Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১ ::৬ কার্তিক ১৪২৮ :: সময়- ১১ : ২৬ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / বজ্রপাত থেকে বাঁচতে দরকার অধিকতর সচেতনতা
https://www.uttorbangla.com/wp-content/uploads/PMBA-1.jpg

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে দরকার অধিকতর সচেতনতা

মো. শহিদুল ইসলাম
বজ্রপাত, অশান্ত আবহাওয়ার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট আপদ যেটি ঘন মেঘ, ভারী বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি এবং প্রবল বাতাসের সাথে সম্পর্কিত। উষ্ণ, আর্দ্র বায়ু যখন মাটির কাছাকাছি থাকে এবং শীতল, শুকনো বায়ু উপরে থাকে তখন এক প্রকার অস্থিতিশীল বায়ু তৈরি হয় যা বজ্রঝড় বা বজ্রপাত তৈরি করতে মূল ভুমিকা পালন করে থাকে। একটি বজ্রপাতের ব্যাস ১৫ মাইল এবং গড়ে ৩০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সাধারণত গ্রীষ্মের দিনগুলোয় এপ্রিল-মে মাসে বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে। তবে সাম্প্রতিককালে জুন-জুলাই মাসেও বজ্রপাতের হার অনেক বেড়ে গেছে ।

বিশ্বে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় হিমালয় পর্বত ও বঙ্গোপসাগর দ্বারা প্রভাবতি দেশ- বাংলাদেশে। বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৮০-১২০ দিন বজ্রপাত হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব জিওগ্রাফির প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. টমাস ডাব্লিউ স্মিডলিনের ‘রিস্ক ফ্যাক্টরস অ্যান্ড সোশ্যাল ভালনারেবিলিটি’ শীর্ষক গবেষণা অনুসারে, ’প্রতি বছর মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৪০টি বজ্রপাত সংঘটিত হয়ে থাকে এবং সংবাদমাধ্যম গুলোতে বছরে ১৫০ এর মতো মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও এই সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে ৫০০-১,০০০ মত ‘। ডিজাস্টার ফোরাম, সেইভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১১ সাল থেকে গত নয় বছরে বজ্রপাতে প্রায় ২,৪৪৮ জন মানুষের মৃত্যু ঘটেছে যা বছরপ্রতি গড়ে ২৭০ জনের বেশি। সেইভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম বলছে, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে কৃষিকাজ করার সময়, এই হার প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ। এছাড়া মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে, নৌকায় মাছ ধরতে গিয়ে, খোলা মাঠে খেলতে যাওয়া ইত্যাদি ঘটনাগুলোয় বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটছে সবচেয়ে বেশি। বজ্রপাতের ভয়াবহতার দিক বিবেচনায় এবং আশঙ্কাজনকহারে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় সরকার ১৭ মে ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। গবেষণা অনুসারে বাংলাদেশে বজ্রপাতের মূল কারণ- দেশটির ভৌগলিক অবস্থান। শীত পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর, এবং ভারত মহাসাগর থেকে উৎপন্ন গরম আর্দ্র বাতাস উত্তরের হিমালয় পর্বতমালা থেকে আগত ঠাণ্ডা বাতাসের সাথে সংমিশ্রণে অস্থিতিশীল বাতাস সৃষ্টির মাধ্যমে বজ্র মেঘের উদ্ভব ঘটায় যা বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে থাকে। গবেষণা অনুসারে গত কয়েক বছরে বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলেও বজ্রপাতের হার বেড়ে গেছে। কিছু কিছু গবেষণা মতে জানতে পারা যায়, এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ার কারণে বছরে ১২ শতাংশ বজ্রঝড় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রপাতের হার বাড়ার কারণ হিসেবে অনেকে বায়ু দূষণকেও দায়ী করেছেন। আবহাওয়াবিদগণ বলছেন, বাংলাদেশে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল বজ্রপাত প্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম। গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্যোগ বেশি ঘটছে। এক জরিপ বলছে, সাধারণত সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত অর্থাৎ দিনের বেলায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে সবচেয়ে বেশি। অন্ একটি গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রায় ৪৩ শতাংশ বজ্রপাতই হয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে। সকালে সূর্যের প্রচণ্ড তাপমাত্রা বেশি পরিমাণে জলীয়বাষ্প সৃষ্টি করে, যেটি বজ্রপাতের প্রধান নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা পালন করে এবং তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে বজ্রপাতের সৃষ্টি করে। বজ্রপাতে শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বেশি। একসময় দেশের বেশিরভাগ গ্রাম এলাকায় বড় গাছ, যেমন- তাল, নারিকেল, বটসহ নানা ধরনের উঁচু গাছ থাকার ফলে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যু বা আঘাত পাওয়ার ঘটনা কম ঘটত। বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে, দেশের অধিকাংশ এলাকায় মুঠোফোনের বৈদ্যুতিক টাওয়ার, মুঠোফোনের সংখ্যা, কৃষি এবং নানা ক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে আকাশে সৃষ্ট হওয়া বজ্র দ্রুত ভূপৃষ্ঠের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। বজ্রপাতের ভয়াবহতা ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বজ্রপাত বিষয়ে এখনই সচেতন না হলে অদূর ভবিষ্যতে এটি অন্যতম মারাত্নক দুর্যোগের আকার ধারণ করবে। বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর কর্তৃক নিম্নোল্লিখিত ২০টি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বজ্রপাত থেকে বাঁচতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।

১. বজ্রপাতের ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির ধাতব রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না।
২. প্রতিটি বিল্ডিংয়ে বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন নিশ্চিত করুন।
৩. খোলা স্থানে অনেকে একত্রে থাকাকালে বজ্রপাত শুরু হলে প্রত্যেকে ৫০-১০০ ফুট দূরে দূরে সরে যান।
৪. কোনো বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে যান।
৫. খোলা জায়গায় কোনো বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেয়া যাবে না। গাছ থেকে চার মিটার দূরে থাকতে হবে।
৬. ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকতে হবে। বৈদ্যুতিক তারের নিচ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে।
৭. ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগগুলো লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে।
৮. বজ্রপাতে আহতদের বৈদ্যুতিক শকের মতো করেই চিকিৎসা দিতে হবে।
৯. এপ্রিল-জুন মাসে বজ্রপাত বেশি হয়। এই সময়ে আকাশে মেঘ দেখা গেলে ঘরে অবস্থান করুন।
১০. যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।
১১. বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি বা বারান্দায় থাকবেন না এবং ঘরের ভেতরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকুন।
১২. ঘন-কালো মেঘ দেখা গেলে অতি জরুরি প্রয়োজনে রাবারের জুতা পরে বাইরে বের হতে পারেন।
১৩. উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার, ধাতব খুঁটি ও মোবাইল টাওয়ার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।
১৪. বজ্রপাতের সময় জরুরি প্রয়োজনে প্লাস্টিক বা কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করুন।
১৫. বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, মাঠ বা উঁচু স্থানে থাকবেন না।
১৬. কালো মেঘ দেখা দিলে নদী, পুকুর, ডোবা, জলাশয় থেকে দূরে থাকুন।
১৭. বজ্রপাতের সময় শিশুদের খোলা মাঠে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখুন এবং নিজেরাও বিরত থাকুন।
১৮. বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়ুন।
১৯. বজ্রপাতের সময় গাড়ির মধ্যে অবস্থান করলে গাড়ির ধাতব অংশের সঙ্গে শরীরের সংযোগ ঘটাবেন না। সম্ভব হলে গাড়িটিকে নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।
২০. বজ্রপাতের সময় মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে অবস্থান করুন।

উপযুক্ত নির্দেশনাবলী মেনে চললে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা অনেক কমে আসবে প্রত্যাশা করা যায়। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে গাছ লাগানোর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা অতীব জরুরী। সরকারিভাবে ২০১৮ সালে দেশের ৬১ জেলায় ৩১ লাখ তালের আঁটি লাগানো হয়েছিল। তাল গাছ উচ্চতর শাখাবিহীন বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ হওয়ায় বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসে এটি সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে কিন্ত বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসের উপযোগী হতে এই গাছের ১৪-১৬ বছর বা তারও বেশি সময় লাগে। তাই এটিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রহণ করে স্বল্প সময়ে বর্ধনশীল সুপারি গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। তবে বজ্রপাত থেকে বাঁচতে সবচেয়ে বেশি দরকার সচেতনতা। অসচেতনতাজনিত কারণে বজ্রপাতে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। তাই সর্বমহল হতে বজ্রপাতে বিষয়ক সচেতনতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো জনস্বার্থে অনেক বেশি প্রচার করা অতীব জরুরী।

লেখক: প্রভাষক (ভূগোল), রংপুর ক্যাডেট কলেজ, রংপুর ।
Email: [email protected]

Social Media Sharing
https://www.uttorbangla.com/wp-content/uploads/Circular-MBAProfessional-Admission_9th-Batch-1.jpg

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful