আর্কাইভ  শনিবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২১ ● ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   শনিবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২১

তিস্তা নদীর বাইশপুকুর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ সংস্কারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

শুক্রবার, ৩০ মে ২০১৪, রাত ০৮:১২

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২০০২ সালে ১৪ জুন এই বাঁধের নির্মান কাজ শুরু করা হয়েছিল। ওই বছরে বন্যায় তা ভেঙ্গে যায়। এরপর ২০০৬ সালে এলাকাবাসী সেচ্ছাশ্রমে ৪ কিলোমিটার জুড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাইশপুকুর বাঁধ নির্মান করে। এরপর এলাকাবাসীর আবেদনে ২০০৯ সালে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষে বাঁধটির উপর দিয়ে ২ কিলোমিটার ইটের রাস্তা তৈরি করে দেয়। আবার ২০১৩ সালের ১৬ জুলাই তিস্তা নদীতে স্মরনকালের উজানের ঢলে বাইশপুকুর সেচ্ছাশ্রম বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধটির ১০০মিটার বিধ্বস্থ্য হয়। ফলে পশ্চিম বাইশ পুকুর, পূর্ব বাইশপুকুর, ভেন্ডাবাড়ী, ছাতুনামা,সতীঘাটসহ ১৫টি গ্রামের ১৫হাজার পরিবারের বসতভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ করে।

বাঁধটি সংস্কারের জন্য ত্রান ও পূণঃবাসন মন্ত্রনালয় চলতি বছর কাবিখার ১৪ মেট্রিক টন গম ও কাবিটা প্রকল্পে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। আবার একই প্রকল্পে ৪০দিনের কর্মসৃজন কর্মসুচীর নিয়োগকৃত দুই দফায় ৮৬ জন শ্রমিক দিয়ে বাঁধের কাজ করা হয়। ফলে এই সব কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকদের মুজুরী বাবদ আরো ১১ লাখ ৯৭হাজার ১২০টাকা এখানে ব্যয় দেখানো হয়।

বাঁধ সংস্কার প্রকল্পের চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যা আনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমি নাম মাত্র প্রকল্প চেয়ারম্যান ছিলাম। বাঁধটি সংস্কারে ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক হুদা নিজেই সব কিছু করেছেন। শ্রমিকের পরিবর্তে মেশিনের মাধ্যমে বাঁধে বালু ফেলে সেখানে শ্রমিকরা কাজ করেছে দেখিয়ে মাষ্টার রোলের যাবতীয় কাগজ পত্রাদী ভুয়া স্বাক্ষরে তৈরী করে পিআইও অফিসে জমা দেন ইউপি চেয়ারম্যান। অথচ আমি প্রকল্প চেয়ারম্যান হিসাবে আমাকে কোন মূল্যায়ন করা হয়নি।

খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়াডের ইউপি সদস্য রমজান আলী বলেন, ২০০৬ সালে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি নির্মান করেছিল। সেই বাঁধটি এবার সংস্কারে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শামসুল হক হুদা এলাকার কোন শ্রমিক কে কাজে না নিয়ে মেশিনের মাধ্যমে বালু তুলে নাম মাত্র বাঁধটি সংস্কার করেছে। বাঁধের দৈর্ঘ্য ধরা ছিল ৬ কিলোমিটার ও উচ্চতা ৭ ফিট। কিন্তু নিয়ম মাফিক না করে বাঁধের উচ্চতা করা হয় ৫ ফিট।

বাইশপুকুর গ্রামের ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসুচীর শ্রমিক অলিজা বেগম (৪০) জানায়, এখানে মেশিনের সাহার্য্যে বালু তুলে বাঁধ সংস্কার এবং কোদাল দিয়ে সমান করার কাজে তাদের ব্যবহার করা হয়। এ জন্য কোন টাকা দেয়া হয়নি। তবে তারা ৪০ দিনের কর্মসৃজনের মুল টাকাটি পেয়েছে। এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন এই বাঁধের বালু সমান করতে গিয়ে গ্রামের কাঁচা সড়ক গুলো তারা সংস্কার করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা সামছুল হক হুদার সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি মুঠোফোন ধরেননি।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানকে সরকারী বিধি মোতাবেক স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছিল। এ ছাড়া বাঁধ নির্মানে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য করুন


Link copied