Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ :: ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ১০ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / ‘গণ’ পুড়িয়ে ‘তন্ত্র’ দিয়ে কী করবেন ম্যাডাম?

‘গণ’ পুড়িয়ে ‘তন্ত্র’ দিয়ে কী করবেন ম্যাডাম?

মাসুদা ভাট্টি

Masuda-Vatti-Cগণতন্ত্র রক্ষার (!) আন্দোলনে আমরা আজ জর্জরিত। চারদিকে মানুষ পুড়ে মরছে, পুলিশের হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নিয়ে তাদেরকে মেরে আহত করা হচ্ছে, পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যানবাহন এবং তার ভেতর জ্যান্ত মানুষ। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এসব সবই করছেন গণতন্ত্রের জন্য। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে, তার এই সকল ক্রিয়া আমাদের তথা গণ এর জন্য, যা তিনি করে আসছে বিগত ৬ বছর ধরেই। আসুন আমরা একটু ঘুরে দেখার চেষ্টা করি, বিগত ছয় বছর ধরে ম্যাডাম গণতন্ত্রের জন্য কী কী করেছেন।

বেগম জিয়া গণতন্ত্রের জন্য এই নির্বাচনকে কারচুপির নির্বাচন আখ্যা দিলেন এবং শুরু থেকেই সংসদে অনুপস্থিত থাকলেন। সংসদে অনুপস্থিত থাকাটা তার জন্য নতুন কিছু নয়, নিজে সংসদ নেত্রী হয়েও তার সংসদে উপস্থিত থাকার হার ইতিহাসে সর্বনিম্ন। সংসদকে অকার্যকর করায় বেগম জিয়ার এই ভূমিকা নিশ্চয়ই গণতন্ত্র রক্ষার জন্যই!!

১. ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে কোনও প্রশ্ন তোলার অবকাশ ছিল না এবং নেই, কারণ, এই প্রথম বাংলাদেশে একটি ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যাতে কোনও প্রকার কারচুপি সম্ভব ছিল না। কিন্তু বেগম জিয়া গণতন্ত্রের জন্য এই নির্বাচনকে কারচুপির নির্বাচন আখ্যা দিলেন এবং শুরু থেকেই সংসদে অনুপস্থিত থাকলেন। সংসদে অনুপস্থিত থাকাটা তার জন্য নতুন কিছু নয়, নিজে সংসদ নেত্রী হয়েও তার সংসদে উপস্থিত থাকার হার ইতিহাসে সর্বনিম্ন। সংসদকে অকার্যকর করায় বেগম জিয়ার এই ভূমিকা নিশ্চয়ই গণতন্ত্র রক্ষার জন্যই!!

২. আওয়ামী লীগ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে একের পর এক বিল পাস করে, যা স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত। গণতান্ত্রিক রীতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তাদের এবং গরিষ্ঠ সংখ্যক জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে উপযোগী বিল আনবে এবং তা পাস করিয়ে নেবে, সেটাও স্বাভাবিক। আমরা স্মরণ করি বাংলাদেশের জন্মের বিরোধিতাকারীদের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য আওয়ামী লীগ সংসদে বিল আনে, তখন বিএনপি সেখানে অনুপস্থিত। বিল পাস হয়, বিচার শুরু হয়। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া, তার দল ও তার রাজনৈতিক মিত্ররা প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করেন। গণতান্ত্রিক সংসদে পাস হওয়া আইনের বিরোধিতা করা ফৌজদারি অপরাধ নাকি গণতন্ত্র রক্ষা, আমরা বুঝতে পারি না।

জানি না, কোন গণতন্ত্রের জন্য বেগম জিয়া সে সময় হেফাজত এনে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন সরকারকে। এও জানি না যে, গণজাগরণ মঞ্চে জমায়েত লাখ লাখ ‘গণ’-কে তিনি কোন গণতন্ত্রের জন্য নাস্তিক ঘোষণা দিয়েছিলেন? গণ-কে ‘নষ্ট ছেলেমেয়ে’ আখ্যা দেওয়া কোন গণতন্ত্রের খাতিরে, কে বলবে?

৩. ২০০৮ সালে গঠিত সংসদে যতোগুলো আইন পাস হয়েছে বেগম জিয়া ও তার দল কোনওটিতেই অংশ নেননি। কিন্তু তাই বলেতো সংসদ হাতে মেহেদি লাগিয়ে বসে থাকতে পারে না, তারা সংসদের নিয়ম মেনেই আইনগুলো পাস করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত বিল। সংসদে উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিতে এই বিল পাস হয়। দেশের আইন মানলে, গণতন্ত্র মানলে এই আইনকে স্বীকৃতি দিতে হবে। হ্যাঁ, এই আইন পাস করার পদ্ধতিগত দিক, আলোচনাগত দিক কিংবা আরও বহুদিক নিয়ে কথা বলা যেতে পারে, হতে পারে আলোচনা-সমালোচনা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতি মানলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আইন পাস করবে এবং তা আইন হিসেবে গৃহীত হলে তা মেনেই প্রজাতন্ত্রে রাজনীতি করাটা যৌক্তিক ও সভ্যতা, যতোদিন পর্যন্ত না অন্য কোনও দল নির্বাচনে বিজয় লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে এই আইনে বদল আনে। কিন্তু বেগম জিয়া সে পথে হাঁটলেন না, তিনি হাঁটলেন সহিংসতার পথে। আইন অমান্য করা কাকে বলে, কতো প্রকার ও কী কী, তিনি আমাদের বুঝিয়ে দিলেন ২০১২ ও ২০১৩ সালে। বাংলাদেশ তার স্মরণকালে এরকম সহিংসতা পর্যবেক্ষণ করেনি। বাঙালির স্মৃতি দুর্বল, না হলে হয়তো এমন দিন আসতো যখন শিশুদের ভয় দেখানোর জন্য ২০১২/১৩ শব্দদ্বয় উচ্চারণ করলেই কাজে দিতো। জানি না, কোন গণতন্ত্রের জন্য বেগম জিয়া সে সময় হেফাজত এনে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন সরকারকে। এও জানি না যে, গণজাগরণ মঞ্চে জমায়েত লাখ লাখ ‘গণ’-কে তিনি কোন গণতন্ত্রের জন্য নাস্তিক ঘোষণা দিয়েছিলেন? গণ-কে ‘নষ্ট ছেলেমেয়ে’ আখ্যা দেওয়া কোন গণতন্ত্রের খাতিরে, কে বলবে?

বেগম জিয়া সেই অপরাধে অপরাধী হলেন, স্কুল পুড়িয়ে, মানুষ পুড়িয়ে, রেললাইন উপড়ে ফেলে, পুলিশ হত্যা করে। যদিও তার পক্ষ থেকে বলা হয় যে, এসবও তিনি করেছেন গণতন্ত্র রক্ষার (!) জন্যই। প্রশ্ন হলো, সেটা কোন গণতন্ত্র?

৪. নির্বাচনের সময় যতোই ঘনিয়ে আসতে শুরু করলো বেগম জিয়ার গণতন্ত্র রক্ষার (!) ভয়াবহতা ততোই বাড়তে লাগলো। আইন ভঙ্গ করার কথাতো আগেই বলেছি, এবার শুরু হলো তাণ্ডব। নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হওয়ার পর কোনও দল নির্বাচনে অংশ না নিতে চাইলে সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। অনেক কারণেই নির্বাচনে অংশ নেয় না রাজনৈতিক দলগুলো, হতে পারে প্রস্তুতির অভাব, হতে পারে নির্বাচকমণ্ডলির ওপর অনাস্থা কিংবা দলের ভেতরে নানাবিধ গণ্ডগোল। কিন্তু বেগম জিয়া ও তার রাজনৈতিক মিত্ররা দেশের সংবিধান অনুযায়ী মেয়াদকাল শেষে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে অংশতো নিলেনই না উপরন্তু নির্বাচন ঠেকানোর জন্য সারাদেশে নতুন উদ্যোমে শুরু হলো হত্যাযজ্ঞ। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তিনি আইন লঙ্ঘন করেছেন কি-না তা বলতে পারবো না কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেও এটুকু জানি যে, কোনও দেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধার সৃষ্টির করা আইনের চোখে ভয়ঙ্কর অপরাধ। বেগম জিয়া সেই অপরাধে অপরাধী হলেন, স্কুল পুড়িয়ে, মানুষ পুড়িয়ে, রেললাইন উপড়ে ফেলে, পুলিশ হত্যা করে। যদিও তার পক্ষ থেকে বলা হয় যে, এসবও তিনি করেছেন গণতন্ত্র রক্ষার (!) জন্যই। প্রশ্ন হলো, সেটা কোন গণতন্ত্র?

নির্বাচন নিয়ে আমরা দেশের ভেতর শেখ হাসিনার সমালোচনা করতে পারি ঠিকই কিন্তু বৃহৎ পরিসরে সেই সমালোচনা ধোপে টেকে না, কারণ নির্বাচন না হলে তখন যে সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি হতো তার সমাধান বেগম জিয়ার ‘গণতন্ত্র’ দিয়েও হতো না, সেটা বলাই বাহুল্য।

৫. শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করেও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারি আমরা, তুলেও থাকি হামেশা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এর আগেও কোনও সংসদে নির্বাচিত হয়ে কেউ আসেননি তেমন নয়, কিন্তু এবার যেহেতু পরিমাণে বেশি সেহেতু এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যদিও এটা প্রশ্ন তোলার মতো ইস্যু নয়। ইস্যু হতে পারে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলো কি-না তা নিয়ে। কিন্তু যারা অংশগ্রহণ করেনি তারা সেটা নিজেদের কারণেই করেছে, যা একেবারে সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার, সর্বাত্মক গণতান্ত্রিক পরিবেশ হলেও কোনও কোনও দল করতে পারে, সেক্ষেত্রে নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য হবে কী? বিদেশিদের পক্ষ থেকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে খুব বড় গলায় কোনও উচ্চবাচ্য এ কারণেই করা হয় না, কারণ, নির্বাচনে অংশ নিয়ে কারচুপি কিংবা অসংগতির কারণে জনপ্রিয় দলের পরাজয় এক ব্যাপার আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো ঠিকই কিন্তু তাতে অংশ না নিয়ে নির্বাচন সম্পর্কে সমালোচনা করাটাকে কোনও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই প্রশ্রয় দিতে পারে না, দেয় না। যে কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নহ, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও নির্বাচন নিয়ে ‘মিউ মিউ’ শব্দে, নানাবিধ এলোমেলো শব্দ প্রয়োগে কিছু একটা বলতে চায় ঠিকই, কিন্তু তা কারও কাছেই স্পষ্ট হয় না। নির্বাচন নিয়ে আমরা দেশের ভেতর শেখ হাসিনার সমালোচনা করতে পারি ঠিকই কিন্তু বৃহৎ পরিসরে সেই সমালোচনা ধোপে টেকে না, কারণ নির্বাচন না হলে তখন যে সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি হতো তার সমাধান বেগম জিয়ার ‘গণতন্ত্র’ দিয়েও হতো না, সেটা বলাই বাহুল্য।

৬. নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন যে, এটি একটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। আমরাও ধরেই নিয়েছিলাম যে, তিনি অচিরেই একটি নির্বাচন দেবেন। যদিও জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত তারানকো’র সামনে নির্বাচন বিষয়ক সমস্যার ফয়সালা প্রায় হয়েই গিয়েছিল, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থেকেই নির্বাচন অনুষ্ঠান করবেন, নির্বাচনকালীন বিএনপি থেকে সরকারে মন্ত্রী নিয়োগের কথাও পাকা হয়ে গিয়েছিল, বেগম জিয়া তখনও গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে তাতে শেষ পর্যন্ত রাজি থাকেননি। পরে জানা গেলো যে, গণতন্ত্রের সেই নির্দেশনা অর্থাৎ নির্বাচনে না যাওয়ার নির্দেশনা এসেছিল লন্ডন থেকে। যাইহোক, নিয়মরক্ষার নির্বাচন করতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি শেখ হাসিনাকে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তা পালিত হয়েছিল কী? নির্বাচন ঠেকানোর জন্য সহিংসতার ভয়াবহতাতো আগেই উল্লেখ করেছি। তাহলে নির্বাচন-পরবর্তীকালে শেখ হাসিনা তার দেওয়া কথা কেন রাখবেন বলতে পারেন? বেগম জিয়ার গণতন্ত্র (!) রক্ষার জন্য? এরকমটি কী কোনও দেশে কোনও কালে হয়েছে?

আওয়ামী লীগ ৭৫ পেরিয়ে এসেছে, গ্রেনেড হামলা পেরিয়ে এসেছে, পেরিয়ে এসেছে ২০০১ থেকে ২০০৬ – অভিজ্ঞতাতো কম হয়নি দলটির।

৭. যাইহোক, আন্দোলন হবে আন্দোলন হবে বলে সারাবছর ধরে দিনক্ষণ ঠিক করে শেষপর্যন্ত বছরের শেষদিকে এসে বিএনপি নেত্রী দেশের বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দিতে শুরু করলেন এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আহ্বান জানাতে লাগলেন। বিএনপির চরম শত্রুও বেগম জিয়ার সে ভূমিকায় অনেক আশান্বিত হয়ে উঠেছিল। এ কারণে যে, একটি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে দেশে অরাজকতা শুরু হবে এবং আওয়ামী লীগের জন্য বিএনপির চেয়ে সুগঠিত বিরোধী শক্তি আর নেই। কিন্তু এই নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন সহ্য হচ্ছিলো না, বেগম জিয়ার পুত্র তারেক জিয়ার। লন্ডনে পলাতক অবস্থায় থেকে তিনি নেমে গেলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্র হননে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণে। ৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে যেহেতু জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণের পথ পরিষ্কার হয়েছিল, সেহেতু মৃত শেখ মুজিবকে আবারও হত্যা করার প্রয়োজন পড়লো তারেক জিয়ার। এবার তার মা’কে ক্ষমতায় বসানোর জন্য। কিন্তু আওয়ামী লীগ ৭৫ পেরিয়ে এসেছে, গ্রেনেড হামলা পেরিয়ে এসেছে, পেরিয়ে এসেছে ২০০১ থেকে ২০০৬ – অভিজ্ঞতাতো কম হয়নি দলটির। ফলে বেঁকে বসেছে যে, কোথাও বিএনপিকে জনসভা করতে দেওয়া হবে না। দেশের সাধারণ মানুষও এসময় বেগম জিয়াকে সমর্থন দিতে পারেনি, কারণ ছেলের এই নোংরামিতে তিনিও সায় দিয়েছেন সজোরে, ফলে গাজীপুরে তাকে সমাবেশ করতে দেয়নি ছাত্রলীগ। দু’পক্ষের জেদাজেদিতে কেউই গাজীপুরে সভা করতে পারেনি। কোন গণতন্ত্র রক্ষার জন্য তারেক জিয়া লন্ডনে বসে বঙ্গবন্ধুর চরিত্র হনন করে? আর ঢাকায় বসে ছেলের এই ধৃষ্টতাকে বেগম জিয়া সমর্থন দেন? আমরা কি সেই গণতন্ত্র চিনি?

৮. এলো ৫ জানুয়ারি ২০১৫, দু’পক্ষই গণতন্ত্রের বিজয় ও রক্ষার আন্দোলন করার হুমকি দিলো। মাঝখানে জনগণের ত্রাহি অবস্থা, ভয়ে একাকার। কারণ, দু’পক্ষ শিল-নোড়ার মতো ঘঁষটাঘঁষটি করলেতো মাঝখানে জনগণ মরিচ হয়ে পিষে মরে, পুড়ে মরে। ফলে জনগণের ত্রাতা (?) পুুলিশ কর্তৃপক্ষ ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করলো। দেশের বিদ্যমান আইনেই রয়েছে এই নিয়ম। কিন্তু বেগম জিয়া ঘোষণা দিলেন, যেকোনও মূল্যে তিনি জনসভা করবেন। আবার গণতন্ত্রের জন্য আইনভঙ্গের নির্দেশ, তিনি এবং তার পুত্র একত্রে। দেশটাতো এখন আর পাকিস্তানের খপ্পরে নয় যে ৫২ সালের মতো আইন ভাঙতে হবে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে। স্বাধীন দেশের মানুষ পুড়ে মরতে চায় না, মরিচতো হতে চায় না, তাই বেগম জিয়া চাইলেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গের কথা না বলেও গণতন্ত্র রক্ষার (!) আন্দোলন করতে পারতেন, কিন্তু তিনি আইন ভঙ্গে সিদ্ধহস্ত, কিংবা তিনি নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন। আইন ভেঙে কোন গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে চান বেগম জিয়া?

৯. গণ শব্দের অর্থ মানুষ, মানুষের জন্য যে তন্ত্র বা আইন, তার নামই গণতন্ত্র। ওপরের আলোচনা থেকে যদি আমরা সরকারকে তথা শেখ হাসিনাকে দোষ দিতে চাই তাহলে তার উত্তরে তিনি বলবেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠের দল হিসেবে আইন পাস করে সে আইনের আওতায় থেকে তিনি নির্বাচন করেছেন, জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য তিনি কঠোর হয়েছেন বালির ট্রাক এনেছেন, ইটের ট্রাক এনেছেন এবং বেগম জিয়াকে ‘অবরুদ্ধ’ (?) করেছেন। সত্য-মিথ্যে যাচাই না করে আমরা শেখ হাসিনার এই যুক্তি পেতে পারি, কিন্তু বেগম জিয়া কোন যুক্তি দেবেন? তিনি কোনওখানেই আইন মানেননি, মেনেছেন কী? না মানেননি।

১০. আইন না মেনে বেগম জিয়া কী করেছেন? যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য আইন ভঙ্গ করেছেন। নির্বাচন ঠেকানোর জন্য আইন ভঙ্গ করেছেন। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশের কারণে সমর্থকরা রাস্তায় রাস্তায় গাড়ি পুড়িয়েছে, পুড়িয়েছে গণ তথা মানুষকে। এখন বলুন ম্যাডাম, গণ পুড়িয়ে কী গণতন্ত্র রক্ষা হবে? আইনের জন্যতো মানুষ নয়, মানুষের জন্যই আইন, মানুষই যদি না থাকে আইন ধুয়ে কী পানি খাবেন? আপনি সবসময় বলেন, আপনার দল গণমানুষের দল, মানুষ গণতন্ত্র চাইলে আপনার কাছে আসবে, আপনি আইন মেনে গণতন্ত্র উদ্ধারে এগোবেন, মানুষ আপনাকে সমর্থন দেবে, যেমন দিয়েছিল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে, ৯১ তার প্রমাণ। কিন্তু এখন আপনি আইনভঙ্গের সকল পথ ব্যবহার করে ফেলেছেন, বিএনপিকে ক্রমশ ‘আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি’ বানিয়ে ফেলছেন, তাই নয় কী?

ঢাকা॥ ৭ জানুয়ারি, বুধবার॥ ২০১৫॥

লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক।

masuda.bhatti@gmail.com

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful