Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ :: ৮ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ০১ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / বিশেষ প্রতিবেদনঃ জীবন সায়াহ্নে এরশাদের শেষ মিনতি কি জনগণ রাখবে?

বিশেষ প্রতিবেদনঃ জীবন সায়াহ্নে এরশাদের শেষ মিনতি কি জনগণ রাখবে?

মুরাদ মাহমুদ, সিইও, উত্তরবাংলা ডটকম

JPজীবন সায়াহ্নে শেষ মিনতি জানিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, “শেষ মিনতি করছি আর একবার আমাকে জয়ী করুন। তাহলে আবারও ক্ষমতায় আসতে পারবো।” রংপুর জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির কাউন্সিলে এসে এভাবেই মিনতি করেছে রংপুরে ছাওয়া হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু জনগন কি তার এই মিনতি রাখবে?

মহাজোট সরকারের আমলে রংপুরবাসীর চাওয়া পাওয়ার হিসেব কষলে এরশাদের এ মিনতি অনেকটাই ফিকে হয়ে আসে। জাপার দূর্গখ্যাত উত্তরাঞ্চলে দিন দিন পার্টির অবস্থা খারাপের দিকে গেলেও রংপুর সদরে (রংপুর-৩) এরশাদের জনপ্রিয়তা এখনও যে তুঙ্গে সেটা বিগত নির্বাচনের ফলাফলই প্রমান করে। কিন্তু বিগত নির্বাচনের পেক্ষাপট আর বর্তমান অবস্থা আকাশ পাতাল পার্থক্য।

বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে এরশাদ প্রায় ২ রাখ ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচনে জয় লাভ করে। এরশাদ ঢাকার আসন রেখে রংপুরের আসনটি ছেড়ে দেন তার পত্নী‌ রওশনের জন্য। উপ-নির্বাচনে রওশন এরশাদ৮৭ হাজার ৮শ ৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চারদলীয় জোট বিএনপির প্রার্থী রহিম উদ্দিন ভরসা পান ২৫ হাজার ৫শ ২৪ ভোট। রওশন এরশাদ সাংগঠনিকভাবে এরশাদের সফর সঙ্গী হিসেবে দু-একটি কর্মসূচিতে উপস্থিতি দেখা গেলেও নির্বাচিত সাংসদ হিসেবে তিনি কোন সভা-সমাবেশ বা দায়িত্ব পালন করেননি। এনিয়ে খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ, ক্ষোভ আর হতাশা।

 নির্বাচিত এমপির কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশী। কারণ, জাতীয় পার্টি সমর্থিত মহাজোট সরকার ক্ষমতায়। কিন্তু জনগণের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রওশন এরশাদ সাড়ে ৪ বছরে এলাকার উন্নয়নে তেমন কোন ভূমিকা রাখেননি বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বারবার সদর আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে নির্বাচিত করেও নির্বাচিত সাংসদের সাক্ষাৎ না পাওয়া ও এলাকার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ার অভিযোগে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। আর সাংসদের এমন উদাসিনতার কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে এমন মন্তব্য করেছেন অনেকে।

সম্প্রতি রংপুর সফরে এসে এক জনসভায় রংপুর-৩ (সদর) আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন এইচ.এম এরশাদ। তার পরেই এলাকার ভোটারদের মাঝে বইতে শুরু করে নির্বাচনী হওয়া। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এইচ.এম এরশাদের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে কে কে নির্বাচন করছেন তা নিয়েও উৎসুক জনতার আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর) আসনে এরশাদ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে তারা হলেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, বিএনপির কাওছার জামান বাবলা, জাতীয় পার্টির বহিস্কৃত নেতা মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জাসদের ডা. একরামুল হক স্বপন ও বাসদের কমরেড আব্দুল কুদ্দুস। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ ও বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই।

 জানাগেছে, রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির মধ্যে রয়েছে একাধিক গ্রুপিং। গ্রুপিংয়ের ফলে পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের সামনে একাধিকবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এক সময় গ্রুপিং ছিল সাবেক পৌর মেয়ার এ.কে.এম আব্দুর রউফ মানিক, সাবেক সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সাবেক সভাপতি করিম উদ্দিন ভরসা, মশিউর রহমান রাঙ্গা ও এরশাদের ভাতিজা রংপুর-১ আসনে সংসদ সদস্য আসিফ শাহরিয়ার মধ্যে। করিম উদ্দিন ভরসা দলের মধ্যে অতটা সরব না হলেও এরশাদের ভাতিজা আসিফ ও রাঙ্গার মধ্যে এখনো কোন্দল ও গ্রুপিং চলছে। গ্রপিংয়ের জের ধরে গঙ্গাচড়া উপজেলাসহ বেশকটি ইউনিয়নে  রাঙ্গা ও আসিফ পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করেছে। ইউনিয়ন কমিটি গঠন নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। রাঙ্গা রওশন এরশাদের আর্শীবাদপুষ্ট। অপরদিকে এরশাদের ভাতিজা পারিবারিক ভাবে জেলা জাপায় প্রভাব ফেলেছে। সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টির অবস্থা হ-য-ব-র-ল।

 সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানিক ও মোস্তফাকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু বহিস্কৃত গোলাম মোস্তফা সিটি করপোরেশন নির্বোচনে নিজের ব্যক্তি ইমেজকে কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমান ভোট পান। যদিও তিনি মেয়র হতে পারেননি তবু তার এ ভোট ব্যাংক দেখে দু:শ্চিন্তায় পড়েগেছে জাতীয়পার্টি। তাকে দলে ভিড়াতে না পারলে আগামী সংসদ নির্বাচনে এরশাদের গলার কাটা হতে পারেন মোলাম মোস্তফা। বহিষ্কৃত এই নেতাদের পুনরায় দলে ভেড়াতে কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা তৎপর হয়ে উঠেছে। বহিষ্কৃত নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার ঘনিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করে জানান, দলের একাধিক শীর্ষ নেতা গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করেছে পুনরায় দলে ফেরার জন্য। তবে দলে ফেরার বিষয়টি তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

 রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী নির্বাচন যদি জাতীয় পার্টি একক ভাবে করে তবে ভোটের হিসাবে জটিল সমীকরণ হয়ে উঠবে। জাপার ভোটের বড় একটা অংশে ভাগ বসাবে গোলাম মোস্তফা। অন্যদিকে মহাজোট সরকারের সময়ে আলীগ কৌশলে নিজেদের ভোট ব্যাংক অনেকটাই ভাড়ি করতে পেরেছে। তাই আগামী নির্বাচনে এরশাদের দুর্গে বড় ধরণের আঘাত আসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful