Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০ :: ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ২ : ৩৩ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / আন্দোলনের ঘোষণা আছে, প্রস্তুতি নেই

আন্দোলনের ঘোষণা আছে, প্রস্তুতি নেই

khaleda bnpডেস্ক: ছাত্রলীগের প্রতিবাদের মুখে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি করতে না পারার নজির অতীতে ছিল না। কিন্তু গত ২৭ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের পূর্ব ঘোষিত জনসভা বাতিল হওয়ার পর দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাংগঠনিক এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে বিএনপি কি আদৌ সরকারবিরোধী আন্দোলনে পেরে উঠবে? এ প্রশ্ন ঘুরেফিরে সামনে আসছে দলটির ভেতরেই।

কেন্দ্রীয় নেতারা তো বটেই, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও চোখেমুখে দেখছেন হতাশা। প্রমাণ মিলেছে গত ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে এবং ২৯ ডিসেম্বর সারা দেশে দলটির ডাকা হরতালে। মাঠে ছিলেন না নেতারা। কর্মীরাও থেকেছেন ঘরে বসে। এর মধ্যে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তারেক রহমানের করা কটূক্তির জন্য ক্ষমা না চাইলে বিএনপিকে আর কোথাও সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না।

এই বাস্তবতায় হঠাৎ গত ৩১ ডিসেম্বর ‘জরুরি’ সংবাদ সম্মেলন ডাকেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। জরুরি হিসেবে ডাকা এই সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘোষণা দেবেন, এমনটি  ভেবেছিলেন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুরনো দাবি তোলা ছাড়া তার বক্তব্যে ছিল না কোনো নতুনত্ব। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের এক বছরের মধ্যে খালেদা জিয়ার এই সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি দেবেন, সেটিই মনে করা হচ্ছিল।

কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টার বক্তব্যে খালেদা জিয়া নতুন নির্বাচনের যে দাবি তুলেছেন, তাকে পাত্তাই দিচ্ছেন না ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, খালেদা জিয়া যে কথা বলেছেন, তা তিনি এক বছর ধরেই বলে চলেছেন। সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্ন আসবে ২০১৯ সালের নির্বাচনের এক বছর আগে। তাই আলোচনায় বসতে হলে বিএনপিকে অপেক্ষা করতে হবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত।

এর আগে একাধিকবার বিএনপি আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও পিছিয়ে এসে হতাশ করেছে কর্মী-সমর্থকদের। সবশেষ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের এক বছর পূর্তিতে জানুয়ারি থেকে সরকার পতনের ‘কঠোর’ আন্দোলনের হুমকি দিয়ে আসছিল বিএনপি। কিন্তু আগের মতোই এবারও আন্দোলনের জন্য নেই কোনো প্রস্তুতিই।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সরকার এরই মধ্যে এক বছর পুরো করেছে। এখন এসে এ ধরনের সাত দফায় তারা গুরুত্ব দেবে, এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। বরং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে হয়ত কোনো ফল পাওয়া যেত। সেক্ষেত্রে চেয়ারপারসন সংবাদ সম্মেলন থেকে আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি কিংবা ধারণা দিলে হয়ত সুফল বেশি পাওয়া যেত।’

এ নিয়ে কথা বলতেও বিব্রতবোধ করছেন বিএনপি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। হঠাৎ কোনো মন্তব্য করে বিপাকে পড়তে চান না, ফেলতে চান না দলকে। গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দফায় দফায় ঘোষণা দিলেও আন্দোলন জমাতে পারেনি বিএনপি। দলের চেয়ারপারসনের ডাকেও মাঠে নামেনি নেতা-কর্মীরা।

কারণ কী? জানতে চাইলে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এম কে আনোয়ার। বলেন, ‘এ নিয়ে আমার কোনো কথা নেই। যা বলার বিএনপি চেয়ারপারসন তার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে একই প্রশ্ন ছিল সাংবাদিকদের। জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনাদের কথার সঙ্গে আমি একমত নই। কারণ বিএনপি আন্দোলন করছে বলেই দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মামলা হচ্ছে। আর আপনারা যদি দাবি করেন বিএনপি আন্দোলন করতে পারছে না, তাহলে আগে মেনে নিতে হবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সরকার যে সব মামলা দায়ের করছে ওই সব মামলাগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।’

তবে বিএনপি নেতাদের অনেকে মনে করেন, আন্দোলনের ঘোষণা ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল বরাবরই। সরকারবিরোধী কর্মসূচি ঠেকাতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো দায়িত্বও ঠিকভাবে বণ্টন করা যায়নি। কারা আন্দোলনকে সামনে নিয়ে যাবেন তাদের তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়নি। উদাহরণ টেনে তারা বলেন, বিএনপি আন্দোলনের খেলার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু দল ও দলের অধিনায়ক কারা হবেন তা ঘোষণা দেয়নি। তাহলে খেলা হবে কীভাবে?

বিএনপির এই আন্দোলনের ডাককে আমলে নিচ্ছে না ক্ষমতাসীন দল। তারা বলছেন, গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বলেছিল নির্বাচন প্রতিহত করবে। নির্বাচনের পর বলল দুর্বার আন্দোলনে সরকারকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাধ্য করবে। এখন আবার সাত দফা দাবি নিয়ে সামনে এসেছে। জনগণ এ থেকে যা বোঝার বুঝে নিয়েছে। আদতে বিএনপির আন্দোলনের ঘোষণা যে ফাঁকা বুলি তা আর কাউকে বলতে হবে না, বিএনপি নিজেই তার প্রমাণ দিয়েছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, ‘তারা কি আন্দোলন করবে? কোন ইস্যুতে আন্দোলন করবে? এগুলো ফাঁকা বুলি ছাড়া কিছুই নয়। অতীতে যতবারই তারা হরতাল-অবরোধ দিয়েছে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই।’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই নেতা মনে করেন, বিএনপির আন্দোলন করার কোনো ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা যদি থাকত তাহলে এক বছর কম সময় নয়। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মনে করেছে আন্দোলনের কথা বললে সরকার ভয় পাবে। প্রথমে রোজার ঈদের পর পরে কোরবানির ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু জনগণ তাদের সঙ্গে না থাকায় এসবের কোনোটাই কাজে আসেনি।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি সাত দফাকে কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। তারা বলছেন, এই ঘোষণা বিএনপির আন্দোলনে কিছুটা হলেও জোর দেবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আসলে রাজপথে আন্দোলনের জন্য নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ। কৌশল নিয়ে না আগালে সফলতা আসবে না।’ তিনি মনে করেন, বিএনপি বিগত সময়ে কৌশলগতভাবে পিছিয়ে রয়েছে বলে আন্দোলনে গতি পায়নি। তবে রাজনৈতিকভাবে দলটি খাদের কিনারে গেছে এটা বলা ঠিক হবে না।

খালেদা জিয়ার আহ্বানেও সাড়া নেই

গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দলীয় একাধিক বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতাদের ভর্ৎসনা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। দল করতে হলে অবশ্যই রাজপথে নামতে হবে। তা না হলে দল ছাড়তে হবে খালেদা জিয়ার এমন হুঁশিয়ারির পরও নেতাদের ওই অর্থে রাজপথে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে বিএনপির ভেতরেও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, কেন্দ্রের বেশির ভাগ নেতাই নিজেদের সহায়-সম্পদ ও জীবনের মায়া করে মুখে মুখে আন্দোলনের কথা বললেও রাজপথে নামতে আগ্রহী নন। জীবনের এই পর্যায়ে এসে জেলজুলুমে হয়রানি হতে চান না তারা।

দলীয় সূত্র জানায়, দলের হাইকমান্ডও বিষয়গুলো জানে। কিন্তু খালেদা জিয়া নিজেও নিরুপায়। দলীয় এই দুর্যোগের সময় এদের দূরে ঠেলে দিলে তার আশপাশে দাঁড়ানোর মতো নির্ভরশীল কাউকে পাচ্ছেন না তিনি। যে কারণে এসব ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তিনি।

সংবাদ সম্মেলন ও বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ আন্দোলন

প্রতিনিয়ত কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা আসছে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মুখ থেকে। বিএনপি চেয়ারপারসনও একাধিকবার আন্দোলনের কথা বলেছেন। কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। আন্দোলন আটকে থাকছে সংবাদ সম্মেলন, দলীয় বিবৃতি, সভা-সেমিনারে। এতে হতাশা বাসা বেঁধেছে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মনেও। তারা অধীর আগ্রহে তাকিয়ে ছিলেন কেন্দ্রের দিকে। কিন্তু কেন্দ্রের অপরিকল্পিত ও অপ্রস্তুত আন্দোলনে তারা আশাহত।

ফেনী জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘গত মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে দৌড়ের ওপর আছি। ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা হয়েছে। একের পর এক অসত্য মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এখন বাড়িঘর রেখে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আশায় ছিলাম ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে কেন্দ্র থেকে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা আসবে। সারা দেশে আন্দোলন হবে। কিন্তু বাস্তবে তো কিছু হলো না। নির্বাচন হলো আর সরকারও বেশ ভালোভাবেই ক্ষমতা ধরে রেখেছে। এভাবে চলতে থাকলে তো আর তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ধরে রাখা সম্ভব হবে না।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এভাবে দিনের পর দিন যদি ঘরোয়া কর্মসূচির মধ্যে বিএনপি থাকে তাহলে এক সময় বিএনপি রাজপথের রাজনীতি থেকে বাদ পড়বে। তবে বিএনপি নেতাদের দাবি, সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে যেভাবে বিএনপি নেতা-কর্মীদের অত্যাচার-নির্যাতন করছে তাতে তারা মাঠে দাঁড়াতে পারছে না। কেউ তো আর স্বেচ্ছায় নিজের জীবন বিপন্ন করতে চাইবেন না।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে রাজপথে যে আন্দোলন-কর্মসূচি হওয়ার কথা সেটা হচ্ছে না। কিন্তু আন্দোলনও থেমে নেই। সভা-সমাবেশ ও মিছিল-মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে আন্দোলন চলছে। বিএনপির কিছু সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে, তা আমরা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছি। আর এর মধ্য দিয়েই আমরা আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। তবে সরকারবিরোধী আন্দোলনের হয়ত স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। কিন্তু জানুয়ারিতে আন্দোলনের গতিপথ পরিবর্তিত হবে এবং তীব্রতা বাড়বে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিয়ে রাজপথে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আর বিএনপি রাজপথে থাকে বলেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত হয়। এই খবর আপনাদের গণমাধ্যমেই উঠে এসেছে। তবে বিএনপি সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। তাই বিএনপি সশস্ত্র আন্দোলন করছে না। কিন্তু সরকার সশস্ত্র আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছে।’

সাত দফা নিয়ে মিশ্র মত

৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের এক বছরপূর্তি সামনে রেখে বছরের শেষ দিন গত ৩১ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বহুদিন পর সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও উত্তর দেন। খালেদা জিয়ার প্রস্তাবগুলো হলো :

১. জাতীয় নির্বাচন ‘অবশ্যই’ নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। ২. নির্বাচন ঘোষণার আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের সম্মতিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে বর্তমান আরপিও সংশোধন করা যায়। ৩. নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর সম্মতিতে গঠিত নির্দলীয় সরকার দায়িত্ব নেবে। ৪. ভোটের তারিখ ঘোষণার পর সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। ৫. সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানোর পাশাপাশি চিহ্নিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রশাসনের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করতে হবে। ৬. সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে এবং রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ৭. এ সরকারের সময়ে বন্ধ করে দেওয়া সব সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেল খুলে দিতে হবে এবং আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ আটক সব সাংবাদিককে মুক্তি দিতে হবে। আগামী ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের এক বছরপূর্তির দিনকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস আখ্যায়িত করে সারা দেশে কালো পতাকা হাতে সভা-সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। ওইদিন কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় একটি সমাবেশের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

আওয়ামী লীগ তাৎক্ষণিকভাবে খালেদা জিয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি দেবেন, আলটিমেটাম দেবেন, হরতাল দেবেন,এ ধরনের গুঞ্জন-গুঞ্জরণ শেষ পর্যন্ত অসার প্রতিপন্ন হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে নতুন কিছু বলেননি। যা বলেছেন, সে জন্য সংবাদ সম্মেলন করা আদৌ প্রয়োজন ছিল কি না তা নিয়ে দলের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

হতাশ নেতা-কর্মীরা

আন্দোলন-কর্মসূচির পরিবর্তে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাত দফা দাবি পেশে হতাশ হয়েছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের দিনটিকে সামনে রেখে কঠোর আন্দোলনের অপেক্ষায় থাকা নেতা-কর্মীরা এতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা থেকে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির কোনো কোনো সদস্য পর্যন্ত এতে হতাশ ও বিস্মিত। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারাও ক্ষোভ এবং আশাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির তৃণমূল পর্যায়ের এক নেতা বলেন, তারা আশা করেছিলেন, নেত্রী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। অন্তত একটি আলটিমেটাম দেওয়া হবে। তা না হওয়ায় মাঠ নেতা-কর্মীরা চাঙ্গা হওয়ার পরিবর্তে চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন বলেই মনে করেন ওই নেতা।

হরতালের কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে থাকেন বলে খালেদা জিয়া দাবি করেন। এ ব্যাপারেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাঠ নেতারা।

২০ দলীয় জোটের শরিক দলের এক নেতা বলেন, জোট নেত্রীর কাছে এ মুহূর্তে কেউ এমন নরম সুরের বক্তব্য আশা করেনি। সরকার বিএনপির বিরুদ্ধে যে হার্ডলাইনে চলে গেছে, তা থেকে নেতাদের রক্ষা করতেই হয়ত কঠোর কর্মসূচি থেকে বিরত থাকছেন বিএনপিপ্রধান। এতে জনগণের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাবে বলেও মনে করেন তিনি। আন্দোলনের গতি আরও কমে আসতে পারে বলে ধারণা করেন ওই নেতা।- সাপ্তাহিক এই সময়-এর সৌজন্যে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful