Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১ ::৫ কার্তিক ১৪২৮ :: সময়- ১২ : ১৬ পুর্বাহ্ন
Home / রংপুর / রংপুর চেম্বারের তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়া
https://www.uttorbangla.com/wp-content/uploads/PMBA-1.jpg

রংপুর চেম্বারের তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়া

মমিনুল ইসলাম রিপন: প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ ও বীজে প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন ও সারে ভর্তুকি প্রদান, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়ন, পল্লী উন্নয়ন ও কর্মসৃজন, গৃহহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গৃহনির্মাণ এবং নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরণ, করোনা মোকাবিলায় বিশেষ বরাদ্দ, বিদ্যুৎ ও তরলীকৃত গ্যাস ও খাদ্যে ভর্তুকি বৃদ্ধি, কর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার পদক্ষেপ ও তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মকান্ড আরও সহজ ও সুলভ করতে কর অব্যাহতি, দক্ষতা উন্নয়ন ও হালকা প্রকৌশল খাতের শিল্পের সম্প্রসারণে কর অব্যাহতি ও কর প্রণোদনা, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজসমূহের বাস্তবায়নের পদক্ষেপ, পুরোনো শিল্পকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি নতুন শিল্প স্থাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর ও ভ্যাটে ছাড়, আমদানি পর্যায়ে ভ্যাটের আগাম কর (অ্যাডভান্স ট্যাক্স বা এটি) হার হ্রাস, তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশের জন্য ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের বার্ষিক লেনদেনে ব্যাপক কর ছাড়, এক ব্যক্তির কোম্পানির ক্ষেত্রে বিশেষ কর ছাড়ের সুবিধা, ভ্যাট আইনে ফাঁকির জরিমানা ও সরল সুদ হার হ্রাস, শিল্পের বিভিন্ন খাতে চলমান কর অবকাশের মেয়াদ ও আওতা বাড়ানো, রপ্তানিতে তহবিল বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপগুলো বাজেটে অন্তর্ভূক্ত থাকায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান, বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে বলে রংপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (আরসিসিআই) ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে কর্মসংস্থানমুখী, জনকল্যাণমূলক ও ব্যবসা সহায়ক বলে মনে করছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিল্প ও সেবা খাতকে গতিশীল করতে প্রণোদনা প্যাকেজের যথাযথ বাস্তবায়নের উদ্যোগ, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট উদ্যোক্তার জন্য বিশেষ তহবিলের ঘোষণা ও বেসরকারি খাতে অধিক বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঋণ সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগকে রংপুর চেম্বার সাধুবাদ জানায়।

তবে রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী টিটু বলেন, শুধু কর বা ভ্যাট কমালেই যে বিনিয়োগ বাড়বে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ব্যবসা সহজীকরণ সূচক, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গ্যাস-বিদ্যুতের সহজলভ্যতার বিষয়গুলো মেটাতে না পারলে বিনিয়োগ কখনোই বাড়বে না বলে মতামত ব্যক্ত করেন। এছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারকে সহায়ক নীতি ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, রপ্তানিমুখী ও বৃহৎ শিল্প প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পেলেও অনানুষ্ঠানিক খাত, কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত (সিএমএসএমই) ও কৃষি খাত আজো উপেক্ষিত। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ব্যবসায় পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তাই তিনি বলেন, সামান্য ছাড় দিয়ে ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিলে চলবে না- আর শুধুমাত্র অর্থ বরাদ্দ রাখলেই হবে না, বরাদ্দকৃত অর্থ যাতে সুষ্ঠু ও সুষমভাবে বণ্টন হয় সেদিকে কড়া নজরদারি ও সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানান।

প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে কর অবকাশ সুবিধা দেয়ার বিষয়টিকে রংপুর চেম্বার সাধুবাদ জানায়। তবে করোনা মহামারির প্রাক্কালে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কোন মহাপরিকল্পনা না থাকায় রংপুর চেম্বার হতাশ। কেননা চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশের ১ কোটি ১৪ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই সংশোধিত বাজেটে বিষয়টি পুর্নবিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

তবে প্রস্তাবিত বাজেটে করোনাকালীন সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে উপকার ভোগীর সংখ্যা বাড়লেও করোনায় নতুন গরিবদের জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ না থাকায় রংপুর চেম্বার হতাশ। কেননা করোনায় গরিব মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জীবন ও জীবিকা হুমকিতে পড়েছে। লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে, অনেকের আয় কমেছে। তাই সংশোধিত বাজেটে করোনায় নতুন গরিবদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষিকে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়ার ফলে কৃষি খাত খাদ্য উৎপাদনে আরো ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু মনে করেন। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষিতে গবেষণা, সম্প্রসারণ ও উপকরণে অধিক বরাদ্দ থাকা উচিত ছিল বলে রংপুর চেম্বার মনে করে। এছাড়া তিনি বলেন, রংপুর বিভাগের অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। তাই তিনি সংশোধিত বাজেটে রংপুর বিভাগে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প জোন স্থাপনের ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে করোনার ছোবলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষতি কাটাতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি,বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত এমপিওভুক্তির খাতে বরাদ্দ, প্রতি জেলায় একটি করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ, ই-লার্নিং খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। তবে রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী টিটু মনে করেন, শিক্ষা খাতের বরাদ্দ হলো জাতি গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগ। অথচ এখানে যে যৎসামান্য বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাতে শিক্ষার মান বৈশ্বিক বা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা তো দূরের কথা, দেশীয় মানটাও ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। তাই সংশোধিত বাজেটে বিষয়টি পুর্নবিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের দারিদ্র নিরসন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রংপুর বিভাগের জন্য পোশাক ও কৃষি ভিত্তিক শিল্প জোন গড়ে তোলার পাশাপাশি উন্নয়ন বৈষম্য দূরীকরণে রংপুর বিভাগের আট জেলার উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি এ বিভাগের শিল্পায়নে আলাদা ঋণ, কর ও ভ্যাট নীতি প্রণয়ন, রংপুরে প্রস্তাবিত স্পেশাল ইকোনমিক জোন ও আইটি পার্ক স্থাপন, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে ‘‘নর্থ বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি’’ গঠনের মত বিষয়গুলো অর্ন্তভূক্ত থাকা উচিত ছিল বলে রংপুর চেম্বার মনে করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, বাজেটে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রংপুর বিভাগের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের জন্য তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা ও অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব না থাকায় রংপুর চেম্বার হতাশ। তাই রংপুর অঞ্চলের দারিদ্র্য নিরসন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রংপুর চেম্বারের প্রস্তাবগুলো সংশোধিত বাজেটে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

পরিশেষে রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বলেন, বাজেটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমূহ অর্জনের নিমিত্তে বেসরকারী বিনিয়োগে প্রাণ ফেরানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখাসহ আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা, পন্থা, অর্থের সুষম বণ্টন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক কর্মসূচি ও কৌশল এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইতিবাচক সুফল বয়ে আনতে পারে রংপুর চেম্বার সে কামনা করে।

Social Media Sharing
https://www.uttorbangla.com/wp-content/uploads/Circular-MBAProfessional-Admission_9th-Batch-1.jpg

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful