Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৬ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৪ : ৫০ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / ঢেঁলে সাজানো হচ্ছে রংপুর চিড়িয়াখানা

ঢেঁলে সাজানো হচ্ছে রংপুর চিড়িয়াখানা

স্টাফ রিপোর্টার:রংপুর চিড়িয়াখানাকে ঢেঁলে সাজানো হচ্ছে। খাঁচায়বন্দি প্রাণীদের বনের মুক্ত পরিবেশ দেয়া প্রকল্পের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত হবে। প্রশস্ত সেড বা খাঁচাতেই বন্য পরিবেশে তারা বিচরণ করতে পারবে। চার পাশের বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে প্রাণীদের জন্য থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী। রাত যাপনের জন্য  সেড বা খাঁচার ভেতরেই থাকবে আলাদা ঘরের ব্যবস্থা। মনোরেলে চরে ঘুরে ঘুরে দর্শনার্থীরা দেখবে বন্য পরিবেশে পশুপাখি। দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াতে এভাবেই নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে রংপুর চিড়িয়াখানা । এর সাথে নির্মিত হবে ভেটেরিনারি হাসপাতাল, অফিসার্স কোয়াটার। কর্মকর্তাদের জন্য দেয়া হবে যানবাহন। এতে ব্যয় হবে একশ কোটি টাকার উপরে।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে দুটি সরকারি চিড়িয়াখানের মধ্যে রংপুর একটি। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ রংপুর নগরীর হনুমানতলা এলাকার ৮৯ সালে গড়ে তালেন রংপুর চিড়িয়াখানটি। এটি দর্শনার্থীদের জন্য ৯২ সালে খুলে  দেয়া হয়। প্রায় ২১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই চিড়িয়াখানাটিতে  এখন আছে ৩০ প্রজাতির ১৯১টি পশু পাখি। সেসময় সেড বা খাঁচাগুলো সংকীর্ণ জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছিল। এতে করে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাতে দেখা যাচ্ছে নানা জটিলতা। তখন থেকেই পশু পাখিদের কাটছে বন্দি জীবন। অবাধে বিচরণের অভাবে রোগা হয়ে যাচ্ছে প্রাণীগুলো।

সূত্র মতে, সেখানকার বেশ কিছু প্রাণী ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রাণীর মধ্যে রয়েছে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, ক্যাঙ্গারু, চিতাবাঘ, ময়ূর। চিতা বাঘসহ এখনো কিছু কিছু খাঁচা ও সেড প্রাণী শূন্য। প্রাণী সংকটের জন্য দর্শনার্থীদের আকর্ষণ কমে যায়। এখন শূন্য খাঁচা ভরাতে ইতিমধ্যে আনা হয়েছে পেয়ার মেলানো সাদা মযূর, গাধা প্রভৃতি প্রাণী। নতুন করে জেব্রা, জিরাফ, ক্যাঙ্গারু, হাতী আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো পশু পাখি আনা হবে বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্তৃপক্ষ। চিড়িয়াখানা ঘেঁষা সরকারি জায়গায় গড়ে ওই বস্তিটি অপরাধীদের জন্য নিরাপদ জোন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে।

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, চিড়িয়াখানার এলাকাকে পুরোপুরি শব্দ দুষণমুক্ত রাখতে ভূ-প্রাকৃতিক গঠনে পরিবর্তন করা হবে। চিড়িয়াখানার পশুপাখির খাঁচা বা সেডকে স¤পূর্ণভাবে বন্য আবহে তৈরি করতে একজন জাপানি জু-আর্কিটেকচার এবং একজন জু-কনসাল্টট্যান্টের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। পুরাতন প্রাণীর খাঁচা বা সেডের বদলে আধা প্রাকৃতিক, প্রাণীবান্ধব এবং তিনস্তরের নিরাপত্তা বলয় বিশিষ্ট খাঁচা তৈরি করা হবে। দর্শনার্থীদের জন্য খাঁচায় নিরাপত্তায় ষ্টিলগ্রিলের সঙ্গে বিশেয়ায়িত কাঁচের আবরণ ব্যবহার করা হবে। এছাড়া লোহার জাল ব্যবহার হবে এসব খাঁচার নিরাপত্তায়। বিশেষ কাঁচের দেয়াল থাকায় দর্শনার্থীরা সবচেয়ে কাছ থেকে প্রাণীদের দেখতে পারবেন। প্রত্যেক প্রাণীর নিজস্ব আবাসস্থলের মতো পরিবেশ তৈরি করতে খাঁচার ভেতেরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে স্ব-নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা।

চিড়িয়াখানা সূত্র জানায়, ২০১০-১১ অর্থ বছরে খাঁচায় বন্দি প্রাণীদের বনের মুক্ত পরিবেশ দেয়া প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে বুয়েটের স্থাপত্য প্রকৌশল বিভাগকে ডিজিটাল সার্ভে এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রফেসর সাব্বির আহম্মেদের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি  দলের সার্ভে শেষ  করে গত বছর  ৫ ডিসেম্বর মাস্টার পন তৈরি করেন। মাস্টার পানের অবকাঠামোগত পরিকল্পনার চুড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয় মৎস্য প্রাণীস¤পদ মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগকে রংপুরসহ দেশের দুটি সরকারি চিড়িয়াখানা আধুনিকায়ণ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়। এবছর জুন-জুলাই মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত বছর অক্টোবর মাসে ঢাকা থেকে ডেপুটি কিউরেটর মকছুদুল হাওলাদার রংপুর চিড়িয়াখান পরিদর্শনে এসেছিলেন।

রংপুর চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটন মীর ফারুক হোসেন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বহুগুনে বেড়ে যাবে বলে আশাবাদি। রংপুর চিড়িয়াখানার জায়গা আরো বড় হওয়া প্রয়োজন বলে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful