Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১ ::২৩ বৈশাখ ১৪২৮ :: সময়- ৭ : ১০ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়: এখানে শিক্ষার্থীদের কথা কি কেউ ভাবেন?

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়: এখানে শিক্ষার্থীদের কথা কি কেউ ভাবেন?

রিয়াদ আরিফিন

স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেরিয়েছে বাংলাদেশ। এই পুরো সময়জুড়ে নানান সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গ বরাবরাই অবহেলিত থেকেছে। উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রানের দাবি ছিল, রংপুরে একটি পরিপূর্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার।
রংপুরবাসির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার ফসল হিসেবে পেয়েছিল রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়, যা পরবর্তীতে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার নামে নামকরণ করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অবধি এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমশ এক রাশ হতাশা ছাড়া উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই দিতে পারেনি রংপুরবাসিকে। তীব্র আকাঙ্ক্ষার ফসল এই বিশ্ববিদ্যালয় দিনে দিনে বিষফোড়ায় পরিণত হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করছে।

তীব্র সেশনজট থেকে শুরু করে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে কথা বললে অনেক দৃষ্টিকোন থেকেই আলোচনা করা যায়। তবে আমি শিক্ষার্থী হিসেবে কেবলমাত্র শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে অধিক আলোচনার চেষ্টা করব।

ভিসিকথনঃ-
অতীতের কাসুন্দি না খেটে বর্তমান ভিসি জনাব অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ স্যারের কথাই আলোচনা করা যাক।বর্তমান সরকার ২০১৭ সালে যখন তাকে বেরোবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়, অনেকের মতই আমিও প্রচন্ড আশাবাদী হয়েছিলাম। কলিম উল্লাহ স্যার এর রয়েছে বর্ণাঢ্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক ক্যারিয়ার। আমি খুব আশাবাদী মানুষ, ২০১৭ তে তাই প্রচন্ড আশাবাদী হয়েছিলাম, এবার হয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো ঘুচবে! কিন্তু যতই দিন গেছে প্রত্যাশার পারদ নিম্নগামী থেকে নিম্নতর হয়েছে!
তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগের মধ্যে আমি সবচেয়ে আশাহত হয়েছি তার ক্যাম্পাসে অবস্থান না করার বিষয়টি নিয়ে!একজন ভাইস চ্যান্সেলর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ! তিনি সার্বক্ষনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করেন, শিক্ষা-প্রশাসনিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ব্যাপারে আন্তরিকতার সাথে খোজ-খবর নিবেন, দেখভাল করবেন, এটাই তো হওয়া উচিৎ। আইনের আলোচনা যদি উপেক্ষাও করি, অন্তত শিক্ষকতার নৈতিকতার জায়গা থেকে তার এই দায়িত্বটি আন্তরিকতার সাথে এবং স্বেচ্ছাপ্রণদিতভাবে করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। কিন্তু একটি পরিসংখ্যানে জানতে পারলাম তিনি দায়িত্বভার গ্রহনের পর ১৩৮৩ দিনের মধ্যে ১১৪৬ দিনই ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থেকেছেন! ( ০৮/০৩/২০২১ পর্যন্ত)

আমি কথাটি আবার বলছি, ১৩৮৩ দিনের মধ্যে ১১৪৬ দিনই ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থেকেছেন! একজন অভিভাবকের এমন অনুপস্থিতে একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলতে পারে? সর্বশেষ তিনি যে কয়বার বিশ্ববিদ্যালয় এসেছেন, প্রতিবারই গোপনে এসে তড়িঘড়ি করে গোপনেই চলে গেছেন! সর্বশেষ এসেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানে জন্মদিনে ফুল দিতে, তাও ক্যাম্পাসে অবস্থান করেছেন মাত্র সাড়ে চার মিনিট! যেখানে একজন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় দাপিয়ে বেড়ানোর কথা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মাচারী দের নিয়ে মেতে থাকার কথা, তাদেরকে সময়ে সময়ে পথ দেখানোর কথা – সেখানে তিনি কিনা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন?!

ভাইস-চ্যান্সেলর কী একা দায়ী?
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ দ্বারা বেরোবি পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় একটি সামগ্রিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়াটি ভাইস চ্যান্সেলর একাই করেন না, তাকে সহায়তা করার জন্য প্রশাসনিক বডি থাকে, একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য একাডেমিক কাউন্সিল থাকে, বিভাগগুলোতে একাডেমিক কমিটি থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা বা পশ্চাৎপদতার জন্য ঢালাওভাবে কেবলমাত্র ভাইস-চ্যান্সেলর কে দায়ী করলে, বাকিরা তাদের দায় এড়াতে পারেন না।
বেরোরিতে যেসব সমস্যা প্রকট, যেগুলোতে শিক্ষার্থীরা সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, সেগুলোর মধ্যে সেশনজট অন্যতম। আশা করি বর্তমান শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টিতে একমত হবেন। আমি খোজ নিয়ে যতদূর জেনেছি, বেশ কয়েকটি বিভাগে এখনো তীব্র সেশনজট রয়েছে। ২০১৫-১৬ সেশনে যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, তাদের প্রায় সবারই স্নাতক সম্পন্ন হয়েছে, এমনকি কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের কারো কারো স্নাতকোত্তর ও শেষ হয়ে গিয়েছি। করোনা মহামারি না থাকলে এতদিনে সবারই স্নাতকোত্তর শেষ হয়ে যেত। তবে বেরোবির কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়ন ২০১৫-১৬ বর্ষের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জেনেছি, তারা এখনো তৃতীয় বর্ষের গন্ডি পেরুতে পারেনি!

আমি নিজেও একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছি গেল বছর। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সেশন জটের জন্য সবচাইতে বেশি দায়ী বিভাগ ও বিভাগের শিক্ষকগণ। শুধুমাত্র এবং কেবলমাত্র বিভাগীয় শিক্ষকগণ আন্তরিক হলে, একটি বিভাগেও সেশন জট থাকবে না , এই কথাটি আমি নিজে দায়িত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে পারি!

আমার এই কথাটির সাথে অনেকেই দ্বি-মত পোষণ করতে পারেন, তার যুক্তি দিতে পারেন ’৭৩ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী বেরোবি না চলার কারনে তাদের অনেক সীমাবন্ধতা আছে। আমিও মানছি তাদের কথা, কিন্তু শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে বিভাগীয় সভাপতি থেকে শুরু করে সকল সম্মানিত শিক্ষক যদি আন্তরিক হন, তাহলে এসব সীমাবন্ধতা অতিক্রম করা কোন ব্যাপার বলে আমি মনে করিনা। সম্মানিত শিক্ষকগণকে একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের। তারা পড়ালেখা শেষ করে সংসারের হাল ধরবে, এই আশায় তাকিয়ে থাকে হাজারো পরিবার”। আপনার যদি এই ব্যাপারটি মানবিকভাবেও নাড়া না দেয়, তাহলে শিক্ষকদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অযৌক্তিক হবে বলে আমার মনে হয়না।
পরিশেষে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই-

শিক্ষার্থী সমীপেঃ-
ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের ইতিহাসে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন-প্রতিবাদের সূচনা হয়েছে ছাত্রদের হাত ধরেই। খেটে খাওয়া মানুষের ট্যাক্সের টাকায় পড়াশোনার খরচ চলে আপনাদের। দেশের প্রতি ঋণ শোধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নিজের অধিকার আদায় করে নিতে শিখুন।

সরকার সমীপেঃ-
দেশ স্বাধীন হবার পরে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো পরিচালনার জন্য ১৯৭৩ সালে যখন আইন করা হয়, তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন “আমার শিক্ষকদের জন্য আবার কীসের আইন! তারাতো চলবেন নৈতিকতার আইন দিয়ে!” কিন্তু সমসাময়িক সময়ে শিক্ষকদের নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার আইনগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
বেরোরির উপাচার্যের কর্মকান্ড শিক্ষা সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারের অর্জনসমূহকে উত্তরবঙ্গের মানুষের সামনে ম্লান করে দিচ্ছেন। তাকে নিয়ে সরকারের ভাবার সময় এসেছে। আশা করছি তাকে সরিয়ে এমন কাউকে এখানে দেয়া হোক, যিনি দীর্ঘদিনের ভগ্ন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আলোর পথ দেখাবেন।

সবশেষে একটা কথাই বলতে চাই, রংপুরবাসি হিসেবে আমি স্বপ্ন দেখি ও মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, বেরোরির অচালবস্থা নিরসন হবে, উত্তরবঙ্গের শিক্ষা বিকাশে বেরোরি সদর্পে দাঁড়িয়ে বেড়াবে! একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে, এর বেশি আমি কি-ই বা করতে পারি!

লেখকঃ- পোস্ট-গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
ইমেইলঃ- [email protected], [email protected]

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful