আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১ ● ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১

গণতন্ত্রের মানসকন্যা

সোমবার, ১৭ মে ২০২১, দুপুর ০১:২৫

১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তিনি বাংলার মাটি ও মানুষের কাছে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক পূর্ণ হয়েছে এ বছর।

বঙ্গবন্ধু কন্যার ফিরে আসার সেই দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘লক্ষ লক্ষ লোক সেদিন বিমানবন্দরে এসেছিলেন। মনে হয়েছিলো শেখ হাসিনার বেশে আমরা বঙ্গবন্ধুকেই বরণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘তার (শেখ হাসিনা) হাতেই পতাকা তুলে দিয়েছিলাম বলেই বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করতে পেরেছিলাম। যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধীদের বিচার করেছি এবং বিচারের কাজ এখনো চলছে। আজকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশকে তিনি মর্যাদাশালী একটি রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করেছেন। দেশের যে উন্নয়ন তা দেখে বিশ্ববাসীও বাংলাদেশকে সমীহর চোখে দেখে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তির কাজ তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। তার সেই অসমাপ্ত কাজ শেখ হাসিনার মাধ্যমে সমাপ্ত হতে চলেছে।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ফিরে পাবার অতৃপ্ত বাসনায় ১৯৮১ সালের ১৭ মে তার কন্যা শেখ হাসিনাকে দেখতে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের ঢল নেমেছিল বিমান বন্দরে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হারানোর পর তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে ১৭ মে’র মতো এমন একটি শুভ দিনের অপেক্ষায় ছিলো বাঙালি।’

ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন দীর্ঘ সংগ্রাম শুরু হয়। ১৬ বছর ধরে সামরিক জান্তা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলে তার একটানা অকুতোভয় সংগ্রাম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে স্বৈরশাসনের অবসান, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বাঙালির ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। খাদ্যে স্বয়ংস্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর খুনি ও একাত্তরের নরঘাতক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য সম্পন্ন এবং রায় কার্যকর করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, যোগ্যতা, নিষ্ঠা, মেধা-মনন, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদার গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এক সময় দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত যে বাংলাদেশ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করতো সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার সফলতার হারও ইর্ষনীয়। সীমান্ত ও ছিটমহল সমস্যার সমাধান, সমুদ্রসীমা জয়লাভ, গঙ্গার পানির ন্যায্য পাওনা, নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর নির্মাণ, বড় বড় মেগা প্রকল্প, বিশেষ করে মেট্রোরেল, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম নদীর তলদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ, নিজস্ব স্যাটেলাইট যুগেও প্রবেশ, খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ন, শতভাগ বিদ্যুৎসহ সফলতায় ভরপুর তার নেতৃত্ব।

শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বের প্রশংসা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতিকের সীমানা পেরিয়ে রাষ্ট্রনায়কে রূপান্তর হয়েছেন। সংগ্রামী নেতা থেকে তিনি আজ কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক। শেখ হাসিনা একজন সংগ্রামী নেতা থেকে এখন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ও উন্নয়নের নেতা হিসেবে পরিণত হয়েছেন।’

মন্তব্য করুন


Link copied