Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ :: ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ০৬ অপরাহ্ন
Home / আলোচিত / উত্তরের আট জেলায় আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক

উত্তরের আট জেলায় আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক

potatoইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, নীলফামারী ১৩ জানুয়ারী॥ আলুর বাম্পার ফলনেও মাথায় হাত পড়েছে উত্তরের রংপুর- দিনাজপুর কৃষি অঞ্চলের আট জেলার কৃষকদের। গত বছরের ন্যায় এবারো বিরোধী রাজনীতির গ্যাড়াকলের টানা অবরোধে বিপাকে ফেলে দিয়েছে কৃষকদের। যদিও সরকারের সিদ্ধান্তে পুলিশ নিরাপক্তায় যানবাহন চলাচলাচল করলেও এক শ্রেনীল অসাধু ব্যবসায়ী বিরোধী দলের টানা অবরোধকে পূঁজি করে পানির দামে আলু ক্রয় করছে। ফলে কৃষকরা উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসান গুনতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছে এলাকা বেধে যেখানে ঢাকায় এক ট্রাক আলু পরিবহনে ৪০ হাজার টাকা লাগতো সেখানে অবরোধে ট্রাক ভাড়া দ্বিগুন বেড়েছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের এই আট জেলায় এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কারণ এবার কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু আবাদ করেছে। রংপুর ও দিনাজপুর কৃষি অঞ্চলের আট জেলায় এবার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৮০ হেক্টরে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও অর্জিত হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ২২৬ হেক্টরে।

কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বর্তমানে যে দামে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে তাতে উৎপাদন খরচ উঠছে না। অবরোধের আগে আলু পাইকারীভাবে ২০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। এর আগে এই আলু বিক্রি হয় ৪০ টাকা কেজি দরে। আর বিএনপি জামায়াতের ডাকা অবরোধে উত্তরাঞ্চলের মাঠপর্যায়ে এখন চার-পাঁচ টাকা দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। মূলত শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশার মড়ক ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে হরতাল-অবরোধের সময় মাঠের আলু বাজারে পৌঁছতে না পেরে এবার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু চাষীরা। মূলত একসঙ্গে আলু উত্তোলন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই কৃষক পর্যায়ে দাম পড়ে গেছে। ফলে সব কিছু মিলিয়ে এ বছর আলু চাষীরা চরম দুর্দশায় পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায় চলতি রবি মৌসুমে রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলা যথাক্রমে নীলফামারী-রংপুর-কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট ও গাইবান্ধায় আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮ হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমিতে । সেখানে আলু উৎপাদনে অর্জিত হয় ৯১ হাজার ৯২১ হেক্টরে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে বেশী আলু উৎপাদন হয়। অপর দিকে দিনাজপুর কৃষি অঞ্চলের তিন জেলা যথাক্রমে দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭০ হাজার ৭৪৪ হেক্টর জমিতে । সেখানে আলু উৎপাদনে অর্জিত হয় ৭৪ হাজার ৩০৫ হেক্টরে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে বেশী আলু উৎপাদন হয়। কৃষকরা জানায় আগাম জাতের আলু বিশেষ করে গ্রানুলা,ডায়মন্ড,কারেজ,ও সেভেন জাতের আলু প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২১ মেট্রিক টন করে। আর লেট ভ্যারাইটি জাতের আলু ক্ষেত থেকে উত্তোলনের পথে।

কৃষকদের অভিযোগ গত বছরেও বিএনপি জামায়াত এই সময় টানা অবরোধ ও হরতাল ডেকে আলু চাষিদের লোকসানে ফেলে দিয়েছিল। এবারো তারা একই কায়দায় টানা অবরোধ ডেকে কৃষকদের গলায় ফাঁস লাগিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ক্ষেতে আলুর গাছ পক্ত হলেও অনেক কৃষক আলু উত্তোলনে সাহস করতে পারছেনা। স্থানীয় ফড়িয়ারা কৃষকদের পানির দামে আলু বিক্রির দাম বলছে।

এদিকে আগাম আলু উৎপাদনের সুঁতিগার হিসাবে পরিচিত নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার দুরাকুটি গ্রামের কৃষক সোহরাব হোসেন বলেন তার জমির উৎপাদিত ১৭ মন আলু সোমবার তিনি মাত্র ১৬০ টাকা মন দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে তাকে প্রতি কেজি আলু ৪ টাকা দরে বিক্রি করতে হলো।
উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলু চাষী আব্দুর জব্বার জানান বিএনপি জামায়াত টানা অবরোধ হরতাল ডেকে কৃষকদের মেরে ফেলার পায়তারা করছে। স্থানীয় এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী পাইকারিভাবে আলুর কেজি ৪ টাকা করে দরে আলু কিনে ফায়দা লুটছে। তাই বাধ্য হয়ে এখন নিজেদের প্রতিবাদী হয়ে উঠতে হচ্ছে। তাই তিনি তার জমি থেকে আড়াইশত বস্তা আলু( প্রতি বস্তায় ৮০ কেজি) উত্তোলন করেছেন। অন্যসময় ৪০ হাজার টাকার ট্রাক ভাড়া অবরোধে সাহস করে ৭০ হাজার টাকায় ভাড়া করে সোমবার আলু ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন যেহেতু বিএনপি -জামায়াত টানা অবরোধ ডাক দেয়ায় সরকার যানবাহন চলাচলে সড়কে নিরাপক্তা দিয়েছেন সেহেতু ট্রাকে করে আলু ঢাকা নিয়ে গিয়ে বেচবো। কিন্তু অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পানির দামে আলু বিক্রি করছে।

দক্ষিণ ভেড়ভেড়ি গ্রামের কৃষক খয়ের উদ্দিনের (৬৫) বলেন, বেশি দামের আশাত হামরা আগাম আলু গারছি। কিন্তু দেশের যে অবস্থা, কিসের বলে অবরোধ, হরতাল। ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা আলু কিনতে আসতে না পারায় স্থানীয় বাজারে খুচরাভাবে আলু ৬ থেকে ৭ টাকা কেজি দরে বেচতে বাধ্য হচ্ছি। আর পাইকারা দাম কয় ৪ টাকা কেজি।
একই গ্রামের কৃষক মিনারুল (৪৫) বলেন, ক্ষেতে আলুর বয়স হয়া গেইছে। বাধ্য হয়্যা কিশোরীগঞ্জ হাটত কম দামত ব্যাচের নাগেছে।
যদুমনি গ্রামের রশিদুল ইসলাম জানান,আমি এবারে আলু চাষ করেছি তিন বিঘা জমিতে। অবরোধের কারণে আমার আসল থেকে অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। আলুর দাম যদি কেজিতে ১০/১২ টাকা বিক্রি করা যায় তাহলে উৎপাদন খরচ উঠতো। কিন্তু অবরোধে আলুর দাম বলছে ৪ টাকা কেজি।
সদর ইউনিয়নের ছিট রাজিব গ্রামের কৃষক মো: রশিদুল ইসলাম জানান,তিনি এবারে ২বিঘা জমিতে আলু চাষ করে ১বিঘা তুলেছে। সেখানে তার লোকসান হয়েছে ৫হাজার টাকা। এখনও তো ওই ১বিঘা আলু তুলি নাই কি যে হবে আল্লাহ জানে। বিএনপি জামায়াতের অবরোধ হামরার কৃষকলার গলার ফাঁস লাগি দেছে। হামরা এমন অবরোধ মানিনা।
স্থানীয় আলু ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল হক (৪৫) ও রশিদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাবসায়ীরা অবরোধের কারনে আসছেনা। ফলে স্থানীয়ভাবে আমাদের উপর চাপ পড়ছে। কিন্তু অবরোধের কারণে কোথাও এই আলু পাঠাতে পারছি না। এদিকে আলুর দাম প্রতিদিনই কমে আসছে। তারপরেও ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা কেজি দরে আলু ক্রয় করে রাতে বেশী দামে ট্রাক ভাড়া করে আলু ঢাকা পাঠাচ্ছি। এতে ৪০ হাজার টাকার ট্রাক ভাড়া ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বেড়েছে।
স্থানীয় আড়তদার সাবু জানান,আমি এবারে অবরোধের আগে ৫০ গাড়ি(ট্রাক) আলু কিনেছি ১৫-২০ টাকা করে।কিন্তু যেদিন থেকে অবরোধ শুরু হয়েছে তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আমার ৭লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও দিনাজপুর কৃষি অঞ্চলের আগাম আলু ওঠে। এখানকার অনেক প্রান্তিক ও মাঝারি ধরনের চাষি আগাম আলু চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। গত বারের মতো এবার টানা অবরোধ আর হরতালে তাঁরা বিপাকে পড়েছেন।
নীলফামারীর এক হিসাবে দেখা যায় এ জেলায় এবার ২২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এরমধ্যে বাজারে সোমবার পর্যন্ত আলু উঠেছে ৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমির। ফলে আলুর স্তুপ জমেছে। আর এই আলু নিয়ে কৃষক পড়েছে বিপাকে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful