আর্কাইভ  শনিবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২১ ● ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   শনিবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২১

পুকুরের পানি দিয়ে ডাল রান্না; কুলখানির দাওয়াতের খাদ্যে বিষক্রিয়ায় নীলফামারী ৬৩৫ জন অসুস্থ

বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৩, রাত ১০:৫৮

নিজস্ব সংবাদদাতা,নীলফামারী॥ পুকুরের পানি দিয়ে ডাল রান্না করায় কুলখানির দাওয়াত খেয়ে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের পূর্ব খুটামারার চেয়ারম্যান পাড়া গ্রামে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ৬৩৫ জন নারী পুরুষ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তারা বমি, পেটের পীড়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। সেখান দুটি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সেখানে অসুস্থরা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে বলে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ মাহবুব হাসান লেলিন জানান। তিনি আরও বলেন এক সাথে ৬৩৫ জন অসুস্থ হবার নেপথ্য খুঁজতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে যে কুলখানির দাওয়াতে পরিবেশ করা ডালের সংকট দেখা দিলে রান্না করা ডালে আয়োজকরা তড়িঘড়ি করে পুকুরের পানি ঢেলে দিয়ে সেই ডাল পরিবেশ করে। এ কারণেই খাদ্যে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয় বলে ধারনা করা হচ্ছে। খুটামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামসুল আলম কবিরাজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার জানান, গত সোমবার ওই গ্রামের আজাহা নুর রহমান তার মৃত মা ও বাবার কুলখানির দাওয়াত করে সহস্রাধীক গ্রামবাসীদের। দুপুর ১২টা থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত দাওয়াতি লোকজন এসে দাওয়াত খেয়ে নিজ নিজ বাড়ি চলে যায়। এলাকাবাসী জানায় কুলখানির জন্য রবিবার রাতে আজাহানুর রহমান ভাত মাংস ও ডাল রান্না করা শুরু করে। যা পরেরদিন সোমবার পরিবেশন করে খাওয়া শুরু করা হয়। দাওয়াতি লোকজনের মধ্যে আব্বাস আলী (৩৫), মনিজন (৩২) ও নূরবানু (২৫) জানান দাওয়াত খেয়ে আসার পর মঙ্গলবার ভোর থেকে একে একে সকলে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে।সৈয়দ আলী (৫০) বলেন অসুস্থ হয়ে পড়া তিনি নিজে সহ সকলে বমি আর পাতলা পায়খানা করতে শুরু করে। ওই ইউনিয়নের সিএইচসিপি (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) খাদিজা বেগম জানান বিষয়টি জানার পর জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ মাহবুব হাসান লেলিন কে বিষয়টি অবগত করে গ্রামে ২টি মেডিকেল ক্যাম্প ত্বরিতগতিতে স্থাপন করে অসুস্থ গ্রামবাসীর চিকিসাৎ শুরু করা হয়। ফলে এ ঘটনায় কেউ মারা যায়নি। সেখানে সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। অপর দিকে কুলখানির আয়োজক স্বীকার করে বলেন ডালের ঘাটতি পূরণে আমাকে না জানিয়ে রান্না করার কাজে নিয়োজিত বাবুর্চিরা পুকুরের পানি দিয়ে ডাল রান্না করায় এমনটি হয়েছে। এ জন্য তিনি গ্রামবাসীর কাছে দুঃখ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

মন্তব্য করুন


Link copied