Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ::৫ আশ্বিন ১৪২৮ :: সময়- ৫ : ৫৩ অপরাহ্ন
Home / রংপুর / রংপুরে তিস্তার ভাঙনে হুমকির মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

রংপুরে তিস্তার ভাঙনে হুমকির মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

হাসান আল সাকিব: রংপুরের পীরগাছায় তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে চর দক্ষিণ গাবুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবনটি ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে। আর মাত্র ১৫ মিটার ভেঙে গেলে বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যে বিদ্যালয় সংলগ্ন ১০টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে অসময়ের পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা ছাওলা ইউনিয়নের দক্ষিণ গাবুড়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা নদী। এ গ্রামটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি গড়ে ওঠেনি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এই গ্রামটির তিন ভাগের দুই ভাগ আগেই বিলীন হয়েছে তিস্তায়। বাকি অংশও ভাঙনের কবলে পড়ে ছোট হয়ে আসছে। এই গ্রামেই অবস্থিত চর দক্ষিণ গাবুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত কয়েক দিন আগে নদী ভাঙন শুরু হওয়ায় বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রায় ১০টি বাড়ি নতুন করে তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন এখন বিদ্যালয়ের একদম কাছে এসে পৌঁছেছে। গত বছরও বিদ্যালয়টি ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছিল। তখন থেকে ভাঙন রোধে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

তারা জানান, সময় মতো উদ্যোগ নিলে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাড়িঘরও রক্ষা পেত। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে প্রতিবছর ভাঙনের শিকার হচ্ছে নদী পাড়ের বাসিন্দারা।ছাওলার ১০নং বোল্ডারের পাড় থেকে আরও ৩ কিলোমিটার বোল্ডার দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে নদী শাসন করলে এ গ্রামগুলো রক্ষা হতো। কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে ১নং ও ২নং বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করলেও বাঁধের পূর্ব পাড়ের গ্রামগুলো বন্যা ও নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। তাই প্রতি বছর নদী ভাঙনের ফলে পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে আসছে। এ অঞ্চলে গত ৫ বছরে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমিসহ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে মকবুল হোসেন, গণি মন্ডল, জাফর আলী, ছামাদ আলী, খয়বর আলী, কফের উদ্দিন, সুমের আলী, সজব উদ্দিন ও আনিছুর রহমানসহ বেশ কয়েক জনের বাড়িঘর।

কান্না জড়িত কণ্ঠে ছামাদ আলী বলেন, ‘হামার দিকে কেউও দেখে না। সময় মতো ব্যবস্থা নিলে ফির হামাক সউগ হারা নাগিল না হয়।’

নদী ভাঙনের শিকার স্থানীয় বাসিন্দা গণি মণ্ডল বলেন, ভাঙন যখন একটু দূরে ছিল তখন উদ্যোগ নিলে হয়তো বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব ছিল। এ বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এখন ভাঙন কাছে আসার পর জিও ব্যাগ ফেলার নামে সরকারি টাকা জলে ফেলা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ গাবুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালেও একবার ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়েছিল। পরে স্থান পরিবর্তন করে বর্তমান স্থানে নতুন করে ভবন নির্মাণ করা হয়। কয়েক বছরের ব্যবধানে আবারো বিদ্যায়টি নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন উত্তর বাংলাকে বলেন, এর আগে বিদ্যালয়ের সামনের দিকে ভাঙলেও এবার পিছন দিকে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে না পারলে যেকোন সময় বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আরেফীন বলেন, তিস্তার ভাঙন বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ মিটারের মধ্যে চলে এসেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙন রোধে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful