Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১ ::৬ কার্তিক ১৪২৮ :: সময়- ৭ : ২৪ পুর্বাহ্ন
Home / আলোচিত / সীমান্ত থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে ডেল্টা
https://www.uttorbangla.com/wp-content/uploads/PMBA-1.jpg

সীমান্ত থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে ডেল্টা

ডেস্ক: দেশের সীমান্তবর্তী জেলাসহ আশপাশের জেলাগুলোয় করোনা ভাইরাসের রোগী বেড়েই চলছে। কোনো কোনো জেলায় করোনার সংক্রমণহার ৫০ শতাংশের বেশি। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার কারণেই সংক্রমণ বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট খুব দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম। এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোয় সংক্রমণ সারাদেশে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী দেশে বর্তমানে ৫০৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৭০ জন। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এটি সারাদেশের সংক্রমণের চিত্র হলেও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর সংক্রমণচিত্র ভিন্ন। কোনো কোনো জেলায় সংক্রমণের হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সাতক্ষীরা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয় ৫০ জন। ২৪ ঘণ্টার নুমনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ৫৩ দশমিক ২০ শতাংশ। অথচ কিছুদিন আগেও এই জেলায় রোগী শনাক্তের হার ছিল মাত্র ২-৩ শতাংশ। গত রোজার ঈদের পর থেকে সাতক্ষীরা বা আশপাশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৯ হাজার ৫১টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৫৪ জন। ঢাকা বিভাগে সংক্রমণহার ৫ দশমিক ০২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৮২টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৯ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে সংক্রমণ হার ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ৮৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৪৪ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে সংক্রমণহার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৩৪৪টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬০৭ জন। রাজশাহী বিভাগে সংক্রমণের হার ১৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ৪৪১টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৪ জন। রংপুরে সংক্রমণহার ২১ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ১ হাজার ৪০৮টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪২৭ জন। খুলনায় সংক্রমণহার ৩০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ২৭০টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪১ জন। বরিশালে সংক্রমণহার ১৫ দশমিক ২০ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে ৩২৩টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৪ জন। সিলেটে সংক্রমণহার ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।

জানা গেছে, ঈদের পর থেকে দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে সংক্রমণ বেশি বাড়ছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। আইইডিসিআরের তথ্য বলছে, এখন সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এদিকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ বাড়লে সেখানে আইসিইউ, সেন্ট্রাল লাইন অক্সিজেন সরবরাহ, হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, আরটি-পিসিআর ল্যাব ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব রয়েছে। ফলে রোগী বাড়লে চিকিৎসাব্যবস্থা ব্যাহত হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, করোনা সংক্রমণ কতটা বিস্তৃত হবে, সেটি নির্ভর করবে কিছু কন্ডিশনের ওপর। যে এলাকাগুলো আক্রান্ত হয়েছে, সেখানে যদি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না যায়, তা হলে ব্যাপক সংক্রমণ হতে পারে। আমরা আগে বলতাম- গ্রামের লোকজন আক্রান্ত হয় না, এবার দেখা যাচ্ছে গ্রামের লোকজন আক্রান্ত হচ্ছে। এই ভ্যারিয়েন্টটি হচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। এই ভ্যারিয়েন্টে অনেক বেশি সংক্রমণ ছড়ায়। সুতরাং স্থানীয়ভাবে এর প্রভাব পড়বে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের ম্যানেজমেন্টও এতো ভালো হবে না, ঢাকার মতো হবে না। অনেক জেলা আমরা জানি ছোট, যেখানে ভ্যান্টিলেটর সাপোর্টই নেই, সেক্ষেত্রে মানুষ চিকিৎসা নিয়েও সমস্যায় পড়বে- এটা হলো স্থানীয় প্রভাব। আর জাতীয় প্রভাব হলো- এই এলাকাগুলো থেকে সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে যেতে পারে। কারণ অনেক জেলায় লকডাউন নেই, আন্তঃজেলা পরিবহন চলছে, গণপরিবহন চলছে। সুতরাং ইতোমধ্যে ওই এলাকায় ছড়িয়েছে। ওই জেলায়গুলো থেকে অন্য জেলায় কত মানুষ গেছে, তাদের মধ্যে কত মানুষ সংক্রমণ নিয়ে গেছে এবং যে এলাকায় যাচ্ছে সেখানে কত বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, সেটির ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের অবস্থা সামনে কী দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী যেসব জেলায় সংক্রমণ বেশি, সেখানে কঠোর লকডাউন জোরদার করতে হবে। নমুনা পরীক্ষা বাড়াতে হবে, রোগী শনাক্ত এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং করে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা গেলে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় চলতি জুন নিয়ে শঙ্কিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রবিবার দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল বুলেটিনে এই শঙ্কার কথা প্রকাশ করেন অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন। তিনি বলেন, গত মাসের মতো এটা স্বস্তির মাস না-ও হতে পারে।

অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, খুলনা, রাজশাহী, যশোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ক্রমান্বয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আক্রান্তদের অধিকাংশই ভারতীয় বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের শিকার বলে জানিয়েছে প্রশাসন। যে কারণে আমাদের একটি মেডিক্যাল টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জে রয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সব সীমান্ত এলাকার হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে জরুরি ছাড়া কোনো রোগী যেন ভর্তি না করা হয়- এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দরকার হলে সম্পূর্ণ হাসপাতাল করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল করে দেওয়া হবে। প্রান্তিক অন্য এলাকাগুলোতে তা-ই বলা হয়েছে।

অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, গত ৩০ মে থেকে সংক্রমণের হার উঠানামা করছে। এখন আমরা যে পর্যায়ে আছি, তাতে বলতে পারবো না যে, অবস্থা স্থিতিশীল। এখন পর্যন্ত আমাদের ট্রান্সমিশন আনস্টেবল। অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ক্ষমতা অন্য ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে অনেক বেশি। আর সংক্রমণ অনেক বেশি হলে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি হবে।

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে; বিশেষ করে সীমান্তবর্তী (রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ, এবং খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট) এলাকায় সংক্রমণের উচ্চহার দেখা যাচ্ছে।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, আরটি-পিসিআরের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা করে কো-অর্ডিনেশন করা মুশকিল, যদি এসব এলাকায় অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়, তা হলে একটা সুরাহা হবে। তাতে দ্রুত রোগী শনাক্ত হবে, আর রোগী শনাক্ত হলে তাদের আইসোলেশন করা, রোগীর সংস্পর্শে আসাদের কোয়ারেন্টিন করতে সুবিধা হবে। আর যেসব এলাকায় আরটি-পিসিআরের মাধ্যমে পরীক্ষার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হলে রোগী শনাক্তের হার আরও বাড়বে, আর তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেও সুবিধা হবে। খবর-দৈনিক আমাদের সময়

Social Media Sharing
https://www.uttorbangla.com/wp-content/uploads/Circular-MBAProfessional-Admission_9th-Batch-1.jpg

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful