Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০ :: ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১০ : ৫২ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / আপনা মাংসে হরিণা বৈরী

আপনা মাংসে হরিণা বৈরী

আবু সাঈদ

repদার্শনিক ফ্রয়েড যৌন আবেদন নিয়ে গবেষণা করে দেখিয়েছেন, মানুষের জীবনটাকেই যেন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করছে তার যৌনবৃত্তি। দর্শন ও সাহিত্যে বহুল আলোচিত ফ্রয়েডিয় এ চিন্তা ফ্রয়েডিয় লিবিডো নামে পরিচিত। পরবর্তীতে অনেক কবি সাহিত্যিক এ দর্শনকে গল্প, উপন্যাস ও নাটকের চরিত্রে প্রয়োগ করে এ ধারার সফল চরিত্র সৃষ্টিতে সফল হয়েছেন । মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসে কুবের-কপিলার চরিত্রে, ‘পুতুল নাচের ইতিকথায়’ শশী-কুসুমের চরিত্রে, ছোট গল্প ‘প্রাগৈতিহাসিক’ এ ভিখু-পাচির চরিত্রে ফ্রয়েডিয় এ দর্শনের সফল প্রয়োগ করেছেন।

পবিত্র কুরআনে মানুষের যৌন আবেদন এবং নর-নারীর এ বিষয়ক লীলাকে নেয়ামত হিসেবে দেখানো হয়েছে। সুরা ত্বীন এ বর্ণীত আছে-আমি মানুষকে উত্তম আকৃতিতে তৈরী করেছি। এখানে মানুষের আকৃতি বলতে তার দৈহিক কাঠামো এবং রূপ-সৌন্দর্যকে বুঝানো হয়েছে। এই দৈহিক কাঠামো ও সৌন্দর্যের দিক থেকে পেলব আকর্ষনীয় ও কোমল নারীরাই। এ পেলব কোমল আকর্ষনীয় রূপই যেন তার শত্রু। তার দেহ যেন গল্পের সেই তৃষ্ণার্ত কাকের পানির কলস।

বাঙালীর বাউল দর্শনে নর-নারীর দেহ মন্থিত সুখবিলাস থেকেই পরমার্থ বোধ ও পরমার্থ চেতনার উদ্ভব। দেহ ভোগযোগ্য হলেও সৌন্দর্য উপভোগ্য। তবে দেহাতীত প্রেম বলে যেমন কিছু নেই, তেমনি দেহ সর্বস্ব প্রেমও নিছক সুখ বিলাস ছাড়া আর কিছু নয়।

সম্প্রতি দেহ সর্বস্ব প্রেমের ফাঁদে পড়ে নারীদের প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শোবিজের নামকরা শিল্পীদের দেহ বিকিয়ে দেয়ার পর মনোবিকলনের শিকার হয়ে আত্মহননের পথে যাওয়া সংবাদের শিরোনাম হতে দেখা যায় । এটি বেশী বেশী ঘটে নারীদের ক্ষেত্রে।

এ ক্ষেত্রে জাতি হিসেবে আলাদা সংস্কৃতি, আলাদা মনন- মর্জি-মেজাজের কারণে বাঙালি নারীরা এ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে বেশী। এটা যে শুধু অশিক্ষিত কিংবা অর্ধশিক্ষিত নারীদের ক্ষেত্রেই ঘটছে তা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী নারীরাও এমন শরীরসর্বস্ব প্রেমে পড়ে মনোবিকলনের শিকার হচ্ছে। শরীরই যেন তাদের আত্মাকে মনকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। প্রেমের কাঁচা অনুভূতিতে নারীরা শরীর মন এলিয়ে দিচ্ছে পুরুষের শরীরে, কামুক মুহূর্ত পেড়িয়ে গেলে রক্ষণশীল মানসিকতায় অস্থির হয়ে পড়ছে। পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষের ভোগের শিকার হয়ে শেষে প্রতারিত হয়ে সামাজিক ভাবে একা হয়ে পড়ছে এরা । পরিণতিতে আত্ম হননের পথ বেছে নিচ্ছে। অলক্ষে ধাবিত এমন দেহ সর্বস্ব প্রেমের সম্পর্কের শিকার হয়ে শুধু যে নিজেই আত্ম হননের পথে যাচ্ছে তা’ই নয়, এতে বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা। এর নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে পরিবার থেকে সমাজের সর্বত্র।

শিক্ষিতা তরুণী মাহি কাঁচা আবেগের বশে রবীনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে । বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রবীন মাহির দেহ ভোগ করে কিন্তু রবীন বিয়ে পর্যন্ত সম্পর্কটাকে গড়াতে নারাজ। শুরু হয় তরুণী মাহির মনোবিকলোন । পুরুষ শাসিত রক্ষণশীল সমাজে স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি উদ্বেগ উৎকন্ঠার কারণ হতে পারে মাহির কাছে। সম্প্রতি চিত্র নায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপী ক্রিকেটার রুবেলের প্রেমের ছলনার শিকার হয়ে দেহ বিকিয়ে দিয়ে প্রতারনার শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবী করেছেন। মনোবিকলনের শিকার অসহায় প্রতারিত হ্যাপী এখন আদালতের স্মরনাপন্ন হয়েছেন,বিষয়টি হ্যাপীর জন্য উদ্বেগজনক এবং মানহানিকর। হ্যাপীর এ অস্থিরতা শুধু হ্যাপীকেই পেয়ে বসে নি, হ্যাপীর পরিবারও এ অস্থির যন্ত্রনার শিকার হচ্ছেন, বলা বাহুল্য। বুর্জোয়া রক্ষণশীল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিনিধি রুবেল সমাজের ও রাষ্ট্রের সহানুভূতি পেয়েছে। রুবেলকে বীর পুরুষের মর্যাদা দেওয়া হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ,আমরা সভ্যতার মাপকাঠিতে খুব বেশীদূর এগুতে পারি নি।

রক্ষণশীল পরিবারের স্কুল পড়ুয়া কিশোরি কনা। রক্ষণশীলতার ফাঁক গলিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে তারই ক্লাশমেটের সাথে। পড়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসে। এই অপরিণত বয়সের ছেলে খেলায় কনা হয়ত সুখ বোধ করে কিন্তু কনার পরিবার সামাজিকভাবে হেয় হয়। অপূরণীয় ক্ষতি হয় পরিবারটির। কিশোরীটি নিজেও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হয়।

মনোবিজ্ঞানিরা মানুষের যৌন আবেদনের বিষয়টিকে অন্যতম একটি মৌলিক চাহিদা হিসেবে দেখেছেন। তবে যৌন বিষয়টিকে অত্যন্ত গোপনীয় একটা বিষয় ভেবে এ বিষয়ে পারিবারিকভাবে কাউন্সিলিং এ অনীহা; স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকা আবার এর বিপরীতে পর্নোগ্রাফি কিংবা নুড ফিল্মমের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে যৌন বিষয়ে উৎসাহ এবং উদ্দীপনা সৃষ্টি করা যৌন বিষয়ক জটিলতা সৃষ্টির মূল কারণ। গত দেড় দশকে মোবাইলের বদৌলতে দেশের অভ্যন্তরে তৈরীকৃত নর-নারীর যৌন লীলার ছবি, কামলীলার ষোলকলা পূর্ণ আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ কিংবা আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের যৌনলীলার ছবি কিংবা সুকৌশলে মিহি পরিধেয় বস্ত্রের মাধ্যমে যৌনাঙ্গের কাঠামো প্রদর্শন কিংবা সেলিব্রেটিদের দিয়ে নগ্ন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা- আপনার দেহের কোন অঙ্গ/প্রত্যঙ্গ কিংবা কোন অংশটি বেশি প্রিয় ? এগুলো যৌন লালসা সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট। এই লালসা চরিতাথের্র জন্য বহু পুরোনো তথাকথিত প্রেম কিংবা ভালবাসা নামক একটা বিষয়কে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা আমাদের সংস্কৃতিতে ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এটি নারীদের প্রতারিত হওয়ার মূল কারণ। কামুক প্রতারক পুরুষরা প্রেম কিংবা ভালবাসার ছলা কলাকে যৌন জগতে প্রবেশের মোক্ষম সুযোগ হিসেবে দেখছে।

এ ক্ষেত্রে না বুঝে না শুনে নিছক আবেগের বশে ভালবাসা কিংবা প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে যৌন সম্পর্ক গড়ে না তোলাই উত্তম। জৈববৃত্তি মানুষের অন্যতম মৌল চাহিদা তাই এক্ষেত্রে নিষেধের বেড়াজালে আটকানো নিছক বোকামী ছাড়া কিছু নয়। বিয়ে পূর্ববর্তী যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যালান্স করার মানসিকতা, সাহসিকতা ও দৃঢ় মনোবল থাকা চাই। সঙ্গী বিশ্বস্ত হলে, যৌন বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকলে এ নিয়ে প্রতারণার কোন প্রশ্ন আসে না, অনুতপ্ত কিংবা মনোবিকলনের সম্ভাবনা থাকে না। তবে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে বিয়ে পূর্ববর্তী যৌন সম্পর্ক গড়ে না তোলাই শ্রেয়।

লেখক: প্রভাষক ও সাংবাদিক।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful