আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১ ● ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১

এক বধুর ২ বর

শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০১৪, দুপুর ০৪:৪৪

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে রাফিয়া খাতুন লিপির সাথে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর গ্রামের আজিজার রহমানের পুত্র জাবের আলীর বিয়ে হয় প্রায় ৬ বছর পূর্বে। বিয়ের পূর্ব থেকেই লিপির সাথে তার খালাত ভাই গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের ধামুর গ্রামের এন্দাজ আলীর পুত্র শফিকুল ইসলামের গোপন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ফলে বিয়ের পর থেকেই লিপি ও জাবের আলীর দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিয়ের প্রায় ২ বছর পর লিপি পিতার বাড়ী চলে যান। স্বামী জাবের আলী স্থানীয়ভাবে অনেক চেষ্টা করেও স্ত্রীকে নিজ ঘরে নিতে ব্যর্থ হন। ফলে স্ত্রীকে ফিরে পেতে রংপুর জেলার নির্বাহী মেজিষ্ট্রেট ৪নং আদালতে ১০০ ধারায় মামলা করেন। যার এমআর নং- ২৮০/১০।

মামলার প্রেক্ষিতে স্ত্রী লিপি আদালতকে জানান যে, যৌতুকের কারণে স্বামী তাকে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছেন। তাই তিনি স্বামীর বাড়ী যাবেন না। এর পরই স্ত্রী লিপি স্বামী জাবের আলীর বিরূদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে আদালতে মামলা করেন। যার মিসপি. নং-২৯৯/১০ এবং সিআর নং- ২৭/১১।

এছাড়াও লিপি পরবর্তীতে স্বামীর বিরূদ্ধে মোহরানা ও খোরপোষ আদায়ে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া সহকারী জজ ও পারিবারিক জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার পারিঃ নং- ১৪/১২।

মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। সিআর ২৭/১১নং মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত গত ৬ জানুয়ারী রায়ে ১ বছর ২ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ২ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে। ফলে স্বামী জাবেদ আলী কারাবন্দী হন। এ সুযোগে স্ত্রী লিপি তার প্রেমিক শফিকুল ইসলামের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্বামী জাবের আলী কারাবন্দী হলে রংপুর জেলার দায়রা জজ আদালতে আপীল করা হয়। যার মামলা নং- ৪/১৪।

আপীল মামলায় জাবের আলী জামিনে মুক্ত রয়েছেন। এদিকে লিপি নতুন স্বামীর বাড়ীতে ঘর-সংসার করছেন বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ বিষয়ে স্থানীয় গঙ্গাচড়া ইউপি সদস্য (৩নং ওয়ার্ড) শ্যামল চন্দ্র রায়ের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শফিকুল তার খালাতো বোন লিপিকে বিয়ে করেছে বলে শুনেছি। বর্তমানে লিপি শফিকুলের বাড়ীতে স্ত্রী হিসেবে ঘর-সংসার করছেন। পূর্বের স্বামীকে তালাক দিয়েছে কি-না তা জানা নেই। একই বিষয়ে গঙ্গাচড়া, বড়বিল ও লহ্মিটারী ইউনিয়নের বিবাহ রেজিষ্ট্রারদের সাথে যোগাযোগ করলে তারাও লিপির পূর্বের স্বামীকে তালাক দেওয়ার বিষয়ে জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। পূর্বের স্বামীকে তালাক না দিয়েই প্রেমিককে বিয়ে করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য করুন


Link copied