আর্কাইভ  রবিবার ● ২ অক্টোবর ২০২২ ● ১৭ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   রবিবার ● ২ অক্টোবর ২০২২
 
 
শিরোনাম: উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত সোহাগী ও স্বপ্না       দুর্ভোগে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পৌনে দুই লাখ পরীক্ষার্থী       বড় জয়ে এশিয়া কাপ শুরু টাইগ্রেসদের       একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খান আর নেই       রংপুরে জিন-পরীর ভয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক গ্রেফতার      

রংপুর-৬ আসনে উপ-নির্বাচন: ফাঁকা মাঠে গোলের সুযোগ পাচ্ছে না ড. শিরীন শারমিন

বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০১৪, দুপুর ০৩:৪৭

গত ৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার আগে পীরগঞ্জ আসন ছেড়ে দেয়ার পরদিন থেকেই এ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিএম কাদেরের নাম শোনা যায়। এ দুজন পীরগঞ্জ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন এ ব্যাপারে বিভিন্ন মাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে একাধিক রিপোর্টও ছাপা হয়েছে। সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি পীরগঞ্জ আসনের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষে মনোনয়ন উত্তোলন করে প্রার্থিতার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। মনোনয়ন উত্তোলন করেই স্থানীয় নেতারা মনোনয়ন ফরম পূরণ ও প্রার্থীর স্বাক্ষর নিশ্চিতসহ দলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহে সেদিন রাতেই ঢাকায় যান। মঙ্গলবার রংপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে ড. শিরীন শারমিনের প্রার্থিতা নিশ্চিত করেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আগামী শনিবার পীরগঞ্জে আসবেন এবং রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে উপনির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন। এ বিষয়টি আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, আমরা গর্বিত, উপনির্বাচনে শিরীন শারমিনের বিজয়ের ফলে আমরা পীরগঞ্জবাসী একজন মন্ত্রী পাব। এতে করে পীরগঞ্জের ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ একজন হেভিওয়েট প্রার্থীকে উপনির্বাচনে প্রার্থী দেয়ায়।

পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট ৫ তারিখের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নির্বাচনের উপনির্বাচনে প্রার্থী বা দল অংশগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না।

জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থী নুর আলম যাদু মিয়া বলেন, জাতীয় পার্টি উপনির্বাচনে ফাঁকা মাঠে আওয়ামী লীগকে গোল দিতে দেবে না। এ আসনে জিএম কাদের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো কারণে জিএম কাদের প্রার্থী না হলে আমি আবারও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হবো।

জাতীয় পার্টি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সহজে ছাড় দেবে না। কারণ অতীতের ফল অনুযায়ী এ আসন এরশাদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯ জানুয়ারি এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ২০ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ও ২৮ জানুয়ারি বাছাই করে বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং ৩ ফেব্রুয়ারি বৈধ প্রার্থীদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাহারের দিন ধার্য করা হয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।

তফসিল ঘোষণা হলেও উপনির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মাঝে তেমন কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি দুই দলের বহিরাগত প্রার্থীর নাম প্রকাশে অনেকটা অখুশি পীরগঞ্জবাসী। কারণ এর আগে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী ও বর্তমান বিএনপি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে পীরগঞ্জবাসী ভোট দিয়ে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। এ কারণেই বহিরাগত প্রার্থীর প্রতি পীরগঞ্জবাসীর আগ্রহ নেই বললেই চলে। তবে দুই দলের দুই বহিরাগত প্রার্থীর বিপরীতে স্থানীয় একজন শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে হেভিওয়েট বহিরাগত প্রার্থীর সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারত এমন ধারণা অনেকের।

মন্তব্য করুন


Link copied