আর্কাইভ  শনিবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২১ ● ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   শনিবার ● ২৭ নভেম্বর ২০২১

বিএনপি চায় ভারত নাক গলাক

বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০১৫, দুপুর ১০:২৯

ডেস্ক

বাংলাদেশে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন অাওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা এবং সর্বশেষ চলমান অবরোধের মধ্যে টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হল।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অান্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে দেশে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে অান্দোলন করছে বিএনপি। গত বছরের ৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল দলটি। চলতি বছর তারা এই দিনটিকে 'কালো দিবস'('গণতন্ত্র হত্যা দিবস') অাখ্যা দিয়ে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়। কিন্তু বিক্ষোভের অাগেই শনিবার বিকাল থেকে অাওয়ামী লীগ সরকার প্রায় ৭০ জন ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এ ব্যাপারে বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান টাইমস অব ইন্ডিয়াকে ফোনে বলেন, 'দেশের গণতন্ত্র এখন চরম হুমকির মুখে। গণতন্ত্রের ব্যর্থতা বাংলাদেশকে চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশে এই চরমপন্থার উত্থান ভারতের নিরাপত্তায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।'

তিনি অারও বলেন, 'বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে অানতে প্রতিবেশী দেশ ও বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের উচিত এদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ভারতে পরিপক্ক গণতন্ত্র বিদ্যমান। তাই বাংলাদেশও একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক দেশ হতে অাগ্রহী। অার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রধান ভিত্তি।'

তিনি জানান, গত বছরের বিতর্কিত নির্বাচনের দিনটিকে 'গণতন্ত্র হত্যা দিবস' অাখ্যা দিয়ে তার দল একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক অান্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু সরকার তাদের পাশবিক বল প্রয়োগ করে গণতন্ত্রের জন্য অামাদের এই অান্দোলনের টুঁটি চেপে ধরতে চায়। পুলিশের ছত্রছায়ায় অাওয়ামী লীগের সশস্ত্র গুণ্ডারা অামাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করছে এবং দলীয় অফিস পুড়িয়ে দিচ্ছে। দুই হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মীকে এরইমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। অাওয়ামী লীগের গুণ্ডা ও পুলিশের হামলায় ৪ জন নিহত ও কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষ অাহত হয়েছে।

বিরোধী দলের ওপর শক্তি প্রয়োগে নয়া দিল্লির পূর্ণ সমর্থন অাছে বলে অাওয়ামী লীগ ভারতের নামে কুৎসা রটাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নজরুল ইসলামস খান। তিনি বলেন, 'অাওয়ামী লীগ সরকার দাবি করে ভারতের অাগের ইউপিএ সরকারের মতো বর্তমানের এনডিএ সরকারও তাদের পেছনে রয়েছে। সেজন্যই তারা অামাদের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক অান্দোলনকে বীভৎসভাবে দমন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর জন্য একইসঙ্গে ভারতের ভাবমূর্তিও খারাপ হচ্ছে। অামরা অাশা করি অামাদের জনগণের অাবেগ ও অনুভূতি ভারত অান্তরিকভাবেই অনুধাবনের চেষ্টা করবে।'

গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে বালু ও ইটভর্তি ট্রাক ও সশস্ত্র পুলিশ দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'ওই ভবনটিতে অামাদের কমপক্ষে ৭০ জন লোক অাছে এবং অামাদের সেখান থেকে সরতে দেওয়া হচ্ছে না। এটি ভয়ানক একনায়কতন্ত্র।' কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে ওই অফিস ভবনের বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগসহ খাদ্য সরবরাহের পথ বন্ধ করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস ফোনে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, সোমবার বিকেলে খালেদা জিয়াসহ তিনি এবং দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার ওপর পুলিশ কাঁদানো গ্যাস ও পেপার স্প্রে করলে তারা অাহত হন।

মন্তব্য করুন


Link copied