আর্কাইভ  রবিবার ● ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ● ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   রবিবার ● ৫ ডিসেম্বর ২০২১

রংপুর অঞ্চলে ঈদ করতে আসা মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে রাজধানীতে যাত্রা

সোমবার, ১৭ মে ২০২১, বিকাল ০৬:০৪

মমিনুল ইসলাম রিপন: ঢাকা রংপুর অঞ্চলে ঈদ করতে আসা কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঢাকা যাত্রা শুরু করেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ এখন গ্রাম ছেড়ে রাজধানীর পূর্ব কর্মস্থলে ফিরছে। কয়েকদিন আগে বিধিনিষেধ অমান্য করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি এসেছিল। এখন ভোগান্তির যাত্রা করে ফিরছে তারা। সোমবার সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত রংপুর নগরীর মডার্ন মোড়ে ঢাকাগামী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করাগেছে। রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের ওপর দূরপাল্লার বাসের জন্য শত শত মানুষকে অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।অনেকে বাসের অপেক্ষায় না থেকে ট্রাক, মাইক্রোবাস, কার, পিকআপ ও লেগুনাতে করে চড়ে রাজধানীর উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছে।এদের মধ্যে দিনমজুর, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার কর্মজীবী রয়েছেন।রংপুরের বাস শ্রমিকরা লকডানের কারনে মাইক্রোবাস ও পিকআপভ্যান চালকদের যাত্রী পরিবহনে বাঁধা দিচ্ছেন। বিকেলে দেখা যায়, শত শত মানুষ মডার্ন মোড়ে ঢাকাগামী বাসের জন্য জমায়েত হয়েছে। ঈদের আগে রাজধানী থেকে অনেকগুলো লোকাল বাস রংপুর অঞ্চলে যাত্রী পরিবহন করেছে। এসব বাস এখন রংপুর থেকে ঢাকার দিকে ছুটছে। নিম্নআয়ের মানুষ বাসের দ্বিগুণ ভাড়া সামলাতে না পেরে ট্রাক,পিকাপ ভ্যান ও মাইক্রো বাসসহ অন্যান্য পরিবহনে রাজধানীতে যাচ্ছে। রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী,দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও আাশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি বাসে ছিল যাত্রীদের ভিড়। তবে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মডার্ন মোড় এলাকায় পুলিশ চেকপোস্টে অনেক বাস থামাতে দেখা গেছে। রংপুর নগরীর মডার্ন মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেরাজুল রহমান (৩৮)। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক চাকরি করেন। ঈদের আগের দিন রাতে রংপুর সদরের পালিচড়াহাটে গ্রামের বাড়ি আসেন। ঈদ শেষ করে সোমবার আবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।তিনি বলেন, ঢাকা থেকে অনেক লোকাল বাস রংপুরে এসেছে। কিন্তু দূরপাল্লার বাসগুলো বন্ধ থাকায় আমি ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাসে করে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। ঈদের ছুটি শেষ ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি। ভালো গাড়ি না পেলে মাইক্রোবাসে রওনা হব। ফিরতে ভোগান্তি হবে জেনেই তো ঈদ করতে বাসায় এসেছি। লালমনিরহাটের দিনমজুর ফারুক ইসলাম ও নির্মাণ শ্রমিক আজিজুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগের দিন যাত্রাপথে অনেক কষ্ট আর ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পেরে সব কষ্ট ভুলে গেছেন। এখন ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে ভোগান্তি আরওবেড়েছে।যতই কষ্ট করে হলেও ঢাকায় যেতে হবে। রংপুর অঞ্চলে কাজের মজুরি কম সংসার চালানো কষ্টকর। ঢাকায় শ্রম বিক্রি করে প্রতি মাসে ২৫-৩০ হাজারেরও বেশি টাকা উপার্জন করাযায়। এখন ঢাকায় ফিরতে না পারলে পরে কাজ পেতে সমস্যা হবে। এজন্য ট্রাকে করে ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেই বাড়ি থেকে বের হয়েছি। রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মেডিকেল মোড় এলাকায় কথা হয় মাইক্রোবাসচালক নরুল ইসলামের সাথে তিনি বলেন, সড়কে ঝামেলা নেই। আবার ঝামেলা আছেও। বাস শ্রমিকরা একটু সমস্যা করছেন। পুলিশও মাঝেমধ্যে হয়রানি করে। এখন কর্মজীবী মানুষের ঢাকায় তো যেতেই হবে। এজন্য বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে হলেও মাইক্রোবাসে যাচ্ছেন। পুলিশ জানায়,দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় চোখে ফাকি দিয়ে অভ্যন্তরীণ গণপরিবহন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও ট্রাক, পিকআপভ্যান ও মোটরসাইকেলে ভেঙে ভেঙে অনেক মানুষ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঢাকার পথে রওনা হয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা বলেন, এখন বেশির ভাগ যাত্রী ভিড় করছে ঢাকাাগামী গাড়ির জন্য। স্বাস্থ্যবিধি মানেন নি অনেকেই। ঈদে মানুষ গ্রামে এসেছে। এখন ঈদ শেষে তারাই ফিরতে শুরু করেছে।

মন্তব্য করুন


Link copied