আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১ ● ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ক্ষমতায় এসে জয়বাংলা শ্লোগান নিষিদ্ধ করে -নীলফামারীতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর ২০২১, দুপুর ০৪:৫৬

স্টাফ রিপোর্টার,নীলফামারী॥ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলেন তারা জয় বাংলা শ্লোগান নিষিদ্ধ করলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতার যুদ্ধের যে হুঙ্কার, যে রণধ্বনি, যে ধ্বণিতে আমরা পাকিস্থানিদের পরাজিত করেছিলাম। খুনি জিয়া, খুনি মোস্তাক চক্র স্বাধীন বাংলাদেশকে মিনি পাকিস্তান বানানোর জন্য পাকিস্তানী কায়দায় বাংলাদেশ জিন্দাবাদ চালু করেছিল। আর জয় বাংলাকে নিষিদ্ধ করে। আজ মঙ্গলবার(৫ অক্টোবর/২০২১) দুপুর ২টার দিকে নীলফামারী শহরের মশিউর রহমান কলেজ মাঠে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন করে আমরা যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধ করেছিলাম, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বললেন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র চলবে। আবার সেই ধর্মীয় রাজনীতি শুরু করলেন। গোলাম আযমকে এনে নাগরিকত্ব ফেরত দিলেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারী মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে সিনিয়ন মন্ত্রী বানালেন। দেশ স্বাধীনের আজ ৫০ বছর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ৫০ বছরের ৩০ বছর যাদু মিয়ারা যাদুর খেল দেখিয়েছেন। বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমান আগাইরা বাগাইরা টাউট বাটপার মেলেটারী নিয়া ছিলেন ১০ বছর। খালেদা জিয়া ছিলেন ১০ বছর। এরশাদ ছিলেন ১০ বছর। আমরা বঙ্গবন্ধুর আমলে সাড়ে তিন বছর, শেখ হাসিনার আমলে আগে ৫ বছর এখন সাড়ে ১২ বছর, অর্থাৎ আমরা বঙ্গবন্ধু এবং তার রক্তের উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনা মিলে ২১ বছর। আর ৩০ বছর ওরা। আমরা একদিকে যেমন বঙ্গবন্ধুর শতবার্ষিকী পালন করছি, একইসাথে স্বাধীনতার ৫০ বছর আমরা পালন করছি। এইযে উন্নয়ন দেখেন, এই উন্নয়ন কত বছরের হিসাবটা বুঝতে হবে। ওই ৩০ বছরে উত্তরবঙ্গে এবং নীলফামারীতে কী কী উন্নয়ন হয়েছে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,‘বিএনপি ক্ষমতায় এসে রেল-টেল যা ছিল সেটাও বন্ধ করে দিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের ২১ বছরে কী কী হয়েছে হিসাব মিলান। একসময় শুনতাম বিদ্যুৎ কখন আসবে, এখন যায় কখন সেটা বুঝতে পারি না। এখানে ইপিজেড হয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। স্কুল কলেজ, রাস্তা-ঘাট, বাড়ী বাড়ী বিদ্যুৎ, প্রাইমারী স্কুলের চার তলা বিল্ডিং হয়েছে, মানুষের আয় বেড়েছে। ৩০ বছর দেশ উল্টোদিকে গেছে উল্লেখ করে আজকের প্রজম্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ এবং অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর জন্য বঙ্গবন্ধুর খুনিরা যারা ক্ষমতায় ছিল এবং খুনের সুবিধাভোগি তারা দেশকে উল্টো পথে নিয়েছেন। সেটাকে আবার সঠিক পথে এনে উন্নয়ন করা হচ্ছে। এখন আর অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করতে হবে না। এখন দেশকে রক্ষা করতে হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন মুক্তিযোদ্ধাদের কমিটি গঠনে জাতীয় পর্যায় থেকে জেলা ও উপজেলার নির্বাচন নিয়ে উচ্চ আদালতে যে মামলায় জটিলতা সৃস্টি হয়েছিল তা নিরসন হয়েছে। আশা করি আগামী নবেম্বর মাসে সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হবে। বক্তৃতা শেষে নীলফামারী জেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা নিয়ে ‘রণাঙ্গনে বীর বাঙালী’ গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করেন প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আমরা একটা রক্তক্ষয়ি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ওই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি শারীরিক ভাবে উপস্থিত ছিলেন না নয় মাসেও। কিন্তু প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা এবং এদেশের প্রত্যেকটি মানুষ সব সময় তারা মনে করেছেন বঙ্গবন্ধু তাদের পাশে আছেন, তাদের সঙ্গে আছেন। তার কণ্ঠস্বর যখন স্বাধীন বাংলা বেতারে বাজতো, তার সেই বজ্রকণ্ঠ শুনে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা উদ্দিপ্ত হতো। তিনি বলেন, আমার ভাবতে অবাক লাগে। আমরা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমরা তো লেখাপড়া করি, আন্দোলন করি, সংগ্রাম করি, রাজনীতি বুঝি, দেশ কি দেশপ্রেম বুঝি। কিন্তু আমাদের গ্রামের নিরক্ষর কৃষকের সন্তান ১৬ বছর ১৮ বছর ২০ বছর বয়স, একটা থ্রি নট থ্রি রাইফেল নিয়ে একটা লুঙ্গি পড়ে আর একটা গেঞ্জি পড়ে কি অসাধারণ সাহসের সাথে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে লড়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। নূর আরো বলেন, আজকে দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে আমরা হারিয়েছি। যারা এই দেশের স্বাধীনতার শত্রু ছিল তারা দেশি এবং বিদেশি চক্রের সঙ্গে চক্রান্ত করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। তারা মনে করেছে বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারকে হত্যা করতে পারলে এই বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তান বানানো যাবে। কিন্তু তাদের যে ষড়যন্ত্র, তাদের যে অপ কৌশল তাদের যে কুৎসিত উদ্যেশ্য সেটি সফল হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারো ঘুড়ে দাড়িয়েছেন। এসময় জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন, সংরক্ষিত ২৩ মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীম, সাবেক সংসদ সদস্য জোনাব আলী, সাবেক সংসদ সদস্য শামসুদ্দোহা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(নীলফামারী সার্কেল) এ.এস.এম মোক্তারুজ্জামান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডিপুটি কমান্ডার কান্তি ভূষণ কুন্ডু, সদর উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুজার রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি হাফিজুর রশিদ প্রামানিক মঞ্জু। উল্লেখ যে, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মানে এক কোটি ৮৩ লাখ ৩৫ হাজার এবং সৈয়দপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মানে এক কোটি ৭৬ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

মন্তব্য করুন


Link copied