Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ::৯ আশ্বিন ১৪২৮ :: সময়- ৭ : ০৯ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা: আমাদের ঐতিহাসিক ছয় দফা

স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা: আমাদের ঐতিহাসিক ছয় দফা

শেখ মাজেদুল হক

বঙ্গবন্ধুর কাছে ছয় দফা ছিল একটা সাঁকোর মতো যাতে করে চেপে স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতায় উন্নীত হওয়া যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল রোডম্যাপ রচিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ছয় দফায়। এটি ছিল বঙ্গবন্ধু রাজনীতির একটি দূরদর্শী ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ১৯৬৬ সালে ৭ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলন এর সূচনা হয়। পাকিস্তানি শাসন নির্যাতন-নিপীড়ন বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে হাজার ১৯৬৬ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ লাহোরে এক জাতীয় সম্মেলন আহবান করে ।বঙ্গবন্ধু এইদিন অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ৬ দফা উত্থাপন করেন। ছয় দফার মূল বক্তব্য ছিল- প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দুটি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর ও শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর স্থাপনের দাবি জানানো হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখে ২৩ মার্চ।

ছয় দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য:
পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র এবং ছয় দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে এই ফেডারেল রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। ছয়দফা কর্মসূচীর ভিত্তি ছিল ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব। পরবর্তীকালে এই ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার করা হয়। বাংলাদেশের জন্য এই আন্দোলন এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে একে ম্যাগনা কার্টা বা বাঙালির মুক্তির সনদও বলা হয়। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবিসমূহ:

প্রস্তাব – ১ :
শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি:
দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো এমনি হতে হবে যেখানে পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেশন ভিত্তিক রাষ্ট্রসংঘ এবং তার ভিত্তি হবে লাহোর প্রস্তাব। সরকার হবে পার্লামেন্টারী ধরনের। আইন পরিষদের (Legislatures) ক্ষমতা হবে সার্বভৌম। এবং এই পরিষদও নির্বাচিত হবে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনসাধারণের সরাসরি ভোটে।
প্রস্তাব – ২ :
কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা:
কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকারের ক্ষমতা কেবল মাত্র দু’টি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে- যথা, দেশরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি। অবশিষ্ট সকল বিষয়ে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলির ক্ষমতা থাকবে নিরঙ্কুশ।

প্রস্তাব – ৩ :
মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা:
মুদ্রার ব্যাপারে নিম্নলিখিত দু’টির যে কোন একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা চলতে পারেঃ-
(ক) সমগ্র দেশের জন্যে দু’টি পৃথক, অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে।
অথবা
(খ)বর্তমান নিয়মে সমগ্র দেশের জন্যে কেবল মাত্র একটি মুদ্রাই চালু থাকতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে শাসনতন্ত্রে এমন ফলপ্রসূ ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে করে পূর্ব-পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন পাচারের পথ বন্ধ হয়। এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভেরও পত্তন করতে হবে এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক আর্থিক বা অর্থবিষয়ক নীতি প্রবর্তন করতে হবে।
প্রস্তাব – ৪ :
রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা:
ফেডারেশনের অঙ্গরাজ্যগুলির কর বা শুল্ক ধার্যের ব্যাপারে সার্বভৌম ক্ষমতা থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনরূপ কর ধার্যের ক্ষমতা থাকবে না। তবে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গ-রাষ্ট্রীয় রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাপ্য হবে। অঙ্গরাষ্ট্রগুলির সবরকমের করের শতকরা একই হারে আদায়কৃত অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল গঠিত হবে।

প্রস্তাব – ৫ :
বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা:
(ক) ফেডারেশনভুক্ত প্রতিটি রাজ্যের বহির্বাণিজ্যের পৃথক পৃথক হিসাব রক্ষা করতে হবে।
(খ) বহির্বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অঙ্গরাজ্যগুলির এখতিয়ারাধীন থাকবে।
(গ) কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা সমান হারে অথবা সর্বসম্মত কোন হারে অঙ্গরাষ্ট্রগুলিই মিটাবে।
(ঘ) অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলির মধ্যে দেশজ দ্রব্য চলাচলের ক্ষেত্রে শুল্ক বা করজাতীয় কোন রকম বাধা-নিষেধ থাকবে না।
(ঙ) শাসনতন্ত্রে অঙ্গরাষ্ট্রগুলিকে বিদেশে নিজ নিজ বাণিজ্যিক প্রতিনিধি প্রেরণ এবং স্ব-স্বার্থে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা দিতে হবে।
প্রস্তাব – ৬ :
আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা:
আঞ্চলিক সংহতি ও শাসনতন্ত্র রক্ষার জন্য শাসনতন্ত্রে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলিকে স্বীয় কর্তৃত্বাধীনে আধা সামরিক বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন ও রাখার ক্ষমতা দিতে হবে।
বঙ্গবন্ধুর ন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করেন আইয়ুব সরকার ও তার দোসররা। বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত উত্থাপিত দাবির মুখে তৎকালীন স্বৈরাচার সরকার বিচলিত হয়ে পড়ে। দেশে ফিরে ছয় দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সহ সারাদেশে ৩৫ দিনে মোট ৩২ টি জনসভায় বঙ্গবন্ধু নিজে বক্তৃতা করেন ।ছয় দফা দাবি জনগণের সমর্থন জোরালো হতে থাকে এতে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপর নেমে আসে জেল-জুলুম- অমানবিক নির্যাতন । গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু ।৬ দফা প্রচার বঙ্গবন্ধু তিন মাসে আটবার গ্রেপ্তার হন ।১৯৬৬ সালের ৮ মে থেকে একটানা ৩৩ মাস কারাবন্দী ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর ১৪ বছরের কারা জীবনে এটাই ছিল দীর্ঘ কারাবাস। বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে নিক্ষেপ করে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে যখন ছয় দফা আন্দোলনকে কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছিল না তখন বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে চিরতরে তার কণ্ঠরোধ করার জন্য আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় ।বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ সারাদেশে ১৯৬৬ সালে সাথে ৭ জুন সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করে। এই ধর্মঘটে ঢাকা, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ সহ সারা দেশে পুলিশ ও ইপি আর গুলিতে মনু মিয়া, শফিক, শামসুল হকসহ সর্ব মোট ১১ জন শহীদ হন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরাধীন জাতি এগিয়ে যায় ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এর দিকে ।১৯৬৯ সালের ২২ শে ফেব্রুয়ারি সকল রাজবন্দীদের মুক্তির পর মুক্তি লাভ করেন শেখ মুজিব। ১৯৬৯ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ছয় দফা দাবির পক্ষে বাঙালি জাতির সর্বোত্তম রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু ও তার দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসকরা সরকার গঠন করতে না দিলে আবারো বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করে ।এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।

ঐতিহাসিক ছয় দফার, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির মুক্তির পথ প্রদর্শক। ৬ দফাই এনে দিয়েছে আমাদের তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর দূর দৃষ্টি, অন্তর্দৃষ্টি ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এতই প্রখর ছিল যে, তিনি ৬ দফাকে এক দফার দাবিতে পরিণত করে বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলনের ডাক দেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful