Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০ :: ৯ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ৩৫ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষেরা বালুচরে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছে

উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষেরা বালুচরে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছে

সেন্ট্রাল ডেস্ক: রংপুর বিভাগের তিস্তা, যমুনা , ব্রহ্মপুত্রের ও করতোয়া বালুচরে নিরব কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন  দরিদ্র মানুষেরা। এক সময় যে নদীগুলো ছিল দুঃখের কারণ। এখন সেই নদীর বুকেই ফসল ফলিয়ে অভাব দূর করছেন তারা। অক্লান্ত পরিশ্রমে অসম্ভবকে সম্ভব করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন নদীভাঙা সর্বহারা হাজার হাজার পরিবার। নদীর বুকে জেগে ওঠা পরিত্যক্ত বালুচরে উন্নয়নের স্বপ্ন বুনে সফল হচ্ছেন এসব খেটে খাওয়া মানুষ।এসব ফসল চাষ করে হাজার কোটি টাকা আয় করছে খেটে খাওয়া মানুষ।

রংপুরের পীরগঞ্জে করতোয়া নদীর তীরবর্তী গ্রাম সমুহে জেগে ওঠা এক সময়ের ধূ-ধূ বালুচরে  এখন সবুজের সমারোহ। এই তো কবছর আগে যেখানে ছিল ধুধূ বালুচর, সর্বনাশা করতোয়ার করাল গ্রাসে ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার এবং ওই সব গ্রামের লোকজনদের অভাব অনটনই ছিল নিত্য দিনের সাথী। এখন তা বদলে গেছে । করতোয়ার বালুচরে বন্যায় পলী মাটি জমে উঠায় ওইসব চর এখন উর্বর আবাদী জমিতে পরিণত হয়েছে। বালুচরে এখন শোভা পাচ্ছে সবুজের সমারহ । বগুড়ার সারিয়াকান্দি, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা জুড়ে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র আর যমুনা নদী। শীতকালে এসব নদীতে পানি থাকেনা। নদীর তলদেশ শুকিয়ে জেগে ওঠে বিরান বালুচর ।দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা এসব বালুচরে ফসল ফলানো দূরের কথা, ঘাসও জন্মায়না। অথচ সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেই নদীর বালুচরে কুমড়া চাষ করে সবুজে ভরে তুলেছেন কৃষকরা। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের পাঁচ হাজার দরিদ্র পরিবার বিশাল বালুচরকে কাজে লাগিয়ে অভাব দূর করছেন। বালুচরে কুমড়া চাষ করে মঙ্গা তাড়িয়েছেন ওই অঞ্চলের ভিটেমাটি হারা অসহায় কৃষকেরা।
নারীরা তদের স্বামী সন্তানকে নিয়ে শারীরিক পরিশ্রম করে তৈরি করেছেন কুমড়া গাছের চারা । সেই চারা নদীর চরে রোপণ করে অল্প সময়েই পাচ্ছেন সফলতা। মৌসুমের শুরুতেই বালুচরে লাগানো চারা থেকে জন্মানো সবুজে ভরা কুমড়ো ক্ষেতে হলুদে ঝলসানো ফুল দেখে চাষীদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক।বালুচরের কুমড়া চাষীরা জানান, বালুচরে কোনো ফসল ফলানো যাবে এটা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি। একটি এনজিও প্রথমে আমাদের কুমড়া চাষের প্রশিক্ষণ দিয়ে বালুচরে কুমড়ার চারা লাগাতে বলে। তাদের কথা শুনে আমরা অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছি।র্প্যাকটিক্যাল অ্যঅকশন বাংলাদেশের কৃষি বিভাগের কো-অর্ডিনেটর নির্মল চন্দ্র ব্যাপারী জানান, তিন বছর আগে এই অঞ্চলের মঙ্গা মোকাবেলা করতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন নদীর বালুচরে মিষ্টি কুমড়ো চাষের পরিকল্পনা করেন। সেই থেকে শুরু করে আমাদের আর পেছনে তাকাতে হয়নি। প্রতি বছরই বাড়ছে চাষের পরিধি। সেইসঙ্গে বাড়ছে ফলন। লাভের টাকা হাতে পেয়ে স্বাবলম্বী  হচ্ছেন কৃষকরা ।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জানান, গতবছর সাফল্য পেয়ে এবার দ্বীগুণ উৎসাহে বালুচরে মিষ্টি কুমড়ার চাষ শুরু হয়েছে। আগের বছরের চেয়ে এবার ফলন আরো বেশি হবে হবে বলে আমরা আশা করছি।তিনি জানান, গত বছর একটি চরেই ছয় হাজার নয়শ’ ৭৮ মেট্রিকটন কুমড়ো উৎপাদন হয়েছিল। এবার চরাঞ্চলের পাঁচ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ হয়েছে।দ্বিগুণ ফলন হবার সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ।ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, নদীর চরে কুমড়া চাষ করে সেটাই প্রমাণ করেছেন খেটে খাওয়া মানুষরা। সরকারি সহায়তা পেলে এসব উদ্যোমী মানুষের হাতেই মঙ্গাপীড়িতদের ভাগ্য বদলে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful