Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২১ :: ১৪ মাঘ ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ৩৪ পুর্বাহ্ন
Home / ক্যাম্পাস / সেশনজটের ঘানি আর কতদিন!

সেশনজটের ঘানি আর কতদিন!

শাওন মাহমুদ

শব্দের সাথে সখ্যতা করতে আমার আগ্রহ প্রবল। ২০০৭ সালের দিকে আমি প্রথম সেশনজট শব্দটার সাথে পরিচিত হই। কিন্তু তখনও ঠিক এই বিষয়টা বুঝে উঠতে পারিনি। ভাইয়া প্রায়ই বলতো, সে সেশনজটে আছে। আমি শুনতাম। ভাইয়া বলতো,২০০৮ সালের পরীক্ষা ২০১০ সালে দিলেও উত্তরপত্রে ২০০৮ সালই লেখা লাগে। এটাই নিয়ম। আমি শুধু ভাবতাম, এরকম একটা মিথ্যা (২০১০ এ ২০০৮ লেখা) পরীক্ষার খাতায় লিখলে কিছু হয় না কেন! অথচ এখন আমিই সেই মিথ্যেটা লিখি। লিখতে লিখতে ক্লান্ত হই না।

ওই সময়েই রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তখনও সম্যক ধারনা ছিল না। ভাইয়া বুঝিয়ে বলে।আমি বেশ উৎফুল্ল হই এই ভেবে, যে উত্তরাঞ্চল এগিয়ে যাচ্ছে। সম্ভবত সে সময় কারমাইকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের গুঞ্জন উঠেছিল। আমি যেতাম, দেখতাম। দাদী বলতো, আমি একদিন কারমাইকেলে পড়বো। তারপর অবশ্য এইচএসসি কারমাইকেলে পড়ি। কিন্তু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়? কখনো সিলেবাসে ছিলো কি না জানি না!

আজ ২০২০ সাল। একযুগ পেরিয়ে গেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। নবীন বলে সবকিছু উড়িয়ে দেয়ার দিন শেষ। অধিকাংশ বিভাগেরই সবচেয়ে নির্মমতার বিষয় হলো সেশনজট। সেশনজট এককালীন বিষয় নয়, সাময়িক। কিন্তু আমরা পারছি না সেশনজট নিরসন করতে। কাঠামোগত অভাব নাকি সদিচ্ছার অভাব- প্রশ্নটা কম-বেশি সবার মাথায়ই ঘুরে। শিক্ষকসংকট ,ক্লাসরুম সংকটসহ বিভিন্ন সংকট আছে, এটি সত্য। কিন্তু সেই সাথে প্রশাসনিক কিংবা মানসিক সংকট আগুনে ঘি ঢালার মতো কি না প্রশ্ন রয়ে যায়!

কর্তৃপক্ষ কখনও সেশনজট থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজেছে কি না, আমি জানি না। তাদের স্মরণ করে দেই- একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজটে পরিপূর্ণ ছিল। শিক্ষার্থীদের ছিলো না জীবন থেকে এক থেকে কয়েকটা বছর। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য, মাননীয় আচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেশনজট নিয়ে। তারপর শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে সেশনজট নিরসন করবেন। তারপর ঘোষণা করলেন “ক্রাশ” প্রোগ্রাম। প্রোগামটি দারুনভাবে কাজে দিলো। যা যা ছিল এই ক্রাশ প্রোগ্রামে- ক্রাশ প্রোগ্রামে স্নাতকে ২১০ দিন ক্লাস, ফরম পূরণে ১৫ দিন, পরীক্ষা ৫৫ দিন, ফল ৯০ দিন এবং প্রতি ক্লাস ৬০ মিনিট নেওয়ার কথা বলা হয়। পূর্বে যা ছিল ২৪০ দিন, ৩০ দিন, ৭৫ দিন, ১২০ দিন ও প্রতি ক্লাস ৪৫ মিনিট। মাস্টার্সেও এভাবে সময় কমিয়ে আনার কথা বলা হয়।

ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট শূন্যে আসে। ৮০০ এরও অধিক অধিভুক্ত কলেজ নিয়ে দারুণভাবে সফল হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তাহলে আমাদের নিজস্ব প্রশাসন থাকা স্বত্ত্বেও আমরা কেন সেশনজট থেকে বের হতে পারছি না? তাদের যেকোনো সংকটই অন্তরালে রেখে তারা সফল হলে কেন আমরা পারছি না?

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে আকুল আবেদন করছি, যা ছিল সব অতীত হয়ে যাক।নতুন বর্তমান কিংবা নতুন ভবিষ্যতের নিমিত্তে একটি সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় উপহার চাই আমরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের সকল শিক্ষার্থী। এটাই আমাদের প্রাথমিক চাওয়া। আমাদের এরকম দু’এক বছর স্থায়ী সেশনজট নিরসনের জন্য একটি সফল প্রোগাম চাই।

আমাদের এগুতে হবে, যা আছে তাই নিয়ে এগুতে হবে। সকল সংকট সাথে নিয়ে এগুতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সদস্যকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সেশনজটের ঘানি টানতে টানতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, আর কিছুদিন,আর কিছুদিন, আর কতদিন?

লেখকঃ শিক্ষার্থী, জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful