Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১ ::৩ কার্তিক ১৪২৮ :: সময়- ২ : ৫৮ অপরাহ্ন
Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / লালমনিরহাটের সিনেমা হলগুলো এখন গোডাউন!
https://www.uttorbangla.com/wp-content/uploads/PMBA-1.jpg

লালমনিরহাটের সিনেমা হলগুলো এখন গোডাউন!

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: দর্শক না থাকার কারনে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে লালমনিরহাট জেলার সিনেমা হলগুলো। অধিকাংশই হল এখন ধান, পাট, ভুট্টা আর তামাকের গোডাউন। এ জেলার মোট ১৫টি সিনেমা হলের মধ্যে একটিও চালুনেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত ১০ বছরে নতুন করে লালমনিরহাট জেলায় কোনো সিনেমা হল চালু হয়নি। হল মালিকরা সিনেমা হল ভেঙে ফেলে পরিত্যাক্ত ভূমিতে বাগান করছে। আবার কেউ গোডাউন হিসেবে চালাচ্ছে। মানসম্মত চলচ্চিত্রের অভাবে দর্শকরা হল বিমুখ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছে, আগের মত সিনেমা দেখার মত সময় নেই। হলের ছবি সাদা-কালো পর্দায় দেখতে হয়। এখন ঘরে বসেই সিনেমা দেখতে পাচ্ছে। সিনেমা হলে ছবি চালুর আগেই ইউটিউব চ্যানেল ও ফেইসবুক পেইজে ছবি দেখা যায়। সেজন্য হলে গিয়ে ছবি দেখার প্রতি আকর্ষন নেই মানুষের।

এ জেলার হলগুলো হলো-লালমনিরহাট শহরে আলোরূপা ও উত্তরা, আদীতমারী উপজেলায় বন্ধু, কালীগঞ্জ উপজেলায় তুষার, সীমান্ত, সম্রাট, অন্তরঙ্গ, স্বপ্নবিলাস, উত্তরবঙ্গ ও ঝুমকা, হাতীবান্ধা উপজেলায় বিন্দু, সূচনা ও সঙ্গীতা এবং পাটগ্রাম উপজেলার জেমস্ ও আশ্বীষ। এগুলোর মধ্যে বতর্তমান একটিও চালু নেই।

এ জেলার সবচেয়ে বেশি সিনেমা হল ছিল কালীগঞ্জ উপজেলায়। এখন সেখানে একটিও নেই। ৫/৭বছর আগে জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী উত্তরা সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে গেছে। হল গুলো এখন গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এক সময় হল গুলোতে, ঈদ-পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে দর্শকরা পরিবারসহ সিনেমা দেখতে যেতো। কিন্তু আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারায় বন্ধ হয়ে গেছে সিনেমা হল গুলো।

আলোরুপা সিনেমা হল মালিক রফিকুল আলম জানায়, একটি ছবি রিলিজ হওয়ার পরেই ডিস ক্যাবলে প্রচার হয়। তাই টিকেট কিনে সিনেমা দেখতে ইচ্ছুক নয় মানুষ। মোবাইলের মাধ্যেমে হলের আগেই ছবি দেখতে পায়। ভালো কিছু সিনেমা তৈরি হলে দর্শকরা আবার সিনেমা হলে দিকে ফিরে আসবে বলে আমি আশা করি। তবে সিনেমা হলে ছবি চলার পরে সবার মুঠোফোনে এসব ছবি চলে যায়। কপি পেষ্ট হতে থাকে এসব সিনেমা। তখন আর কেউ সিনেমার হলের দিকে আসে না।

কালীগঞ্জের স্বপ্নবিলাস সিনেমা হলের মালিক স্বপন মিয়া বলেন, হলে গিয়ে ছবি দেখবে এখন, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বাংলাদেশের সিনেমা মানসম্পন্ন নয়। ছবিগুলো দর্শকের মন মতো না হওয়ায় তারা এখন হল বিমুখ। নির্মাতাগণ যদি দর্শকের কথা বিবেচনা করে ছবি নির্মাণ করেন, তাহলে হয়তো হল বিমুখ দর্শকদের আবারও ফিরিয়ে আনা যাবে।

হলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের অনেককে এখন কাপড় ব্যবসা, ফুচকা ও চটপটির দোকান, ফুটপাতে ডিম বিক্রি করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে মালিকরা হলগুলো গোডাউন বানিয়ে ব্যবসা করছেন।

সূচনা সিনেমা হলের দারোয়ান ইসমাইল হোসেন বলেন, এখন হল চালু নাই তাই এখন কাঠমিস্ত্রীর কাজ করে সংসার চালাচ্ছি। আগের মত দিন আর হয়তো ফিরে আসবে না।

এক সময় সিনেমা হলে ছবি দেখা দর্শকরা বলছেন, স্মার্ট ফোন থাকলেই সিনেমা দেখা যায়। আর হলে সিনেমা অনেক পরে চালু হয়। সেজন্য দেখাই ইচ্ছা নাই। সাদা-কালো পর্দা আটকে। এখন সবাই রঙিন ছবি ছাড়া দেখে না।এই যুগে সিডি, ডিস এন্টেনা, ভিডিও মোবাইল বিভিন্ন প্রযুক্তিতে সিনেমা দেখা যাচ্ছে। তাই সিনেমা হলে দর্শক চলে না।

নামুড়ি রথের পাড় এলাকার দর্শকর রিয়াজুল জানায়, আমি এক সময় হলে গিয়ে ছবি দেখতাম। প্রায় সপ্তাহে দুইদিন হলে যাইতাম। এখন ডিসের মাধ্যেমে এল ইডিতে ঝঁক ঝঁকে ছবি দেখি। তবে,হল গুলো একটু আসন সংখ্যা উন্নত করলে ও রাজধানী ঢাকার হলগুলোর মত এক যোগে সম্প্রচার করলে হয়তো ছবি দেখতে হলে ফিরতো দর্শকরা।

তুষার সিনেমা হলের ম্যানেজার মিন্টু মিয়া বলেন, দর্শকের অভাবে সিনেমা হল বন্ধ করতে হয়েছে। দর্শকপূর্ণ হলগুলো এখন খালি হয়ে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে বিদ্যুতের কাজ করে সংসার চলছে আমার।

Social Media Sharing
https://www.uttorbangla.com/wp-content/uploads/Circular-MBAProfessional-Admission_9th-Batch-1.jpg

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful