Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০ :: ৫ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৫ : ২০ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / রংপুর-৫: হারানো আসন উদ্ধারে ব্যস্ত জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগের ধরে রাখার চেষ্টা

রংপুর-৫: হারানো আসন উদ্ধারে ব্যস্ত জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগের ধরে রাখার চেষ্টা

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসন উদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে  জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে আসনটি ধরে রাখতে চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ।

গত নির্বাচনে মহাজোটের দু’প্রার্থীর লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচএন আশিকুর রহমান (নৌকা) ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৯৪ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখর-উজ্‌জামান জাহাঙ্গীরকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। ফখর-উজ্‌জামান জাহাঙ্গীর (লাঙ্গল) পান ১ লাখ ১২৯ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে বিএনপি চার দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান পান ৫৬ হাজার ১৩৩ ভোট। দেশের বৃহত্তম মিঠাপুকুর উপজেলা-১৭ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। রংপুর-৫ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এ আসন জাতীয় পার্টির দখলে চলে যায়। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা ভাল থাকার কারণে প্রতিবারই এ আসনে লড়াই হয় জাপা ও আওয়ামী লীগের মধ্যে।

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচএন আশিকুর রহমান জনগণকে প্রতিশ্রুতি দেন মিঠাপুকুর উপজেলার রাস্তাঘাট সংস্কার, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়ন করে আধুনিক মডেল উপজেলা গড়ে তোলা হবে। করা হবে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত। বেকার সমস্যা সমাধানে কলকারখানা গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি নির্বাচনী এলাকার আর তেমন খোঁজ-খবর রাখেননি। নিজ এলাকার এমপি হয়ে মাঝেমধ্যে আসেন মেহমানের মতো। নির্বাচনী এলাকার জনগণের কোন সমস্যা নিয়ে বলেননি কথা। করেননি তেমন কোন উন্নয়ন। এমপি আশিকুরের হয়ে তার কাজকর্ম তদারকি করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। এছাড়া কাবিখা-কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও দাপ্তরিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন এমপি আশিকুরের পুত্র এইচএন রাশেক রহমান। এসব নিয়ে ক্ষোভ-হতাশা রয়েছে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে। বিরাজ করছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে বিরোধ ও দ্বন্দ্ব। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পার্টি তার হারানো আসন পুনরুদ্ধার করতে উঠে পড়ে লেগেছেন জাপা প্রার্থী ফকর-উজ্‌জামান জাহাঙ্গীর। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করে চলেছেন। চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা।

ইতিমধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ রংপুর সফরে এসে মিঠাপুকুর নির্বাচনী এলাকায় এক জনসভায় আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গীরকে সমর্থন দিয়ে বলেন, গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মহাজোট করে এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীরকে দিলেও পড়ে অন্যায়ভাবে আওয়ামী লীগ আশিকুর রহমানকে প্রার্থী করে কৌশলে এ আসন দখলে নেয়।

ফখর-উজ জামান জাহাঙ্গীর বলেন, মিঠাপুকুরসহ রংপুরের মাটি এরশাদের ঘাঁটি। এ এলাকার জনগণের সুখে-দুখে পাশে থাকেন রংপুরের কৃতী সন্তান সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদ। নিরপেক্ষ নির্বাচনে তার এ আসন কেউ কোনদিন নিতে পারবে না।

জাতীয় পার্টির এরশাদ ও জাহাঙ্গীরে এমন ঘোষণায় বসে নেই আওয়ামী লীগের আশিকুর রহমানের সমর্থকরা। তারা ও তাদের এই আসন ধরে রাখার জন্য  চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দলের প্রার্থী এইচএন আশিকুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হেসেনের সঙ্গে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান কামুর বিরোধ দীর্ঘদিনের।

কামরুজ্জামানের অভিযোগ এমপি আশিকুর রহমানের আশীর্বাদ নিয়ে জাকির প্রায় দুই যুগ ধরে দলের কর্তৃত্ব ও পদ দখল করে দলকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। অবশ্য কামরুজ্জামানের এ অভিযোগ অস্বীকার করেন জাকির হোসেন। এদিকে দলের একটি সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে এমপি আশিকুর রহমানের পুত্র রাশেক রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবেন। আর তাই রাশেক এখন থেকেই তার পিতার সব কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছেন। করছেন দল নিয়ন্ত্রণ। ওদিকে ১৮ দলীয় জোট বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা তেমন ভাল নেই। রংপুর জেলার বিএনপির দু’গ্রুপের বিরোধের প্রভাব পড়েছে উপজেলায়। ফলে এখানেও বিএনপি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। বিএনপি উপজেলা আহ্বায়ক আজাহার শাহজাহানকে দিয়ে কোনভাবে চলছে কার্যক্রম। এ আসনে গত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর হাফিজুর রহমান প্রার্থী থাকলেও আগামী নির্বাচনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী দেয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

সূত্রমতে, সাবেক এক এমপি বিএনপিতে যোগদান করে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করবেন যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর শাহ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান নির্বাচন করবেন এমন গুঞ্জনও রয়েছে। অপরদিকে শোনা যাচ্ছে সাবেক সংসদ সদস্য শাহ সোলায়মান আলম ফকির নির্বাচন করবেন। গত নির্বাচনে শাহ সোলায়মান ফকির জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভোটযুদ্ধ করে জামানত হারান। আগামী সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৫ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- এইচএন আশিকুর রহমান, ফখর-উজ্‌জামান জাহাঙ্গীর, শাহ সোলায়মান আলম ফকির, শাহ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান।

সূত্র: মানবজমিন

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful