Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১ ::৬ কার্তিক ১৪২৮ :: সময়- ৭ : ৪৩ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু।। শেখ মাজেদুল হক
https://www.uttorbangla.com/wp-content/uploads/PMBA-1.jpg

চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু।। শেখ মাজেদুল হক

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি।১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বপ্নের জাদুকর রাজনৈতিক কবি বঙ্গবন্ধুর অকুতোভয় বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাত কোটি মানুষ পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে মুক্তির স্বাদ পায়। পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় লাল-সবুজের স্বাধীন দেশ বাঙালির জাতির প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এবং আমাদের স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা। যিনি শুধু ভালোবেসে গেছেন ভালোবেসেছেন এদেশের মাটি মানুষ প্রকৃতিকে। যার জন্মই হয়েছে অপরকে দেয়ার জন্য। এরকম ক্ষণজন্মা পুরুষ ইতিহাসে মাত্র কয়েকজন। তাকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন যে আপনার সবচাইতে বড় শক্তি কি? উনি বলেছিলেন আমি এদেশের মানুষকে বেশি ভালোবাসি। আপনার দুর্বলতা কি? তার উত্তরে বলেছিলেন- আমি এদেশের মানুষকে বড় বেশি ভালোবাসি। তিনি সারা পৃথিবীর গণ-মানুষের নেতা হয়ে উঠেছিলেন। অন্যায়ের সাথে করতেন না আপস। সবসময় বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতেন। ন্যায় বিচারের রূপকার ছিলেন তিনি। চিন্তা-চেতনায় ছিলেন সৎ, বিবেকবান, সুষম বণ্টনকারী, ন্যায় ও আদর্শের গণ-মানুষের নেতা। তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন পরের কল্যাণে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুর নাম থাকবে, যতদিন পৃথিবী থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
যে লোকটি সারাটি জীবন শিখিয়ে গিয়েছেন কিভাবে মানুষকে পরম মমতায় ভালোবাসতে হয়, দেশকে ভালবাসতে হয়। কিভাবে মানুষের জন্য লড়াই সংগ্রাম করতে হয়। যে লোকটি সারাটি জীবন ‘Sincerity of purpose and honesty of purpose’ ভিত্তি। তিনি বেঁচে আছেন তার কর্মের মাধ্যমে তাঁর চিন্তার মাধ্যমে। তাঁর আদর্শ দিয়ে তিনি আমাদেরকে শিখিয়ে গেছেন কিভাবে হাসতে হাসতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়।যার ৫৫ বছরের জীবনে কোনো অপরাধ না করেও শুধু জনগণের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে ১৩ বছরের অধিক সময় জেল খেটেছেন। একটি পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতা এনে দেওয়ার জন্য আস্তে আস্তে তৈরি করেছেন আর ১৯৭১ সালে তিনি জনপ্রিয়তার এমন একপর্যায়ে ছিলেন যে তিনি যা বলতেন বাঙালি তাই শুনত।১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চের ঐতিহাসিক রেসকোর্স এর ১৮ মিনিটের ভাষণ, প্রতিটি শব্দ প্রতিটি কথা, আজও চির জাগরণ, বাংলার ইতিহাসের সেরা ভাষণ। তাঁর নিজের কণ্ঠ তখন বাঙালির কণ্ঠ হয়ে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল। বাঙালির সেই অবিসংবাদিত নেতা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ নির্মাণে যে খুব সুদূরপ্রসারী হবেন তা মোটামুটি ধারণার মধ্যেই ছিল। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েই তিনি সেই কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন। লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে তিনি যে দূরদর্শী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তার ফলাফল আমরা কয়েক মাসের মধ্যেই দেখেছিলাম। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাজ্য ও মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল আর যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতির ফলে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোও একে একে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে থাকে।
মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে বিশ্বের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক এই মোড়লদের স্বীকৃতি আদায় করা এবং জোট নিরপেক্ষ থাকাটা ছিল নব্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। কারাগারে মানসিক নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার একদিনের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু এই কাজটি শুরু করেছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে অথচ পাকিস্তানের কারাগারে কী ভয়ানক মানসিক নির্যাতনের মধ্যেই না তিনি বেঁচে ছিলেন চিন্তা করলে শিউরে উঠতে হয়। কারাগারের অন্ধকার সেলের একটি বিছানা ও একটি জানালা ছিল তার পৃথিবী। অন্ধকার সেলে থাকতে থাকতে তিনি দিন-রাতের হিসাব ভুলে গিয়েছিলেন। তাঁকে নিয়ে বিচারের নামে প্রহসন শুরু হয়েছিল। সেই সেলের দরজার সামনে তিনি কবর খোঁড়া দেখেছিলেন। তাঁর লাশ এখানে দাফন করা হবে। তাঁর কাছে সে সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড ছিল জীবনের কিছুটা সম্প্রসারণ অথবা মৃত্যুর সাময়িক পশ্চাদপসরণ। এই রকম ভয়াবহ মানসিক পীড়নের মধ্য থেকে মুক্তি পেয়েই প্রথম দুই-এক দিনে নেওয়া এমন কূটনৈতিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল।

মুক্তি পাওয়ার একদিনের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু আরও কয়েকটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অসুস্থ শরীর, চরম বিধ্বস্ত মানসিক অবস্থার মধ্যে মোটেও বাধা হতে পারেনি। অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এই সিদ্ধান্তগুলো স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য খুব দরকারি পদক্ষেপ ছিল। তিনি লন্ডন থেকে দিল্লি হয়ে ঢাকায় আসার সিদ্ধান্ত নিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে আসার আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে চান। এই ইচ্ছার কথা শোনামাত্র লন্ডন থেকে তাঁর দিল্লি যাত্রার জন্য ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে এয়ার ইন্ডিয়ান একটি বিশেষ বিমান প্রস্তুত ছিল। খুব শ্রদ্ধার সঙ্গে মিসেস গান্ধীর এই সহযোগিতা বঙ্গবন্ধু প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এর পরিবর্তে ব্রিটিশ বিমানবহরের একটি বিমানে তিনি দিল্লি হয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন।

কয়েকটি বিষয় এখানে খেয়াল করতে হবে। এয়ার ইন্ডিয়ান বিমানে না গিয়ে তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে খুব কৌশলে জানিয়ে দিলেন যে, তিনি যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা নিজে নেবেন। কারও দয়ায় তিনি দেশ চালাবেন না। দিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই ভারতীয় সেনাদের কবে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসা হবে তা সরাসরি জনতে চেয়েছিলেন। কারণ তিনি তাঁর স্বাধীনতা-প্রিয় মানুষদের কাছে ফিরতে চেয়েছিলেন এই নিশ্চয়তা নিয়ে যে, ভারতীয় বাহিনীর তাদের দেশে ফিরে যাবে, বাংলাদেশ ভারতীয় বাহিনীর দখল ভূমিতে পরিণত হবে না। তার বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম থাকবে।

ছোট দেশের বড় মনের বড় মনের অধিকারী এক রাষ্ট্রপতি পেয়েছিলাম আমরা। যার পররাষ্ট্র নীতি ছিল সবচাইতে সুন্দর সুদূরপ্রসারী “সকলের সাথে বন্ধুত্ব বৈরিতা কারো সাথে নয় “। সত্যি কারের মানুষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু যার জন্ম না হলে আমরা কখনো স্বাধীনতা পেতাম না। সত্যিকারের নেতা, সত্যিকারের পিতা, যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ পেতাম না । বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা বাংলার ইতিহাসে সবচাইতে বড় নিমুখহারাম, রাজাকার, মীরজাফর, পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। খুনিরা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে তার আদর্শকে হত্যা করতে। কিন্তু তা পারেনি বা পারবেও না। বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন বেঁচে থাকবেন হাজার বাঙালির হৃদয়ে। দর্শনে ও কর্মে বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব। শোকাবহ ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা ভরে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি। তার পরিবারের সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তোমাকে হাজার সালাম।

লেখক: শেখ মাজেদুল হক ,সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান, মার্কেটিং বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর।

Social Media Sharing
https://www.uttorbangla.com/wp-content/uploads/Circular-MBAProfessional-Admission_9th-Batch-1.jpg

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful