Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ::৫ আশ্বিন ১৪২৮ :: সময়- ২ : ১২ পুর্বাহ্ন
Home / রংপুর / রংপুরে পশুরহাটে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

রংপুরে পশুরহাটে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

মমিনুল ইসলাম রিপন: আসন্ন কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে করোনার উচ্চ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে রংপুর জেলায় ৩৫টি গরুর হাট বসছে। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বসছে বড় অন্তত ১০টির বেশি হাট। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট ভাবে চলছে কোরবানির পশু কেনা-বেচা। এর ফলে পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে আসা মানুষের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই হাটগুলোতে। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। এতে করে উপেক্ষিত থাকছে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি। অন্যদিকে পশুরহাট থেকে মানুষজন বাড়ি ফিরায় করোনার আশংকাও রয়েছে।
সরেজমিনে রংপুর নগরীর নিসবেতগঞ্জ, কাউনিয়ার হারাগাছ খানসামা, টেপামধুপুর, পীরগাছার চৌধুরাণী, পাওটানা, অন্নদানগর, মিঠাপুকুরের বালারহাট, জায়গীরহাটসহ নগরী ও জেলার একাধিক হাটে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। হাটে আগতদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নেই। নেওয়া হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানানোর বিষয়ে কোন পদক্ষেপ। ফলে অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে হাটের কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।
হাটগুলোতে সরেজমিন ঘুরে আরও দেখা গেছে, লোকজন করোনা ভীতি উপেক্ষা করে মুখে মাস্ক ছাড়াই চলা ফেরা করছে। হাটে মাস্ক পরা ব্যক্তি পাওয়াই বিরল। হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সরকারি নির্দেশ মতে হাটের প্রবেশ দ্বারে হাত ধোঁয়ার জন্য সাবান পানি রাখার কথা থাকলেও তা রাখা হয়নি। হাটে সচেতনামূলক কোন প্রচারণা চলানো হচ্ছে না। নেই কোন তদারকির ব্যবস্থা। ফলে মাস্ক ছাড়াই ফ্রি স্টাইলে চালাচল করতে দেখা গেছে লোকজনকে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ইজারাদারের পক্ষ থেকে সুরক্ষাব্যবস্থা নেই, প্রবেশপথে রাখা হয়নি হাত ধোয়ার পানি ও সাবান। শরীরের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র নেই। হাটজুড়ে রয়েছে শিশু-বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষের অবাধ চলাচল।
পীরগাছার চৌধুরাণীর হাটে আসা সাহাব উদ্দিন নামের এক গরু বিক্রেতা বলেন,খালি মোকে কন কেন। কারো মুখত তো মাস্ক নাই। সবারে যে গতি মোরো সেই গতি।
এদিকে হাটগুলোতে কাক্সিক্ষত দামে গরু বেচা-কেনা করতে না পারায় অধিকাংশ ক্রেতা বিক্রেতাদের মাঝে হাতাশার ছাপ দেখা গেছে। কিন্তু কারো মাঝে করোনা ভীতি লক্ষ্য করা যায়নি।
নগরীর নিশবেতগঞ্জ হাটে সাইফুল ইসলাম নামের একজন বলেন, ‘কোরবানির জন্য গরু কিনতে এসেছি। কিন্তু হাটে তো কোনো স্বাস্থ্যবিধি নেই। এত মানুষ দেখে ভয়ও লাগছে। পুরো হাটে মানুষে মানুষে একাকার। যেহেতু লকডাউন নেই, তাই হাটে-বাজারে মানুষ বেড়েছে।’
কাউনিয়ার খানসামা হাটে কথা হয় গরু কিনতে আসা মাহমুদুল মিয়া মানিক ও নুর মোহাম্মদ রিজুর সাথে। তারা বলেন, ‘প্রশাসনের নজর দেয়া উচিত। তা না হলে ঈদের পর হাসপাতালে জায়গা খুঁজতে খুঁজতে অনেককে তার প্রিয়জন হারাতে হবে।’
জানা গেছে, প্রতিটি হাটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকে গরু ক্রয় করতে আসছেন। স্থানীয়ভাবে লালন পালন করা গরুগুলো হাটে বেশী বিক্রি করতে দেখা গেছে। ফলে করোনা ঝুঁকির আশঙ্কা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকে। ইতিমধ্যে রংপুর জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সর্দি জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
এদিকে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ইজারাদাররা। জেলার ছোট-বড় প্রায় ৩৫টি গরু ছাগলের হাট বসেছে। এসব হাট প্রতি বছর ১ বৈশাখ উপজেলা প্রশাসন ইজারা দিয়ে থাকেন। ঈদ উপলক্ষে এসব হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণে গবাদি পশু পাওয়া যায়। বেচা বিক্রিও অনেক। পছন্দের পশু ক্রয় ও বিক্রয়ের জন্য এবারো হাটগুলি জমে উঠেছে। কিন্তু বাঁধ সেজেছে ইজারাদারেরা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করছেন তারা। একই সাথে দিতে হচ্ছে দ্বিমুখী টোল। একটি গরুর বিক্রি হলে বিক্রেতার নিকট তিনশ’ টাকা ও ক্রেতার নিকট সাতশত টাকা আদায় করছেন। এছাড়াও একটি ছাগল বিক্রি হলে বিক্রেতার নিকট দুইশ টাকা এবং ক্রেতার নিকট থেকে তিনশত টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। ফলে ক্রেতা বিক্রেতারা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই অভিযোগ করেন, সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে হাটে টোল আদায়ের তালিকা না টাঙিয়ে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত টোল আদায় করছেন ইজারাদাররা। বিভিন্ন দফতর ও স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করেই এসব হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পীরগাছা উপজেলার পশু ব্যবসায়ী আনছার আলী জানান, উপজেলার হাটগুলোতে প্রশাসনের তদারকি না থাকায় ইজারাদারেরা ইচ্ছামত পশুর হাটে চাঁদা আদায় করছেন। ফলে ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা-বিক্রেতারা ইজারাদারদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আরেফীন বলেন, একইদিনে কয়েকটি হাট বসায় তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে একাধিক হাটে টোল বেশি আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ আসায় ইজারাদারকে সতর্ক করা হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। শুধু আইন নয়, মানুষকে সচেতন হতে হবে।’

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful