Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ :: ৮ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১০ : ৪৭ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / বিশ্লেষণ: রসিক নির্বাচনে জাপার সিদ্ধান্ত কতটুকো সঠিক ছিল?

বিশ্লেষণ: রসিক নির্বাচনে জাপার সিদ্ধান্ত কতটুকো সঠিক ছিল?

মুরাদ মাহমুদ সিইও, উত্তরবাংলা ডটকম

রসিক নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টী প্রতিনিয়ত রসিকতা করেছে। জাতীয় পার্টীর চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নির্দেশ না মানার কারনেই দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে যতটা না জাপা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তার চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হলো মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং আব্দুর রউফ মানিক।

ঝন্টু মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় জাপা অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এমন টা মানতে নারাজ দলটি। বরং তারা মনে করছে এরশাদের বাইরে গিয়ে কোন ব্যক্তি ইমেজ রংপুরে মূল্যহীন। যা মানিক এবং মোস্তফার পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে প্রমানিত হলো।

ধারণা করা হচ্ছে এরশাদ পন্থী লোকদের বড় অংশ ঝন্টুকে ভোট দিয়েছে। আর এর পিছনে কলকাঠি নেড়েছে জাপার মহানগর সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা। নির্বাচনী ফলাফলে এর সত্যতাও মিলেছে।

তবে পরাজয়ের কারণে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে সংকটে পড়লো তৃণমূল জাতীয় পার্টীর দুই নেতা মোস্তফা এবং মানিক।  বর্তমান পরিাস্ততিতে জাপা তাদের দলে টানবে এমনটা মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। নির্বাচনের পরও বলা যায়, জাপা দলীয় ভাবে একজন প্রার্থী মনোনয়ন দিলে জয় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু সেই পথে কাটা হয়ে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী জাপার যে ক্ষতি করেছে তাতে এরশাদ তাদের ক্ষমা করবেন বলে মনে হয় না। বিশেষ করে মশিউর রহমান রাঙ্গা সে ক্ষেত্রে বড় বাঁধা হয়ে দাড়াবেন। তবে এরশাদের কোন কথাই যেহেতু শেষ কথা নয় তাই দুই বিদ্রোহী প্রার্থীকে যে আবার দলে ফিরিয়ে নিবেন না তা বলা যাবে না।

কেও কেও মনে করছে রাঙ্গাকে মনোনয়ন দেওয়া এরশাদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। মানিক এবং মোস্তফাকে মনোনয়ন না দেওয়ার পিছনে কয়েকটিকারণ ছিল। প্রথমত, মোস্তফা যেহেতু উপজেলা চেয়ারম্যান আছে সেহেতু তাকে এরশাদ সিটি নির্বাচনের প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা করেননি। দ্বিতীয়ত, পৌর মেয়র থাকা অবস্থায় মানিকের নামে বেশ কিছু দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে। যার ফলে নগরবাসীর মধ্যে তার সমন্ধে অনেকটাই নৈতিবাচক মনোভাব ছিল। এছাড়া মেয়র থাকা অবস্থায় তিনি এরশাদের খুব বেশী আস্থা করতে পারেনি।

অনেকেই হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন যে রাঙ্গা কে কিসের ভিত্তিতে এরশাদ দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করলেন? এর পিছনেও কিছু কারণ রয়েছে। প্রথম কারণ, দলীয় যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দলের প্রেসিডিয়াম সভায়। রাজনৈতিক ভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে রাঙ্গার গ্রহণযোগ্যতা অন্য দু’জনের থেকে অনেক বেশী। দ্বিতীয়ত, রওশন এরশাদের কাছে রাঙ্গার অবস্থান অনেক বেশী শক্তিশালী। এটা সুস্পষ্ট করে বলা যায় রাঙ্গার মনোনয়ন পাওয়ার পিছনে রওশন এরশাদের ভূমিকা সব থেকে বেশী ছিল। তৃতীয়ত, রাঙ্গা জাপার প্রভাবশালী নেতা হওয়ার পরও তাকে যেহতু সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নাই সেহেতু সিটি নির্বাচনে সে মনোনয়নের প্রথম দাবিদার। চতুর্থ, এরশাদের সব থেকে আস্থাভাজন নেতা হচ্ছেন রাঙ্গা সেহেতু সিটি মেয়র হিসেবে তিনি রাঙ্গাকে দেখতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। সর্বোপরি বাতাসে যে কথাটা ভেসে বেড়িয়েছে ’মনোনয়ন বানিজ্য’ সেটাকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

জাতীয় পার্টী এবং এরশাদকে সিড়ি করে মানিক এবং মোস্তফা আজকের অবস্থানে এসেছে এটা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। তার পরও তারা এরশাদের সিদ্ধান্ত না মানার পিছনেও বেশ কিছু সুনিদ্রিষ্ট কারণ রয়েছে।

মানিক দীর্ঘ দিন পৌর মেয়র ছিল। সে যে ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছে তা থেকে সরে আসা তার পক্ষ্যে সহজ ছিল না। শুধু ক্ষমতাই নয়, পৌর মেয়র থাকা অবস্থায় সে বিশাল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছে। এছাড়া মানিকের চারদিক এমন একদল সুবিধাবাদী মানুষ ঘিরে রেখেছিল যারা মানিককে পিছন থেকে আরও বেশী এগিয়ে দিয়েছে। অবশ্য নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর মানিক তাদের আর পাশে পাবে বলে মনে হয় না।

মোস্তফা জাপার সমর্থন নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিল। কিন্তু ’ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার’ এর মত উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি কখনও স্বাচ্ছন্দবোধ করেননি। যারা তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল তাদের আশা আকাংখার বিন্দু পরিমাণ তিনি পূরণ করতে পারেননি। যার ফলে তিনি উপজেলা পদ ছেড়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দিতা নেমেছিল।

তবে রাঙ্গাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর জাপার বিদ্রোহী দুই প্রার্থী যে ভাবে এক মঞ্চে উঠে আল্টিমেটাম দিয়েছিল তাতে মনে হয়েছে তারা রাঙ্গা ঠেকাও আন্দোলনে নেমেছে। এরপর তারা কথিত ৫ হাজার জাপা নেতা নিয়ে পদত্যাগ করে এবং গঠন করে তৃনমূল জাতীয় পার্টী। কিন্তু তৃনমূল জাতীয় পার্টী থেকেও তারা একজন প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারেনি। দৃ’জনই নির্বাচন করেছে। যে সব মানুষদের নিয়ে (প্ররোচনায়) তৃনমূল জাতীয় পার্টী গঠণ করা হয়েছিল এখন তাদের ১০০ জনকে মানিক এবং মোস্তফা কাছে পাবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

তবে এই দুইজন এরশাদের অবাধ্য হওয়ার আসল কারণ এরশাদের সিদ্ধান্তহীনতা। এক এক সময় তিনি এক এক কথা বলে পরিস্থিতি কঠিন করে তোলেছে। সব থেকে বড় ভুল ছিল দলীয় ভাবে কাওকে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত। যার ফলে জাপার সব নেতাই নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়ে। আর এমন একটা সময় জাপা চেয়ারম্যান রাঙ্গাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিল যখন সবার ফিরে আসার পথ রুদ্ধ। এরশাদ যদি পূর্বে থেকে রাঙ্গাকে প্রার্থী ঘোষণা করতো তবে এরকম পরিস্থিতি নাও হতে পারতো।

ভোটের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে রিতীমত বিপর্যস্ত আব্দুর রউফ মানিক এবং মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। মানিককে যে কিছু মানুষ রঙ্গিন চশমা পড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে তা এখন দিনের আলোর মতই পরিস্কার। সর্বশেষ নির্বাচনের আগের রাতে মানুষ কে বিভ্রান্ত করতে একটি পত্রিকাকে ব্যবহার করে যে কান্ড করেছে তাতে তার হীণমান্যতাই প্রকাশ পেয়েছে।

তবে সব থেকে বড় ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে মোস্তফা। নির্বাচনের জন্য তাকে ছাড়তে হয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ। সারা জীবনের অর্জিত সম্পদের প্রায় সবটুকো ব্যয় হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণায়। তবে এতকিছু হারানোর পরেও সাধারণ মানষের যে ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন সত্যি তা অভিভূত হবার মত। নির্বাচিত না হতে পারলেও সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে জাপার দলীয় মনোনয়ন তারই প্রাপ্তী ছিল।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful