আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১ ● ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১

তিস্তার ঢলে কাকিনা-রংপুর সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, রাত ১১:২৭

লালমনিরহাট  প্রতিনিধি: তিস্তার প্রবল স্রোতে লালমনিরহাটে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা-রংপুর সংযোগ সড়কের পাকার রাস্তা ধসে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফলে দুই জেলার সাথে যোগযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুই পাশে হাজার হাজার মানুষসহ যানবহন আটকে পড়ে গেছে। বুধবার(২০অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার কাকিনা রুদ্রশ্বর মিলন বাজার এলাকার 'গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীর গতিপথ পরির্বতন কাকিনা কাকিনার রুদ্রেশ্বর গ্রামের ঢুকে যায়। ফলে গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে চাপ পেয়ে ধসে যায়। এদিকে ধসে যাওয়ার কারণে লালমনিরহাট ও রংপুরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষ আটকে পড়ে যায়। এছাড়াও দুই রাস্তার ধারে যানবহন আটকে পড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এদিকে রাত থেকে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নঞ্চলে পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। উদ্ধার কার্যক্রমে উপজেলা প্রসাশনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সহায়তা করছেন। ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সড়ক ধসে যাওয়ায় কাকিনা রংপুর যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক শহিদ জানান, কাকিনা ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানি পন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে কাকিনার মহিপুর সেতু রুদ্রেশ্বর এলাকায় পাকা সড়ক ধসে গিয়ে রংপুরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মান্নান জানান, কাকিনা ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জেনে ঘটনাস্থলে রওনা করেছি। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদীন ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যরাজের ৪৪টি গেট খুলে পানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, দেশের উজানে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সিকিম, দার্জিলিং, জলপাইগুড়িতে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে তিস্তা নদীর পানি সমতল বাংলাদেশে মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) মধ্যরাত হতে বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করেছে। বর্তমানে ডালিয়া পয়েন্টে ৫৩.২০ মি. লেভেল-এ, বিপদসীমার ৬০ সে.মি. উপর অবস্থান করছে। বিগত ১২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি সমতল ডালিয়া পয়েন্টে প্রায় ২০০ সেমি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পানি বৃদ্ধি বুধবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আরো ১০-১৫ সেমি. বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) ভোর নাগাদ এই পানি বিপদসীমার নিচে চলে আসতে পারে। উল্লেখ্য, ভারতের উত্তরাখাণ্ড রাজ্যে ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যায় অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত পাঁচজন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। রাজ্যজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িঘর, সেতু ও রাস্তাঘাট। ভূমিধসে রাস্তা আটকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাজ্যের নৈনিতাল, কালাঢুঙ্গি, হলদিবানি, ভবালিসহ আরো অনেক এলাকা। সৃষ্ট এ পানির চাপ কমাতেই ব্যারেজের গেইট খুলে দিয়েছে দেশটি।

মন্তব্য করুন


Link copied