Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ :: ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ২৮ অপরাহ্ন
Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / দিনাজপুর জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

দিনাজপুর জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

MAP OF DINAJPURপ্রারম্ভিকাঃ

দিনাজপুর জেলা সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ১১২-১২০ ফুট গড় উচ্চতায় অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে এ জেলা ২৫০১৪ এবং ২৫০৩৮র্ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৮০০৫র্ ও ৮৫০২৮র্ দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। মোট ১৩ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই জেলার আয়তন ৩৪৩৭.৯৮ বর্গ কিলোমিটার। ২০০১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী এর মোট জনসংখ্যা ২৭,৪৭,৫০০ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১৪,০৩,৯৭০ জন এবং মহিলা ১৩,৪৩,৫৩০ জন। উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে বিস্তৃত এ জেলার উত্তরে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়, দক্ষিণে গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট, পূর্বে নীলফামারী ও রংপুর জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।

 লোকশ্রুতি অনুযায়ী জনৈক দিনাজ অথবা দিনারাজ দিনাজপুর রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নামানুসারেই রাজবাড়ীতে অবস্থিত মৌজার নাম হয় দিনাজপুর। পরবর্তীতে বৃটিশ শাসনামলে ঘোড়াঘাট সরকার বাতিল করে বৃটিশরা নতুন জেলা গঠন করে এবং রাজার সম্মানে এ জেলার নামকরণ করে দিনাজপুর। কোম্পানী আমলের নথিপত্রে প্রথম দিনাজপুর নামটি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। তবে ভৌগলিকভাবে দিনাজপুর মৌজাটি অতি প্রাচীন। দিনাজপুরের ভূতপূর্ব কালেক্টর ও বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ মিঃ ওয়েষ্ট মেকট সর্বপ্রথম দিনাজপুর নাম ও তার উৎস উদঘাটন করেন বলে প্রসিদ্ধি আছে।

 ঐতিহাসিক বিবর্তন

দিনাজপুর জেলার বর্তমান আয়তন ৩৪৩৭.৯৮ বর্গ কিলোমিটার। তবে পূর্বে এ জেলা আয়তনে ছিল সুবিশাল। পাল রাজবংশের চরম উন্নতির সময়ে দিনাজপুর সমগ্র রাজশাহী বিভাগ ও ঢাকা জেলার কতকাংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। জেলারূপে ঘোষিত হওয়ার পরবর্তী সময়ে এর বিস্তৃতি পূর্বের দিনাজপুর অপেক্ষা অনেক ছোট হয়েছে। ইংরেজ শাসনের প্রথম দিকে ও মুসলিম রাজত্বের পতনের সময়ে বর্তমান মালদহ ও বগুড়া জেলার প্রায় পনের আনা এবং রংপুর রাজশাহী ও পুর্নিয়া জেলার অনেকাংশ দিনাজপুরের অংশ ছিল।ঐতিহাসিক বুকানন এর আয়তন ৫৩৭৪ বর্গমাইল বলে উল্লেখ করেছিলেন।

ইংরেজ আমলের মাঝামাঝির দিকে অর্থাৎ ১৭৫৭ হতে ১৮৬১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পরিচালিত রাজস্ব জরিপে (Revenue Survey) এ সুবিশাল ভূ-ভাগের আয়তন হ্রাস করে ৪,৫৪৩ বর্গমাইলে আনা হয়। ১৮৭২ খৃষ্টাব্দে তা ৪,১৪২ বর্গমাইলে নেমে আসে এবং ইংরেজ শাসনের শেষ দিকে ৩,৯৪৬ বর্গমাইলে এসে দাঁড়ায়। শাসনকার্য প্রতিষ্ঠা ও সুচারুরূপে তা পরিচালনার জন্য ক্রমাগত আয়তন হ্রাস করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।

১৮০০ হইতে ১৮০১ খৃষ্টাব্দে দিনাজপুরের বড় বড় এষ্টেট পূর্ণিয়া, রংপুর এবং রাজশাহী জেলার সংগে যুক্ত করা হয়। ১৮৩৩ খৃষ্টাব্দে আর একটি সুবিস্তৃত অংশ বগুড়া ও মালদহ জেলার সাথে যুক্ত করার পূর্ব পর্যন্ত আর কোন রদবদল করা হয়নি।

১৮৬৪-১৮৬৫ খৃস্টাব্দে খট্রা নামক একটি সুবিশাল পরগণাকে এ জেলা হতে ছেঁটে বগুড়া জেলার সাথে যুক্ত করা হয়। ১৮৬৮-১৮৭০ সালের দিকে এ জেলার একটি বৃহৎ অংশ বগুড়া ও মালদহ জেলায় যুক্ত হয়। ১৮৯৭-১৯৯৮ খৃষ্টাব্দে এ জেলার দক্ষিণ অংশে অবস্থিত মহাদেবপুর থানা রাজশাহীতে স্থানান্তরিত হয়। পাকিস্তান-পূর্ব আমল পর্যন্ত আর কোন রদবদল হয়নি।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট রাজ্য ইংরেজ শাসিত ভারতের বুকে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি আলাদা রাষ্ট আত্মপ্রকাশ করে। ঐ সময়ে রাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুসারে এ জেলার দশটি থানা ভারতের পশ্চিম বাংলা প্রদেশের অন্তর্ভূক্ত হয় এবং পশ্চিম দিনাজপুর জেলা গঠন করে। অপরদিকে পশ্চিম বাংলার জলপাইগুড়ি জেলা হতে তেতুলিয়া, পঞ্চগড়, বোদা, দেবীগঞ্জ ও পাটগ্রাম থানা দিনাজপুরের সাথে যুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সরকার শাসনকার্যের সুবিধার্থে পাটগ্রাম থানাটি রংপুরের সাথে এবং দিনাজপুরের দক্ষিণ অংশের ধামইর, পোরশা ও পত্নিতলা থানা তিনটি তৎকালীন রাজশাহীর নওগাঁ মহকুমার সাথে যুক্ত করে। সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে দিনাজপুরের দুটি মহকুমা ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় আলাদা জেলার মর্যাদা লাভ করে।

দিনাজপুর শহরের গোড়াপত্তনঃ

বাংলাদেশে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসনের সূচনায় সৃষ্ট জেলা শহরগুলির অন্যতম ছিল দিনাজপুর। পলাশী যুদ্ধের আট বছর পর ১৭৬৫ খৃষ্টাব্দে ইংরেজ সেনাবাহিনী অত্র এলাকা জয় করে। ফলে নবাবী শাসনের অবসান হয়, পতন হয় সাবেক রাজধানী ঘোড়াঘাট নগরের। এরপর গড়ে উঠতে শুরু করে দিনাজপুর শহর।

ইংরেজ-পূর্ব যুগে প্রায় সমগ্র উত্তরবঙ্গ এলাকা নিয়ে নবাব শাসিত ঘোড়াঘাট সরকারের (জেলা) ব্যাপ্তি ছিল এবং সরকারের শাসনাধিকরণ ছিল ঘোড়াঘাট নগর। এই সরকারের সর্বশেষ মুসলিম ফৌজদার মীর করম আলী ইংরেজ সেনাপতি মিঃ কোর্ট্রিল এর সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হন। ফলে ঘোড়াঘাট নগরসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চল ইংরেজদের পদানত হয়। বিজয়ী কোম্পানী সরকার কর্তৃক উত্তর বঙ্গ শাসনের জন্য যে বৃহৎ জেলাটি গঠিত হয়(১৭৮৬), তার শাসনাধিকরণ বা জেলা শহর স্থাপিত হয় দিনাজপুর নামক মৌজায়। এই মৌজায় দিনাজপুর রাজবংশের রাজধানী ছিল প্রথমাবধি। সেই সূত্রে একই মোজায় ইংরেজ আমলের জেলা শহরটিরও সুত্রপাত ঘটে বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন।

 দিনাজপুর গেজেটিয়ারের মতে ১৭৮৩ খ্রিষ্টাব্দে জেলা শাসনের জন্য দিনাজপুরে স্বতন্ত্র স্থায়ী কালেক্টরেট স্থাপিত হয়। মিঃ গেস্নজিয়ারের মতে তার পূর্ব পর্যন্ত দিনাজপুর-রংপুর যুক্ত কালেক্টরেট ছিল। রাজসেরেস্তা থেকে নথিপত্র প্রত্যাহার করে জিলা স্কুলের পুরাতন ভবনটিতে (সম্প্রতি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে) আদি কালেক্টর অফিস স্থাপিত হয়। জেলা স্কুল হওয়ার পূর্বে ভবনটি রাজকাচারী ছিল। তখন কালেক্টর ছিলেন মি. ম্যারিওয়েট। রাজা ছিলেন রাজবংশের নাবলক উত্তরাধিকারী রাজা রাধানাথ। তবে কম্পানির চক্রান্তে নাবালক রাজার রাজজমিদারীর ছিল চরম ছিন্নভিন্ন অবস্থা।

১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে বিভাগ ও উপবিভাগ গঠিত হওয়ায় দিনাজপুর জেলায় প্রথম নিয়মিত শাসননীতি প্রবর্তন করেন কালেক্টর মিঃ এইচ জে হ্যাচ। তজ্জন্য গোলকুঠির চত্বরে স্থায়ী কালেক্টরেট ভবন নির্মিত হয় এবং নিয়মিত নথিপত্র প্রবর্তন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাও চালু হয়। গেজেটিয়ারের মতে মিঃ হ্যাচ কঠোর সাম্রাজ্যবাদী, প্রভুত্ববাদী তথা ঝানু কূটবুদ্ধির অধিকারী ছিলেন। তারই ব্যবস্থাপনায় জেলায় প্রথম বৃটিশ ধারায় শাসন কাঠামো প্রচলিত হয়, যা আজ পর্যন্ত কালেক্টরেট-কেন্দ্রিক শাসনের গতিধারায় প্রবহমান।

গেজেটিয়ারে প্রাপ্ত তথ্য মতে মিঃ হ্যাচের আমলে দিনাজপুরে প্রথম নিজস্ব কালেক্টর ভবন নির্মিত হয় (১৭৮৬)। বাহাদুর বাজার মহল্লায় অবস্থিত উক্ত ভবনের নাম ছিল ‘গোলকুঠি প্রাসাদ’। মধ্যযুগের ইউরোগীয় স্থাপত্য ঢঙে নির্মিত এই প্রাসাদ দিনাজপুরের এক বিশিষ্ট নিদর্শন। মি. হ্যাচ ১৭৮৬-১৭৯৩ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত দিনাজপুর জেলার কালেক্টর ছিলেন। বিপত্নীক মি. হ্যাচ কেশরী বিবি নামক এক দেশীয় মেয়েকে বিয়ে করেন। প্রাসাদ চত্বরের চারিদিকে নির্মিত হয় দিনাজপুরের প্রথম কালেক্টরেটের দাপ্তরিক ভবন।

দিনাজপুরে ইংরেজ শাসনের প্রবর্তন ও জেলা কালেক্টরেট নির্মিত হওয়ায় এবং সেই সঙ্গে সুবিন্যস্ত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ায় আধুনিক জেলা শহরটির গড়ন শুরু হয় রাজাদের দেয়া ক’টি মৌজার ওপর। রাজবাড়ী থেকে সমস্ত ইংরেজ নথিপত্র প্রত্যাহার করে গোলকুঠি ভবনে স্থাপন করা হয়। মুগল আমলের ঘোড়াঘাট নগর তখন সম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত।

দিনাজপুর শহর পৌরাণিক নদী পুনর্ভবার তীরে অবস্থিত। অবশ্য ভূ-তাত্ত্বিকভাবে শহরটি গড়ে উঠেছে ঘাঘরা নামক একটি মৃত নদীর গর্ভভূমির উপর। মৃত ঘাঘরা-গাবুরা-কাচাই প্রভৃতি নদী এক সময় পুনর্ভবারই উপনদী ছিল। শহরটির সূচনা যুগে সে সব নদীর প্রবল স্রোতধারা বহমান ছিল। দিনাজপুর গেজেটিয়ারের মতে ঘাঘরা-কাচাই (কাঁচমতি)-গাবুরা-গর্ভেশ্বরী নদী অভিন্ন সম্পর্কে জড়িত এবং প্রায় একই উৎস থেকে উৎপন্ন। শহরের উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত আগত এবং রাজবাড়ীর পূর্ব দিক হয়ে দক্ষিণ দিকে ধাবমান মৃতপ্রায় নদীটির নাম গাবুরা বা গর্ভেশ্বরী এবং শহরের বুক চিরে অধুনা যে ক্ষীণকায় আধমরা ধারাটি পুনর্ভবায় মিলিত হয়েছে তা ঘাঘরা নামে পরিচিতি।

 মুগল আমলের ঘোড়াঘাটকে বলা হতো ৫২ পট্টি ও ৫৩ গলির শহর, তেমনি বৃটিশ আমলের দিনাজপুর ছিল ৭ তলা ও ৮ পট্টির শহর। তলা অন্ত্যনামীয় মৌজাগুলি নিমতলা, গনেশতলা, কালিতলা, ষষ্ঠীতলা, ফুলতলা, বকুলতলা, লক্ষীতলা এবং পট্টি অন্ত্যনামীয় মৌজাগুলি হল মালদহপট্টি, ঢাকালপট্টি, চুড়িপট্টি, শাখারীপট্টি, কাঁয়াপট্টি, বাসুনিয়াপট্টি, চাউলিয়াপট্টি এবং ঠোঙ্গাপট্টি ইত্যাদি।বর্তমানে শহরটির মোট মহল্লার সংখ্যা ২৬টি। পূর্বের তুলনায় মৌজা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও তলা বা পট্টি অন্ত্যনামীয় কোন নতুন মৌজা অন্তর্ভূক্ত হয়নি। তথ্যসূত্র: দিনাজপুর জেলা তথ্য বাতায়ণ

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful