আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১ ● ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১

সাকিব কি ভুল পথে পা বাড়ালেন?

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১২, রাত ১১:৪৮

পাইরেটস্ অব দ্য ক্যারিবিয়ান সিরিজের মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ চলচ্চিত্র ‘অন স্ট্রেঞ্জ টাইড’-এর কথা অনেকেরই মনে আছে। ছবির একটি দৃশ্য ছিলো-নাবিকরা ছোট্ট একটি নৌকায় চড়ে তীরে যাচ্ছিল, তখন এক মৎস্য কন্যা সাগরের গভীর থেকে উঠে এসে সেই নৌকা ধরে নাবিকদের সঙ্গে গান গাইতে থাকে।  মৎস্যকন্যার রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে সবকিছু ভুলে যায় এক নাবিক। চুমু খাওয়ার ছলে সেই নাবিককে সাগরের গভীরে টেনে নিয়ে যায় মৎস্যকন্যা।

কিছুক্ষণ পরেই নাবিক বুঝতে পারে মৎস্যকন্যা আসলে মানুষখেকো। রূপে ভোলা নাবিক অনেক কষ্টে তীরে উঠলেও তার ঘোর কাটে না। তীরে উঠেই ওই নাবিক প্রথমে যে বাক্যটি বলে তা হচ্ছে-‘আই এম ইন লাভ।’ নাবিক ভুলে যায় আরেকটু হলে সে মারা পড়ত।

বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার আমাদের গর্ব সাকিব আল হাসান আর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী উম্মে আহমেদ শিশির তাদের নতুন জীবনে পা রেখেছেন ১২ ডিসেম্বর। দুই বছর চুটিয়ে প্রেম শেষে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। তাদের জন্য আমাদের শুভকামনা। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেট ভক্তদের মতো মিডিয়ার অনেকেরই প্রশ্ন সাকিব তার সঠিক জীবন সঙ্গীকেই বেছে নিলেন তো? নাকি কোনো ভুল হয়ে গেলো। তিনি ওই নাবিকের মতোই রূপ দেখে সব ভুলে গেলেন কি? আমরা মিডিয়ার অনেক অভিনেত্রীর কথাই জানি, যাদের কাছে পাত্র হিসেবে প্রথম পছন্দ প্রবাসী যুবক। তালিকা টানলে এখানে অনেকের নামই চলে আসবে। অবশ্য এর অন্যতম একটি কারণ অনেকেই দেশের বাইরে সেটেল্ড হতে চান, ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত হতে চান।

প্রশ্ন হলো বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার আমাদের সাকিবের তো জীবন নিয়ে অনিশ্চিত হওয়ার কিছু নেই। তাহলে তিনি কেন প্রবাসমুখী হলেন? দেশে কি সাকিবের যোগ্য রূপবতী কন্যাদের অভাব ছিল? মোটেও না। বহু তরুণীর মন ভেঙে দিয়ে সাকিব প্রবাসী বাঙালি ললনা শিশিরকে বিয়ে করলেন তাও না হয় মেনে নেওয়া হলো। কারণ, ভালোবাসা কোনো বাঁধ মানে না।

কিন্তু জনমনে সাকিবকে নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আরেকটি বিশেষ কারণে। শিশির আমেরিকার মতো দেশে বড় হয়েছেন, সেখানকার সংস্কৃতির প্রভাব তার উপর পড়বে এটাই স্বাভাবিক। তার প্রমাণও এরই মধ্যে পাওয়া গেছে।

শিশিরের অনেকগুলা ছবি ফেসবুকের মাধ্যমে মিডিয়া ও মিডিয়ার বাইরে অনেকের হাতে চলে এসেছে, যেগুলো দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। বেশ কিছু ছবি রয়েছে যেখানে শিশিরকে তার বিদেশি বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে পার্টিতে বেশ খোলামেলা পোশাকে নৃত্য ও মেলামেশা করতে দেখা গেছে। একটি ছবিতে তিনি বান্ধবীর সঙ্গে লাল রঙের গ্লাসে পানীয় পান করছেন। বিদেশের পার্টিতে নিশ্চয়ই মদ, শ্যাম্পেইন খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।

আরেকটি ছবি আপশট থেকে নেওয়া যেখানে শিশিরের শরীরের অনেকটা অংশ খোলামেলা দেখা যাচ্ছে। জিন্স পরেছেন, কিন্তু কোমর থেকে শরীরের নাভি পর্যন্ত খোলা। উন্মাতাল হয়ে শিশির নাচছেন, তার পরনের সাদা রঙের টপসে লেখা প্লেবয়, টপসের চেইন অনেকটা খোলা। বাঙালি ললনার বিন্দুমাত্র ছাপও সেখানে নেই। শিশিরের আরো খোলামেলা ছবি আছে বলেও জানা গেছে।

ছবিগুলো দেখে অনেকে ব্যথিত হয়েছেন। অনেকে আবার মজা পেয়েছেন। কেউ কেউ আবার সেগুলো দেখে নানা রকম মন্তব্য করতেও দ্বিধা করছেন না। অনেকে এগুলো দেখে সাকিব-শিশিরের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সাকিব আর শিশিরের দুই বছরের প্রেম। সে হিসেবে ধরে নেওয়া যায়, সাকিব বেশ ভালোভাবে জেনে বুঝেই শিশিরকে বিয়ে করেছেন। যোগ-বিয়োগের হিসাবটা সাকিব হয়তো ঠিকভাবেই কষে নিয়েছেন। এরপরও সাকিবকে নিয়ে অনেকেরই মাথাব্যথার কারণ তিনি আমাদের একমাত্র স্বীকৃত অলরাউন্ডার।

দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করে, শিশির বাঙালি ললনার মতোই সাকিবের পাশে থাকবেন। আর যেহেতু জানা গেছে, তাদের সংসারটা বাংলাদেশে সাকিবের ফ্ল্যাটেই গোছানো হবে, সেহেতু আশা করা যায়, শিশির বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে আবারও পরিচিত হয়ে উঠবেন।

আমরা ধরে নেব, সাকিব পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান ছবির সেই নাবিকের মতো প্রেমে অন্ধ হয়ে তার জীবনের সিদ্ধান্ত নেননি। আর যদি সেটা মিথ্যে হয়ে থাকে তাহলে, ‘পোলারে কি বাঘে খাইলো’ বলা ছাড়া আর কিছু বলার থাকবে না।

প্রাইম খবর থেকে সংগৃহিত

মন্তব্য করুন


Link copied