আর্কাইভ  রবিবার ● ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ● ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   রবিবার ● ৫ ডিসেম্বর ২০২১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত দিবস

সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪, দুপুর ১১:৩০

 জানা যায়, স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ার বঙ্গবন্ধুর প্রথম বার্তাটি নিয়ে আসেন তৎকালীন বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা শহীদ গোলাম নবী সাটু। সে সময় তৎকালীন তরুণ এমপিএ আ.আ.ম মেসবাউল  হক বাচ্চু, ডা. মইন উদ্দিন আহমেদ মন্টু, এমএনএ হাজী রইশুদ্দিন মিয়া, খালেদ আলী মিয়া ও অ্যাডভোকেট হামিদুর রহমান হেনাসহ বেশ কিছু উদীয়মান তরুণ এলাকার মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন এবং শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ৭নং সেক্টরের অধীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমায় ছিল দুটি সাব সেক্টর। একটি মোহদিপুর সাব সেক্টর অন্যটি দলদলী সাব সেক্টর।   মোহদিপুর সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর এবং দলদলী সাব সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন লে. রফিক। মুক্তিযুদ্ধ চলার এক পর্যায়ে ৭ ডিসেম্বর লে. রফিকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা মকরমপুর ও আলী নগর পাক ঘাটিতে অতর্কিত আক্রমণ চালালে পাঁচ পাক সেনা নিহত ও অন্যরা মহানন্দা নদী পার হয়ে পালিয়ে যায়।

অপরদিকে ১০ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা চর বাগডাঙ্গা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর দখলের জন্য অগ্রসর হয় এবং পাক সেনাদের বাঙ্কার দখল করে নেয়। ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং ১৩ ডিসেম্বর সাড়াশি আক্রমণে পাকসেনারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজাকার ও আলবদর বাহিনী। সেই দিন রাতে হরিপুর ব্রিজের কাছে সংঘটিত যুদ্ধে শহীদ হন ইপিআর নায়েক নবির উদ্দীনসহ ৯ জন গ্রামবাসী। ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, মেসবাউল  হক ও মইন উদ্দিনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা শহরের উপকণ্ঠ বারঘরিয়া মহানন্দা পাড়ে উপস্থিত হন। ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর তার বিশাল বাহিনীকে ৩ ভাগে ভাগ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর দখলের জন্য আক্রমণ শুরু করেন। ১৪ ডিসেম্বর ভোর রাতে তিনি একটি ছোট নৌকা নিয়ে মহানন্দা নদী পার হয়ে এসে রেহাইচর গ্রামে অবস্থান গ্রহণ করে শত্রুদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করতে করতে সামনের দিকে এগুতে থাকেন। রাতের আধার পুরোপুরি কেটে যাওয়ার আগেই পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির জানালা থেকে রাজাকার বাহিনীর নিক্ষিপ্ত একটি বুলেট ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের কপালে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি শহীদ হন। পরবর্তীতে তার রণাঙ্গনের সাথী মুক্তিযোদ্ধারা তার লাশ উদ্ধার করে প্রাচীন গৌড়ের রাজধানী সোনামসজিদে নিয়ে গিয়ে সমাহিত করেন।

১৫ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে রাজাকার আলবদর বাহিনী পিছু হটলে মেসবাউল হক, মইন উদ্দিন ডাক্তার, মেজর গিয়াস, লে. রফিক, লে. কাইউম তাদের বাহিনী নিয়ে শহরে প্রবেশ করেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ শত্রুমুক্ত হয়।

মন্তব্য করুন


Link copied