Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ :: ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৭ : ০৯ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / বিপর্যস্ত মা ও ছেলে

বিপর্যস্ত মা ও ছেলে

নাদীম কাদির

nadeem-qadirএই কলাম লেখার পূর্ব পরিকল্পনা আমার ছিল না। কিন্তু দেশের একজন অন্যতম প্রধান নেত্রীর রাজনৈতিক ছন্দপতন, তার দল এবং ছেলের কর্মকাণ্ড দেখে লিখতে বাধ্য হলাম।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি একটি সমাবেশ অায়োজন করতে চেয়েছিল বালাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি। কিন্তু তাতে যথেষ্ট সমর্থন অাদায়ে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রাগান্বিত হয়ে অাছেন। ওই দিন সভা-সমাবেশের ওপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা অতিক্রম করার মতো কোনও সমর্থকই ছিল না। আর তাই, তার নয়াপল্টনে যেতে না পারার নেপথ্যে যে শুধু পুলিশের ভূমিকা ছিল তা কিন্তু নয়।

খালেদা জিয়া সেদিন তার গুলশান কার্যালয় থেকে বাসায় না গিয়ে অন্য কোথাও যেতে চেয়েছিলেন। তার নিরাপত্তার কারণে সরকার যে তার গতিবিধি সীমিত করেছিল, তারও যথেষ্ট কারণ ছিল। একটি জিনিস মনে রাখা জরুরি যে, বেগম জিয়া বা অন্য নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান করা সরকারের দায়িত্ব এবং সব কিছু করা হয়েছিল গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারেই।

একটি রিপোর্টে অামি জেনেছি, গোয়েন্দাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যে, যদি র‌্যালির আয়োজন করা হতো, তবে তা শেষে জামায়াতে ইসলামি ও ছাত্রশিবির এমন গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করবে, যেমনটা কিছুদিন আগে হেফাজত করেছিল। কোন সরকার এমনটা মেনে নেবে, বা কোন নাগরিক আবার সেই সহিংসতা ও জ্বালাও-পোড়াও দেখতে চাইবে?

আর তাই বেগম জিয়ার ক্ষেত্রে ‘অবরুদ্ধ’ কথাটা ছিল ভুল। সঠিক শব্দটা হবে ‘গতিবিধি সীমিত’। কেননা তাকে বার বার বলা হয়েছিল তিনি চাইলে তার বাসায় যেতে পারবেন, কিন্তু নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নয়। সাংবাদিক হিসেবেই আমি এ কথাটা বলছি, কারণ প্রথম মিনিট থেকেই আমি শব্দটি মেনে নেইনি, যা গণমাধ্যমগুলো ঢালাওভাবে ব্যবহার করে আসছিল, অথবা বলা যায় ভালো-মন্দ বিবেচনা না করেই গণমাধ্যম যে শব্দটাকে গোগ্রাসে গিলে নিয়েছিল।

চট্টগ্রামের পুলিশ বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছিল এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদন সত্য প্রমাণিত হয়েছিল। ঠিক যখুনি বিএনপির কাছের বন্ধু জামায়াত এসে যোগ দেয় এবং সন্ত্রাসের নমুনা জাহির করতে থাকে, যার পরিণতি বিএনপি নেতাদেরও ভোগ করতে হয়েছিল। আর তাই কেবল পরিকল্পনামাফিক কাজ না হওয়ায় বেগম জিয়ার আক্ষেপের কারণে সরকারের সিদ্ধান্তকে উড়িয়ে দেওয়াটা ঠিক হবে না।

এরপর সাদা এসইউভি জিপে করে তার ‘যেকোনও মূল্যের ঢাকার কেন্দ্রস্থলে যাওয়ার’ সময় আসে। যা হবার তা-ই হলো, গাড়িটি গেটের সামনে দাঁড়ালো এবং কোনও ধরনের সুনির্দিষ্ট বার্তা ছাড়াই তিনি একটি বক্তব্য রাখলেন। সবাইকে জানালেন, তারা যেন তার সরকারবিরোধী অভিযানে অংশ নেয়। কেন সবাইকে তার সরকারবিরোধী অভিযানে অংশ নেবে? ২০১৪ সালে বড় ধরনের কৌশলগত ভুলের কারণে তিনি নির্বাচনের বাস ধরতে পারেননি, তাই?

এরপরই বিপর্যয়ের পালা। কতিপয় প্রাইভেট টিভি চ্যানেলের কল্যাণে তিনি সাংবাদিক ও জনগণের প্রতি তার বিবৃতি শেষ করার সুযোগ পেলেন। দুজন রিপোর্টার, যাদের একজন ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের নেতা ছিলেন, তিনি তাকে (খালেদা জিয়া) খোঁচাতে লাগলেন পরবর্তী কর্মসূচি কী তা জানার জন্য। তার কোনও কর্মসূচি ছিল না। কিন্তু ওই দুজন তাকে ক্রমাগত বলতেই লাগলো, হরতাল নাকি অবরোধ? তিনি বললেন, অবরোধ চলবে। আমি বিস্মিত হই, অবরোধ কি চলছিল? যদি চলে থাকে, তবে ওটা কে ডেকেছিল?

এরপর যে প্রশ্নটা আসে তা হলো একটি অনির্দিষ্টকালের অবরোধের জন্য সময় আদৌ ঘনিয়ে এসেছিল কি? শেখ হাসিনার শান্তিপূর্ণ রাজনীতির আহ্বানের চেয়ে তখন কি জনগণ সহিংসতার সমর্থন করেছে? ঘণ্টাখানেক পর, যখন ২০ দলীয় জোট ও জনগণের মধ্যে অবরোধ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তুঙ্গে, তখন বেগম জিয়ার প্রেস সচিব এসে জানিয়ে দিলেন কিভাবে কিভাবে অবরোধ পালিত হবে।

এরপর অবরোধের শুরু এবং আমি এটাকে বলবো জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব, যাকে খালেদা জিয়া অবরোধ বলছেন। মূলত শিবিরই বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা চালানো শুরু করে এবং কোনও কারণ ছাড়াই কয়েকজন মানুষকে প্রাণ দিতে হয়। এর দায় কে নেবে?

বিএনপির প্রসঙ্গে আসা যাক। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ দলের নেতৃত্ব বেগম জিয়াকে ঠিকমতো নির্দেশনা বা সহযোগিতা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আমি মনে করি, তার ছেলে তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফোনে তাকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। ইন্টারনেটে কিছু অন্তঃসার শূন্য ও বালখিল্য বক্তব্য প্রচার করতেও দেখা গেছে তাকে। যখন এর কিছু কিছু অংশ যখন আমার কানে এলো তখন দুটো জিনিস মাথায় এলো, তিনি বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে আছেন এবং বাস করছেন বোকার স্বর্গে। আবার তার বক্তব্যগুলো ছিল রাজনৈতিক সহিংসতায় উসকানিমূলক এবং একইসঙ্গে সুশৃঙ্খল সশস্ত্র বাহিনীতে অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে তৈরি।

তারেক রহমান বলছিলেন যে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং কারোরই এখন রাজপথ ছাড়া যাবে না! এই লোকগুলো কারা? তারা হলো জামায়াত-শিবিরের কর্মী এবং দলের গুটিকতক কর্মী। আর এরা কিনা একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করবে। আমার মনে হয়েছিল, তিনি ভাবছেন এখনকার সময়টা বুঝি ১৯৯০ সালের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শেষের দিনগুলোর মতোই।

আমি এজেন্সি ফ্রান্স-প্রেস (এএফপি)-এর হয়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকার রাস্তায় বেগম জিয়া এবং শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। এরপর আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের সময় আবার এসেছিলাম, যার পক্ষে বিপুল জনসমর্থন ছিল। কিন্তু এখন একই সরকার চেয়ে বেগম জিয়ার করা আন্দোলন কেন উপেক্ষিত?

এর কারণটা একেবারে পরিষ্কার, আমি আগেই বলেছি যে, বেগম জিয়া তার ক্ষমতার মেয়াদের শেষকালের এসে ইয়াজুদ্দিন আহমেদকে প্রধান উপদেষ্টা বানিয়ে ধারণাটিকে হত্যা করেছিলেন। ব্যবস্থাটি পরে ওয়ান ইলেভেনের সময় হারিয়ে যায়। আরেকটা কারণ হতে পারে, কেউ ক্ষমতা ছাড়বে ও কেউ ক্ষমতা নেবে এমন এক্সপেরিমেন্ট করে করে নির্বাচকমণ্ডলীরা ক্লান্ত ছিলেন। তারা এখন সন্ত্রাসী হুমকির পরিবর্তে শান্তি ও সাধারণ জীবনের প্রত্যাশী, যেমনটা পোহাতে হয়েছিল বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে।

পত্রিকায় প্রকাশিত জ্যোতি রহমানের একটি প্রবন্ধের কথা উল্লেখ করতে চাই- “অবস্থাদৃষ্টে যা দেখা যাচ্ছে, তারেক রহমান যেভাবে বিএনপির ভবিষ্যৎ হিসেবে মূর্তপ্রতীক হয়ে গেছেন তাতে স্পষ্ট যে ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। আর আমরা হয়তো অচিরেই বিএনপির অতীত হয়ে যাওয়া নিয়ে আলাপ করবো।”

পুরো পর্বটাই হলো বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানের বিপর্যয়গাথা এবং এখন দেখা যাবে তারা কিভাবে চার বছরের অবরোধ ধরে রাখতে পারে, যেখানে তৃতীয় দিনেই জীবনযাপন প্রায় স্বাভাবিক হতে দেখা গেছে।

লেখক: সাংবাদিকতায় জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারসোল্ড স্কলার ও সম্প্রতি লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful