আর্কাইভ  শনিবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২১ ● ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   শনিবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২১

পবিত্র আশুরা পালনে সৈয়দপুর প্রস্তুত॥ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি

বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট ২০২১, দুপুর ০১:১৯

স্টাফ রিপোর্টার,নীলফামারী॥ পবিত্র আশুরা (মহরম) পালনে নীলফামারীর অবাঙ্গালি অধ্যুষিত শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের একটি অংশ ভিন্ন আঙ্গিকে তাদের তরিকানুযায়ী পালন করতে প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। এদিকে ইমামবাড়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠানাদি সম্পর্ণ করতে গোয়েন্দা নজরদারী সহ পুলিশ রয়েছে সতর্ক অবস্থায়। আজ বৃহস্পতিবার(১৯ আগষ্ট/২০২১) সরেজমিনে জানা যায়, সৈয়দপুরে বিগম সময় ধরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তাজিয়া মিছিল বের হতো। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে গত বছর তাজিয়া মিছিল বের করা হয়নি। তবে সীমিত আকারে পাইকরা মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিকী কারবালায়গিয়ে তাদের মানত প্রক্রিয়া শেষ করেছিল। এবারও একই ভাবে সৈয়দপুর শহরে ৪৪টি ইমামবাড়ায় তাজিয়া করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে প্রতিটি ইমামবাড়ায় দোয়াপাঠ ও শরবত বিতরণ হয়েছে। ইমাম হোসেনের মাজারকে স্মরণ করে তৈরি করা হয়েছে এসব তাজিয়া। সৈয়দপুরে শুধু তাজিয়া মিছিল নয়, আশুরা উপলক্ষ্যে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঐতিহ্যবাহী লাঠি, তলোয়ার ও আগুনের বিভিন্ন ধরনের খেলা হয়। একই সঙ্গে মুখে উচ্চারিত হয় “ইয়া হোসেন, ইয়া হোসেন”। কেউবা অঝোর নয়নে কাঁদেন আর ইমাম হোসেনের মৃত্যুর স্মরণে মাতম গীত গাইতে থাকেন। প্রতি ইমামবাড়ায় সারারাত ঢোল বাজনা,তাজিয়া মিছিল, লাঠি খেলা, ইমাম হোসেনের ঘোড়ার প্রতিকৃতি হিসাবে মানত করে পাইক বাধা, ইমামবাড়ায় ফাতেহা পাঠ, নিশান চড়ানো হয়ে থাকে। যা পুলিশি প্রহরায় এবারেও স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। সৈয়দপুর অফিসার্স কলোনী ইমামবাড়ার খলিফা মো. মাসুদ ওয়ারসি জানান, ১ মহরম কারবালার ঘটনার স্মরণের পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে পবিত্র আশুরা পালন করা হবে আগামীকাল শুক্রবার। এখন প্রতিদিন ইমামবাড়া পরিস্কার করা, দোয়াপাঠ ও শরবত বিতরণ চলছে। শহরের হাতিখানাস্থ কেন্দ্রীয় কারবালায় আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এর আনুষ্ঠানিকতা।শহরের নতুন বাবুপাড়া ইমামবাড়া কমিটির সভাপতি সাকির হোসেন বাদল জানান, মূলতঃ মহরমের ৭ তারিখের পর থেকে শহর জুড়েই দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে।তারা দেখতে আসেন, দোয়া পড়েন, ভক্তি করেন। তবে বিগত বছরের ন্যায় এবারো স্বাস্থ্যবিধি মেনে এর আয়োজন করা হয়েছে। আর এজন্য ইমামবাড়ায় অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে।সৈয়দপুর হাতিখানায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় প্রতীকী কারবালার আয়োজক কমিটির সদস্য হিটলার মোহাম্মদ শাহজাদা জানান, মহরমের ৭ তারিখে কারবালা থেকে কিছু মাটি শহরের প্রতিটি ইমামবাড়ায় নিয়ে যান সেখানকার খলিফারা। বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী সে মাটি একটি পাত্রে করে তাজিয়ার নিচে সংরতি রাখা হয়। এরপর তাজিয়াকে কেন্দ্র করে চলে অন্যান্য রীতিনীতি পালন। বিধি নিষেধ থাকায় এবারে তাজিয়া মিছিল আসছেনা এ কারবালায়। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, ইমামবাড়ার কমিটির সভাপতিদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। তাজিয়া ও পাইক মিছিল বন্ধ রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধর্মপ্রাণ শহরবাসী ইমামবাড়ায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন অনুষ্ঠানস্থলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বলম, তরবারি, লাঠি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।

মন্তব্য করুন


Link copied