Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০ :: ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১০ : ২৭ অপরাহ্ন
Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / পাটগ্রামে শের শাহ্ যুগের নির্মিত তাজিয়া সৌধ আজও বহন করছে কারবালার স্মৃতি

পাটগ্রামে শের শাহ্ যুগের নির্মিত তাজিয়া সৌধ আজও বহন করছে কারবালার স্মৃতি

Photo-0007আবু সাঈদ,পাটগ্রাম: পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের জমগ্রাম এলাকায় প্রয়াত জমিদার আব্দুল মজিদ বসুনিয়ার বাড়ীর উঠানে শের শাহ’র জায়গীরদার পাঞ্চে শাহ্’র পুত্র গাটু শাহ্ ও বাটু শাহ্’র নির্মিত মর্হরমের স্মৃতিরূপ ‘তাজিয়া সৌধ’ লোকশ্রুতিতে ‘বিবির দরগা’ কালের সাক্ষি হয়ে দীর্ঘ ৫শত বৎসর ধরে দাঁড়িয়ে আছে।

জানা গেছে, ভারতীয় উপমহাদেশের সিংহ শাসক আফগান বংশোদ্ভূত শের শাহ্(১৪৮৬-১৫৪৫)ছিলেন শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। তার শাসনামলের ব্যপ্তি মাত্র ৫বৎসর (১৫৪০-৪৫)। এ স্বল্প সময়ের মধ্যে শাসন কার্য পরিচালনার পাশাপাশি নিজ সম্প্রদায়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ, মতবাদ প্রচার ও প্রসারে তিনি বেশ অনুরাগী ছিলেন বলে জানা যায়। তার প্রয়াস থেকেই তাঁর জায়গীরদারেরা বিভিন্ন পরগনায় স্থায়ি ভাবে শিয়া সম্প্রদায়ের বেদনাবিদূর-গৌরবোজ্জল মর্হরমের ভাবকে স্থাপত্য শৈলীতে রূপ দিয়ে তাজিয়া সৌধ নির্মাণ ও এগুলোকে কেন্দ্র বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালন করতেন।
প্রয়াত জমিদার আব্দুল হামিদ বসুনিয়ার নাতি সাবেক ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন তাজিয়া সৌধ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বললেন,‘দাদা আব্দুল মজিদ বসুনিয়ার কাছে শুনেছি-বসুনিয়াদের পূর্ব পুরুষ শের শাহ্র জায়গীরদার বাটুশাহ ও গাটুশাহ এই তাজিয়া সৌধটি নির্মাণ করেছিলেন। সেই সময় থেকে বংশ পরম্পরায় এই তাজিয়া সৌধটিকে ঘিরে ১০মর্হরম বিভিন্ন অনুষ্টানাদি পালন করা হত। শত শত মাইল দূর থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা আসত এখানে । এটাকে ঘিরে কাওয়ালি গাওয়া হত। অনেকে সংস্কার বশত মনবাসনা পূরণের জন্য কিংবা সন্তান লাভের জন্য,রোগ-শোক থেকে মুক্তি লাভের জন্য এখানে টাকা পয়সাসহ বিভিন্ন দ্রবাদি মানত করত। মাতম করা হত-হায়! হোসেন, হায়! হোসেন বলে। সৌধটির গায়ে কাটা বিভিন্ন ফোকরে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেয়া হত। লোকেরা বাহিরে থেকে ফোকর দিয়ে টাকা পয়সা ভেতরের ফাঁকা অংশে ছিটিয়ে দিত । লাঠি খেলা চলত। শেষে আগত খেলোয়ারদের ও দর্শনার্থীদের মাঝে হালুয়া-রুটি পরিবেশন করা হত। জমিদার আব্দুল মজিদ বসুনিয়া মৃত্যুর পরও শতাব্দীকাল জুড়ে আমাদের কৈশোর কাল পর্যন্ত মর্হরম মাসের ১০ তারিখে এখানে মেলা বসত । একাত্তর পরবর্তী সময়ে বন্ধ হয়ে যায় এ সব কিছু।’

২০ ফিট উচ্চতা ও ১০ বর্গফিট প্রসস্ত চার স্তর বিশিষ্ট তাজিয়া সৌধটি ইট, চুন ও সুরকির তৈরী। সৌধটির ভিত্তি স্তর থেকে তৃতীয় স্তরটির ভিতরটি ফাঁকা। উপরের স্তরটি ভেঙ্গে গেছে অনেক আগেই। ভিত্তি স্তর থেকে উপরের দ্বিতীয় স্তরটির প্রসস্ততা অপেক্ষাকৃত কম । দ্বিতীয় স্তর থেকে তৃতীয় স্তরটির প্রসস্ততা আরো কম। পুরোনো এ সৌধটির ইট সুরকি আস্ত থাকলেও এর চুনের আস্তর খসে পড়ে ইটের গাঁথুনি বাহির হয়ে পড়ে ছিল দীর্ঘ দিন। গত দু হাজার পাঁচ সালে আবার নতুন করে সিমেন্টের আস্তর দেওয়া হয়। সৌধটির গায়ে এর নির্মাণ কাল খোদাই করা আছে ১৫৫০ খ্রীষ্টাব্দ।

হযরত মুহম্মদ (সাঃ)এর দৌহিত্র তৌহিদের প্রাণ পুরুষ ইমাম হোসেনের সাথে হিজরী ৬১ সনের ১০ মর্হরম কারবালার প্রান্তে আমির মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদের যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে শহীদ হন ইমাম হোসেন। ইয়াজিদের হাতে ইমাম হোসেনের মর্মান্তিক মৃত্যু সমস্ত উম্মতে মুহাম্মাদীর কাছে মর্মন্তুদ হলেও ফলিফা আলী রাঃ আনহুর অনুসারী শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে ইমাম হোসেনের এই আত্মত্যাগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । স্মৃতিকাতর ঐতিহ্য অনুসারী শিয়ারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জিন্দা রেখেছে ইমাম হোসেনের মৃত্যুকে ঘিরে মাতম করে বিভিন্ন আচারাধি পালনের বিষয়টি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful