আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২১

আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে স্বপদে বহাল রাখতে নির্দেশ

বুধবার, ২ জুন ২০২১, রাত ০৮:০৫

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসকে স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশনা দিয়ে পত্র পাঠিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়।

মঙ্গলবার(১ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মমতাজ বেগম স্বাক্ষরীত পত্রে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর গত বছরের সোমবার (৩০ নভেম্বর) অসদাচরণসহ ছয়টি কারণ উল্লেখ করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান চিত্ত রঞ্জন সরকার।

যেসব অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছিলেন চেয়ারম্যান : আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, দুর্ব্যবহার, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজসহ হুমকিও দিয়েছেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন অভিযোগ দায়ের করেন। চেয়ারম্যান ফারুক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে আর্থিক বিষয়ে অনৈতিক দাবি আদায়ের চেষ্টা করেন। এ ছাড়াও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরেলা আখতারের সঙ্গে অশোভন আচরণ প্রদর্শন করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিনসহ ১৮ জন কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছয়টি বিষয়ে অভিযুক্ত করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসকে গত বছরের ৩০ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব নুমেরী জামান।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ সালের এবং সংশোধিত আইন ২০১১ এর ১৩(খ)(১) ধারা অনুসারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই পদে সব কার্যক্রমসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয় উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানকে। বরখাস্ত চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস স্থানীয় সরকার বিভাগের এ আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন (৯৬৮৭/২০২০) দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট বরখাস্তাদেশ স্থগিত করে রায় দেন। যা আপিল করেন রাস্ট্রপক্ষ। গত ২৫ ফেব্রুয়ারী মহামান্য হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ বহাল রেখে রায় প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার(১ জুন) স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরীত একটি আদেশে আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসকে স্বপদে বহাল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে পত্র দিয়েছেন। যার স্মারক নং - ৬৪.০০.০০০০ ০৪৬.০৩৬.২০২০-৩৭৭ ।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোন পত্র আমার হাতে পৌছে নি। তবে চিঠি আসতে পারে। এরপর সেই চিঠির আলোকে আবারও মন্ত্রনালয়ে পত্র পাঠানো হবে। এরপর স্বপদে বসতে পারবেন চেয়ারম্যান।

উল্যখ:- গত ১২ নভেম্বর আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দের অভিযোগ ইউএনওসহ ১৮ জন কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ছাড়াও মাসিক সমন্বয় সভায় ভিজিডি ও মাতৃত্ব ভাতার তালিকায় নিজের অংশ দাবি করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। যা বিধি সম্মত না হওয়ায় ইউএনও নাকচ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভা অসমাপ্ত রেখে চলে যান চেয়ারম্যান। এরপর চেয়ারম্যান ইউএনও কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা লোক দিয়ে খুলতে গেলে, তার ছবি তোলেন ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। একইসঙ্গে ক্যামেরা খুলে ফেলার কারণ জানতে চাইলে ইউএনওকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করা হয় । এ ঘটনায় সেই দিন রাতে ইউএনওসহ ১৮ জন কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ডিসি বরাবরে গণস্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্ত করে ১৬ নভেম্বর ৩৭ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠায় জেলা প্রশাসন। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে গত ২৪ নভেম্বর সরেজমিন তদন্ত করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওহাব ভূঞা।

মন্তব্য করুন


Link copied