হবে একটা দিন। এ জন্য তার খুব খারাপ লাগছে। তবে এ উপলে বাবার বাড়িতে বেশ কিছু দিন থাকা যায়। আতœীয় স্বজনদের পাশাপাশি পুরনো বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দেয়া যায়।
বৃদ্ধা আমেনা বেগম জানান, আমরা আমাদের বাবা-দাদাদের আমল থেকে দেখে আসছি ভাদ্র মাসের শুরুতে প্রথম সাতদিন নব বধূরা স্বামীর মুখ দেখা ও কথা বলা থেকে বিরত থাকে। কালের গতিতে তা এখনও চলে আসছে। এবার শবেবরাত এসেছে এক সাথে। ভালোই হয়েছে নববধু মেয়ে বাবার বাড়িতে এ ধর্মীয় উৎসবে সামিল হলো।
ফারহানা বিলকিছ মিমিরর স্বামী স্কুল শিক আবু তাহের জানান, অনেক দিন পর স্ত্রী বাবার বাড়িতে যেতে পারছে এটা আনন্দের। তবে তিনিও জানেন না ভাদর কাটানি আসলে কি। তার মতে এটি কুসংস্কার ছাড়া কিছু নয়।
রুবিনার শ্বশুর রন্জু চৌদুরী জানান, আমরা বাপ-দাদার থেকে দেখে আসছি নববধুদের ভাদরকাটানী এ ছাড়া আর কোন কিছু জানিনা। তবে ভাদ্র মাসের প্রথম তিন দিন স্বামীর মুখ দেখলে স্বামীর অকল্যাণ হয়, এটা তিনি শুনেছেন কিন্তু বিশ্বাস করেননা।
‘ভাদরকাটানি’ যে এক ধরনের কুসংস্কার সেটি এ অঞ্চলের অধিকাংশ লোকজন জানেন বা উপলব্ধি করতে পারেন। এরপরেও তারা সামাজিক প্রথা হিসাবে এই রেওয়াজটি দীর্ঘদিন ধরে মেনে আসছেন। অনেকের মতে, বাপ-দাদার আমল থেকে যে রেওয়াজ চালু আছে তা কি হঠাৎ করেই অমান্য করা যায়। আজকাল অবশ্য শহরাঞ্চলের শিতি পরিবারগুলোতে এটিকে কু-সংস্কার বলে পরিহার করলেও গ্রামাঞ্চলের অনেক শিতি পরিবারে তা এখনও মেনে চলছে।
উত্তরের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর , গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট এই ৯ জেলায় ভাদরকাটানির রেওয়াজের পাশাপাশি আরও একটি প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এ সব জেলায় খবর নিয়ে দেখা গেছে প্রতিবছর ভাদ্র মাস শুরু হবার আগে শ্রাবনে বিয়েরও ধুম পড়ে যায়। যা অনেকটা প্রতিযোগিতার মতই। এরপর পুরো ভাদ্র মাসই বিয়ে বন্ধ থাকে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful