Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০ :: ৭ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ২৪ অপরাহ্ন
Home / ক্যাম্পাস / রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তার হয়রানিমূলক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার দাবি

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তার হয়রানিমূলক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার দাবি

বেরোবি প্রতিনিধি: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে কর্মরত সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আলীকে হয়রানিমূলকভাবে বরখাস্তের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও তার এই হয়রানিমূলক বরখাস্ত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে বিশ^বিদ্যালয়ে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই সাথে এই অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ্য করে রেজিস্ট্রারকে লিখিত দিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাবেক প্রক্টর।
জানাগেছে, বিশ^বিদ্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা পদে যোগদানের র হতে পাঁচ বছর জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরে কর্মরত ছিলেন মোহাম্মদ আলী। ২০১৭ সালের ০২ জুলাই সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে তাকে বদলি করা হলে তিনি সবকিছু রেখে লাইব্রেরিতে দপ্তরে যোগদান করেন।
এদিকে বদলীর তিন বছরেরও বেশি সময় পর গত ২৪ সেপ্টম্বর জনসংযোগ দপ্তরের একটি আলমিরা প্রকৌশল দপ্তরে রাখার অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। সেই আলমিরাতে গোপনীয় কাগজপত্র রাখা হয়েছে এবং সেসব অন্য দপ্তরে রাখার দায়ে তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না তার ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে তিন দিন সময় দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক হয়নি উল্লেখ করে গত বুধবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আলী বলেন, জনসংযোগ. তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের কোন আলমিরা বা ফাইল আমি প্রকৌশল দপ্তরে রাখিনি। দপ্তর বদলির পর আমি সব কিছু জনসংযোগ দপ্তরেই রেখে এসেছি। তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে আমি জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের তথ্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন তথ্য সংশ্লিষ্ট ফাইলে সংরক্ষণ করেছি। এমনকি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন নথিপত্র (প্রকাশ্য কিংবা গোপনীয়) দিতেন তাও আমি তাঁদের নির্দেশ মতো সংরক্ষণ করেছি। তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে এটি আমার দায়িত্ব।
উক্ত নোটিশে তৎকালীন প্রক্টর প্রফেসর ড, আবু কালাম মো: ফরিদ উল ইসলামের বক্তব্য উদ্ধৃত করে যেসব অভিযোগ উল্লেখ করা হয় সেই বিষয়ে তিনি (ড.ফরিদুল) রেজিস্ট্রার বরাবরে লিখিত বক্তব্যে বলেন, “বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের অফিস কক্ষ সিলগালা করার সময় প্রকৌশল দপ্তরের টেবিলের উপর রক্ষিত অনেকগুলো ফাইল ছিলো যেগুলো ক্রমিক নম্বরসহ তালিকা প্রস্তুত করার পর নিরাপদে রাখার জন্য একটি আলমিরার প্রয়োজন হয়। সে মোতাবেক আমি উপাচার্য মহোদয়ের পিএস দপ্তরে একটি আলমিরার চাহিদাপত্র পাঠাই। পরক্ষণে পিএস-টু-ভিসি জনাব আমিনুর রহমান কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়ে প্রশাসন ভবনের ৩য় তলা থেকে ফাইলসহ একটি আলমিরা নির্বাহী প্রকৌশলীর রুমে নিয়ে আসেন। আলমিরায় কিছু ফাইল দেখে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, খালি আলমিরা চেয়েছি কিন্তু আলমিরাতে ফাইল কেন? উত্তরে পিএস (মাননীয় উপাচার্যের একান্ত সচিব) আমাকে বললেন, স্যার এই ফাইলগুলোর মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র রয়েছে। জানতে চাইলাম, কীভাবে বুঝলেন এখানে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র রয়েছে? এর জবাবে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারলেন না। জানতে চাইলাম, এর মালিক কে? জনাব আমিনুর রহমান জানান, এই আলমিরা ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর সাহেবের। পরে কয়েকটা ফাইল দেখে (পড়ে) মনে হলো, এটা জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের আলমিরা। তিনি (পিএস) ফাইলগুলো তার (জনাব আমিনুর রহমান) হস্তগত করতে চাইলে আমি তাকে বলি, অন্য দপ্তরের ফাইল ঐ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে দেখা বিধি সম্মত নয়। আমি উক্ত আলমিরার অগোছালো ফাইল এক জায়গায় জড়ো করে সুতলি দিয়ে বেঁধে একটি টেবিলের উপর রাখি। যদিও জনসংযোগ দপ্তরের বা অন্য কারো ব্যবহৃত আলমিরা এভাবে ব্যবহার করা সঠিক হয়নি। কিন্তু আর কোন আলমিরা না থাকায় এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষের তালিকাভূক্ত ফাইলসমূহ রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনায় উক্ত আলমিরা ব্যবহার করতে বাধ্য হই। পুরো কক্ষের ফাইলগুলো তালিকাভূক্ত করে আলমিরাগুলোতে রাখতে অনেক রাত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় জনসংযোগ দপ্তরের সেই ফাইলগুলো টেবিলে রেখে কক্ষ তালাবদ্ধ করে বের হয়ে আসি। ”
শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আবু কালাম মো: ফরিদ উল ইসলাম তাঁর লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে,“আলমিরাটি নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে বা প্রকৌশল দপ্তরে ছিলোনা। আমি দেখেছি তৃতীয়তলা থেকে আলমিরাটি আনা হয়েছে। পরে খোঁজ খবর নিয়ে আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, আলমিরাটি আসলে জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে আনা হয়েছিলো। আমাকে অসত্য তথ্য দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ফাইলগুলো বন্দি করা হয়েছে। আমাকে আলমিরাটি দেওয়ার সময় কোন সিলগালাযুক্ত তালা ছিলো না। এমনকি এই আলমিরাতে কী ফাইল বা নথি ছিলো, কে ব্যবহার করেছে এসব আমাকে না জানিয়ে আলমিরাটি খোলা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে আলমিরার তালাটিও সচল ছিলো না। যেহেতু ঐ সময়ে এই আলমিরার মূল মালিক হিসেবে কেউ উপস্থিত ছিলো না সেহেতু এই আলমিরা অক্ষত ছিলো কিনা বা এর আগে কেউ এই আলমিরা খুলেছে কিনা সেটাও আমি নিশ্চিত ছিলাম না।”

শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আবু কালাম মো: ফরিদুল ইসলামের বক্তব্য মতে আলমিরা রাখার অভিযোগের তীর উপাচার্যের একান্ত সচিব আমিনুর রহমানের দিকে। তার মতে, আলমিরা অন্য দপ্তরে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে আমিনুর রহমানই দায়ি।
অন্য দপ্তরের কারো আলমিরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া আনতে পারেন কিনা জানতে চাইলে উপাচার্যের একান্ত সচিব আমিনুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,‘এই ঘটনায় আমাকে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: ফিরোজুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে মোহাম্মদ আলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ, তৎকালীন প্রক্টর ড. ফরিদ উল স্যারের এমন বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হয় যে, মোহাম্মদ আলী জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের কোন ফাইল বা আলমিরা প্রকৌশল দপ্তরে রাখেননি। উপরন্তু তাঁর বক্তব্য মতে মাননীয় উপাচার্যের একান্ত সচিব এই ফাইলসহ জনসংযোগ দপ্তরের আলমিরা প্রকৌশল দপ্তরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিয়ে আসেন। তাছাড়া মোহম্মদ আলী মূলত এই বিশ^বিদ্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা। চাকুরীর শুরু থেকে এই বিশ^বিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষন করতেন। তিনি সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অফিসিয়াল গোপনীয়তা রক্ষা করেই উক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে একটি মহলের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং মোহাম্মদ আলীর সাময়িক বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের আহবান জানাই। শুধু মোহাম্মদ আলী নয় এমন অনেক কর্মকতাকেই অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কথায় কথায় বদলি করা হচ্ছে। একেকজন কর্মকর্তাকে এক বছরে দুই-তিনবার দপ্তর বদলি করা হচ্ছে। বদলির ক্ষেত্রে পদবী বা পদ মর্যাদা অনুযায়ী করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন যাবত অফিসারগণের পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। প্রশাসনে এক ধরণের অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে। অফিসারগণের উপর হয়রানি বন্ধসহ আমরা এমন অরাজক পরিস্থিতির নিরসন চাই।
এ ব্যাপারে জানতে বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল, প্রোভিসি সরিফা সালোয়া ডিনা এবং ভিসি কলিমউল্লাহকে একাধিকবার ফোন করা হলে তারা কেউ রিসিভ করেনি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful