Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১ ::৩ কার্তিক ১৪২৮ :: সময়- ১ : ৫০ অপরাহ্ন
Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত কমরেড শামসুল হকের শাহাদাত বার্ষিকী আজ
https://www.uttorbangla.com/wp-content/uploads/PMBA-1.jpg

ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত কমরেড শামসুল হকের শাহাদাত বার্ষিকী আজ

ডেস্ক: ভাষা সৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শামসুল হক ১৯৩৪ সালের ০৭ মে জন্মগ্রহণ করেন লালমনিরহাট জেলার খাতাপারা মাজার গ্রামে। সেখানেই কাটে তাঁর শৈশব কৈশোর। পিতার নাম মহিউদ্দিন সরকার, মাতা সহিজন নেছা। তিনি উচ্চবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও খুব সাধারণ ভাবেই জীবন অতিবাহিত করতেন। ছোট বেলা থেকেই শামসুল হক প্রতিবাদী মানুষ ছিলেন। তিনি স্কুলজীবনেই বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন। লালমনিরহাট মডেল হাই স্কুলে (পরবর্তীতে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) পড়াশুনা করা অবস্থায় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জড়িয়ে পরেন। ১৯৫১ সালে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ছাত্রসমাজের ঐতিহাসিক ছাত্রসংগঠন ছাত্র ফেডারেশনের একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয় দায়িত্ব পালন করেন এবং কেন্দ্র ঘোষিত বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন কমরেড শামসুল হক। লালমনিরহাটে ভাষা সংগ্রাম পরিষদের কমিটি গঠিত হলে তিনি উক্ত কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মাতৃভাষার দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নেমে রফিক, শফিক, সালাম, বরকত সহ নাম না জানা অনেকেই শহীদ হন এবং গোটা পূর্ব পাকিস্তানে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পরলে ২৩ ফেব্রুয়ারি হরতালের সমর্থনে ভাষা সৈনিক শামসুল হক এবং ভাষা সংগ্রামের কয়েকজন সদস্য লালমনিরহাট মডেল হাই স্কুলের সকল শিক্ষার্থীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেনন । খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে লালমনিরহাট থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য বিদ্যালয় গেটে আসলে প্রধান শিক্ষক পুলিশকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি না দেয়ায় পুলিশ কিছুক্ষণ বাহিরে দাঁড়িয়ে থেকে চলে যান। পুলিশি গ্রেফতারের কৌশল এড়াতে তিনিসহ ছাত্র নেতাগণ বিদ্যালয়ের পেছনে অবস্থিত সুইপার কলোনি দিয়ে পালিয়ে যান। ১৯৫২ সালের ২৬ এপ্রিল অসাম্প্রদায়িক ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন গঠিত হলে শামসুল হক পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, লালমনিরহাট থানা কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি ১৯৫৩ সালে লালমনিরহাট মডেল হাইস্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৫৩ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি কমরেড মনিরুজ্জামান এবং কমরেড শামসুল হকের নেতৃত্বে লালমনিরহাটে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়। মেট্রিকুলেশন পাস করার পর তিনি কিছুদিন সরকারি চাকরী করেন। সরকারি চাকরী করার সময় রাজনীতির টানে চাকরী ছেড়ে আবারও লালমনিরহাটে চলে আসেন। কমরেড শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) লালমনিরহাট জেলা কমিটির সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি। কৃষকদের সংগঠিত করার জন্য লালমনিরহাট অঞ্চলের তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ ও ভাষা সংগ্রামী কমরেড সিরাজ মেম্বারের নেতৃত্বে কৃষকদের সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে লালমনিরহাট অঞ্চলে শক্তিশালী কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৫৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠিত হলে তিনি ন্যাপে যোগদান করেন এবং লালমনিরহাট থানা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। লালমনিরহাট কুড়িগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে ন্যাপের শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে তিনি লালমনিরহাটের রাজনীতির অন্যতম প্রাণপুরুষ হিসেবে আর্বিভূত হন। এমনিভাবে কমরেড শামসুল হক ১৯৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে নেতৃত্ব প্রদান করেন। সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনীর ভারতস্থ আটিয়াবাড়ী ক্যাম্পে সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলে নিজ জেলা লালমনিরহাট অঞ্চলের ফিরে খান সেনাদের পুড়িয়ে দেওয়া গরিব অসহায় মানুষের ঘরবাড়ি নির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭২ সালে রেলওয়ের শ্রমিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন রেল শ্রমিক ইউনিয়ন গঠিত হলে তিনি লালমনিরহাট রেলওয়ে অঞ্চলে রেল শ্রমিকদের সংগঠিত করার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং রেল শ্রমিক ইউনিয়ন লালমনিরহাট শাখার উপদেষ্টা নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে গণতন্ত্রী পার্টি গঠিত হলে তিনি গণতন্ত্রী পার্টি লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে পার্টিতে যোগদান করেন এবং একই বছরে পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। পরবর্তীতে জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করেন। সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম খান মৃত্যুবরণ করলে তিনি লালমনিরহাট জেলা পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে জেলা সম্মেলনে তিনি পুনরায় জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু জেলা কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে নেতৃত্ব প্রদান করেন। তন্মধ্যে বাংলাদেশ প্রবীনহিতৈষী সংঘ- লালমনিরহাট জেলা কমিটির আজীবন সদস্য, সুইড বাংলাদেশ, লালমনিরহাট শাখার সভাপতি, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সভাপতি, বার্নহার্ডট কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধারে লালমনিরহাট জেলার রাজনীতির প্রাণপুরুষ হিসেবে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। লালমনিরহাট জেলার বামপন্থি আন্দোলনের প্রাণপুরুষ। সংগ্রামী এই মানুষ গত ২০১৮ সালের ২৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। আজ তার ২য় মৃত্যু বার্ষিকী। আজীবন সংগ্রামী কমরেড শামসুল হক সারাজীবন সমাজতন্ত্র সাম্যবাদের প্রতি অবিচল থেকে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, নিজ দেশের প্রতি বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর যে ভালোবাসা শ্রদ্ধা সত্যি অতুলনীয় । তিনি বাংলা ভাষাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন, স্বপ্ন লালন করতেন। অফিস আদালত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বস্ত প্রিয় বাংলা ভাষার ব্যবহার সুশৃঙ্খল ভাবে হোক সর্বদা এটা তার স্বপ্ন। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে প্রতিটি মাদ্রাসায় শহিদমিনার গড়ে উঠুক, সম্মানিত করা হোক বাংলাভাষা ও শহিদদের- এটিই ছিলো তাঁর চাওয়া এবং দাবি। নিজের দেশের প্রতি যতোটুকু দায়িত্বনবোধ, ভালোবাসা,বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা সব এই মানুষটার কাছ থেকে শেখা। আমরা তাঁর উত্তরসূরি হিসাবে তার আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে তার আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করবোই। কমরেড শামসুল হক– আপনি বেঁচে থাকবেন যতোদিন বাংলাদেশ থাকবে যতোদিন বাংলাভাষা থাকবে।

Social Media Sharing
https://www.uttorbangla.com/wp-content/uploads/Circular-MBAProfessional-Admission_9th-Batch-1.jpg

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful