Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২১ :: ৪ মাঘ ১৪২৭ :: সময়- ২ : ৩১ অপরাহ্ন
Home / আলোচিত / সিনহার মেয়াদে রিভিউ চায় না সরকার

সিনহার মেয়াদে রিভিউ চায় না সরকার

 ডেস্ক: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার মেয়াদকালে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের রায়ের রিভিউ করতে চায় না সরকারপক্ষ। পরবর্তী প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নিলে রিভিউ আবেদন করা হবে। এ ছাড়া আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের যেসব পর্যবেক্ষণে সরকারের আপত্তি রয়েছে তা নিজ থেকেই যেন প্রধান বিচারপতি এক্সপাঞ্জ করেন, সে বিষয়ে দাবি জানানো হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের দুয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এমনটিই আলোচনা হয়েছে প্রধান বিচারপতির। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রবিবার থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে উচ্চ আদালত। এই ছুটিতে দেশের বাইরে বেড়াতে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার। এর পর ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হবে শীতকালীন ছুটি। প্রধান বিচারপতির অবসরে যাওয়ার কথা আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি। আওয়ামী লীগের এক আইনজীবী নেতার মতে, ছুটিসহ মোট ৭৫ কর্মদিবস মেয়াদ আছে এসকে সিনহার।

সংসদ সদস্যদের হাতে বিচারপতির অভিশংসনের ক্ষমতাসংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনীর বাতিলে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর থেকেই সরকারের নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে বিচার বিভাগের দূরত্ব দৃশ্যমান হতে শুরু করে। এই দূরত্ব তীব্র আকার নেয় ১ আগস্ট রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর। বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিরোধও প্রকাশ্য রূপ নেয়।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের ওই সূত্র জানিয়েছে, ২২ আগস্ট প্রধান বিচারপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর বৈঠকে সংকট সমাধানের ইঙ্গিত মিলেছে। গওহর রিজভীর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে এসকে সিনহার সঙ্গে চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন গওহর রিজভী। উচ্চ আদালতে রাখা বক্তব্যে উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তান প্রসঙ্গ আনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসকে সিনহার ওপর ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন বলে প্রধান বিচারপতিকে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রায়ের বিষয়ে রিভিউ আপাতত করা হবে না। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতিকে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো এক্সপাঞ্জের বিষয়ে জানানো হয়। গওহর রিজভী বলেন, সবচেয়ে ভালো হয়, প্রধান বিচারপতি নিজ থেকে রায়ের পর্যবেক্ষণের কিছু অপ্রাসঙ্গিক বিষয় এক্সপাঞ্জ করে দিলে। কারণ সরকার সময় নিয়ে রায়ের রিভিউ করতে চায়। রায়ের টুকরো টুকরো পর্যবেক্ষণ এক্সপাঞ্জের জন্য রিভিউ করতে চায় না। এসকে সিনহা অবসরে যাওয়ার পর নতুন প্রধান বিচাপতির সময়ে এ বিষয়ে রিভিউ করা হবে। সরকারের একাংশের ধারণা, প্রধান বিচারপতিকে এ সময় বাধ্যতামূলক ছুটিতে বা অবসরে পাঠানো হলে সেটি সরকারের জন্য আরও বিব্রতকর হবে।

জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল চাইলে ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের রিভিউ ছাড়াই রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লিখিত অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো এক্সপাঞ্জের আবেদন করতে পারেন। কারণ এ রায়ে রাষ্ট্রের প্রধান তিন বিভাগকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, নজির না থাকলে নজির সৃষ্টি করতে হয়।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে সংবিধান বিশেষঞ্জ শাহদিন মালিক বলেন, রিভিউ ছাড়া রায়ের পর্যবেক্ষণ বাতিলের আবেদনের কোনো নজির আজ পর্যন্ত নেই।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান হলেই ভালো। প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকা। সীমা লঙ্ঘন করা কারো জন্যই শোভন না। তিনি বলেন, আমরা তো কোনো সংঘাত সৃষ্টি করিনি। তা হলে আমরা কেন আমাদের কর্মকে কদাকার মূর্তিতে রূপান্তরিত করব। আর কেউ যদি ধৈর্যের মূল দিতে না পারে তা হলে তার পরিণাম ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের আপত্তিকর পর্যবেক্ষণগুলো প্রধান বিচারপতি স্বপ্রণোদিত হয়ে এক্সপাঞ্জ করবেন এটিই আমাদের দাবি। তিনি যদি সেটি না করেন তা হলে আমরা আইনগত এবং অপরাপর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা আরও জানিয়েছেন, রায়ের পর চলমান পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা অনেকটা একা হয়ে পড়েছেন। নানাবিধ চাপে তিনি এই মুহূর্তে সরকারের সমালোচকদের পাশে পেলেও তার দীর্ঘদিনের দেশি-বিদেশি মিত্র কাউকেই পাশে পাচ্ছেন না। নিজেও চাচ্ছেন সম্মানের সঙ্গে অবসরে যেতে। আদালতের ছুটিতে তিনি কয়েকদিন পর দেশের বাইরে বেড়াতে যেতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দুজন প্রভাবশালী নেতা বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের রিভিউ নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই সরকারে। বিচার বিভাগের অনেকেই এই রায়ের পক্ষে। নিজেদের অনুকূলে রায় না পেলে এ বিষয়ে রিভিউ নাও করতে পারে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে পর্যবেক্ষণের এক্সপাঞ্জটা চায় সরকার। ওই নেতারা আরও বলেন, এক মাসে দেশের পরিস্থিতি অনেক বদলে যায়। প্রধান বিচাপতি ছুটি শেষে ফিরলে দেখা যাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রস্তুতির ডামাডোল চলছে দেশে। তখন ষোড়শ সংশোধনীর এই আলোচনা চাপা পড়ে যাবে অন্য ইস্যুর ভিড়ে। সব মিলিয়ে ষোড়শ সংশোধনীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট এখন পুরোটাই সরকারের অনুকূলে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত নয় সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

উল্লেখ্য, কোনো মামলায় আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বাদী বা বিবাদী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন না করলে পরে যে কেউ বিলম্বের কারণ দেখিয়ে জনস্বার্থে রিভিউ আবেদন করতে পারেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful