Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ :: ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ৫২ অপরাহ্ন
Home / বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / রংপুরের ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় মিলবে পথের ঠিকানা

রংপুরের ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় মিলবে পথের ঠিকানা

মহিউদ্দিন মখদুমী

মহিউদ্দিন মখদুমী

মহিউদ্দিন মখদুমী

শিশুটি চিৎকার করে কাঁদছে। সন্তান কাঁদছে থামাবার উপায় পাচ্ছে না পিতা। খেলনায় এ কান্না থামবে না খেয়াল হতেই শিশুটির পিতা নিজের মোবাইলের রিংটোন বাজানো শুরু করেন। শিশুটির কান্না থেমে যায়। এরপর যখনি শিশুটি কাঁদে পিতা মোবাইলের রিংটোন বাজায়। শিশুটির কান্না থেমে যায়। অলক্ষ্যেই মোবাইলের রিংটোন শিশুটির কান্নার প্রতিষেধক হয়ে উঠে। এভাবেই ধীরে ধীরে মোবাইল প্রযুক্তি আমাদের জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে মিশে যাচ্ছে।

মোবাইলে ব্যাংক, জীবনবীমা, ক্যামেরা, ভিডিও, গেম, ইন্টারনেট,মোবাইলে বিশ্বসংবাদ। যেন আমরা আমাদের অজান্তেই প্রযুক্তির সাথে জীবন মিলিয়ে নিচ্ছি। আমরা প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছি। প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে আমাদের। আমরা জানার চেষ্টা করছি। এই চেষ্টার পর যা অর্জন তাকেই বদলে যাওয়া বলে। সৃষ্টি হচ্ছে প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থানের। দেশের শিক্ষিত একটি বিশাল জনগোষ্ঠী জড়িয়ে পড়ছে এ পেশায়। তথাকথিত পশ্চাৎপদ জনপদ রংপুর এখন বদলে যেতে যেতে নতুন চাঁদরে নিজেকে ঢাকছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বদলে যায়। প্রযুক্তি জগতের বদল গুলো ঘটে একটু তাড়াতাড়ি। প্রযুক্তির আজ যেটি আপডেট ঠিক কালই সেটা পুরনো। উন্নয়ন ও প্রযুক্তির আপডেট নিয়ে মাঠে নেমেছে রংপুরের জেলা প্রশাসন। ক্ষুধা দারিদ্র,অশিক্ষা ও দুর্নীতিমুক্ত সুখি-সমৃদ্ধ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে লক্ষ স্থির করে রংপুরের জেলা প্রশাসন আয়োজন করেছে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ২০১৫। তিনদিন ব্যাপী অর্থাৎ ১৮, ১৯এবং ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত রংপুর টাউন হল মাঠে মেলা চলবে।

আজ ২০ জানুয়ারি মেলার শেষ দিন। জানতাম-মেলা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির যোগাযোগ নিবিড়তম একটি মাধ্যম ছিল। মেলার নাম শুনলেই গ্রামীণ জীবনে প্রাণচাঞ্চল্য ভরে যেত। মেলা মানেই যেন যাত্রাগান, পুতুল নাচ,নাগরদোলা, জারি-সারি, গম্ভীরা কীর্তন, পালার আসর, মোরগও ষাঁড়ের লড়াই, লাঠি খেলা, হাডুডু খেলা, নানান রঙের বেলুন, খাইদাই, আনন্দ আড্ডা ইত্যাদি। সময়ের টানে পৌষ মেলার মতো সেই মেলা এখন নগরে প্রবেশ করে হরেক রকম মেলায় পরিণত হয়েছে। স্মার্ট-ফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটারের মেলা, হজ ও ওমরাহ মেলা, রিহ্যাব মেলা,লিটল ম্যাগাজিন মেলা, বিদেশি পাখি এবং রঙিন মাছের মেলা, শিল্প মেলা, বাণিজ্য মেলা, আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা, ছাপচিত্র মেলা, গ্রামীণ মৃৎশিল্প ও কারুপণ্যের বিকিকিনি মেলাসহ আরও অনেক রকমের মেলা বসছে গোটা বাংলাদেশে। রংপুরের ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ২০১৫এর চমৎকার প্যাভিলিয়ন। ছোট ছোট স্টল। স্টলে স্টলে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, স্ক্রিন, ডিজিটাল অন্যান্য ডিভাইস, ডিজিটাল সংগীত। স্টলে স্টলে উৎসুক শিক্ষার্থীদের ভিড়। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ থেকে দল বেঁধে আসছে শিক্ষার্থীরা। পরনে তাদের পরিচ্ছন্ন ইউনিফর্ম। দর্শনার্থীরা দেখছে ডিজিটাল ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোট প্রদান পদ্ধতি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান পদ্ধতি, ভিডিও কনফারেন্সিং, টেলিকনফারেন্সিং, স্মার্ট ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম, ইন্টারনেট, ওয়াইফাই,ব্রাউজিং ইএমও প্রভৃতি। হাজার হাজার দর্শনার্থী/ছাত্র-ছাত্রী বিনামূল্যে ই-মেইল ও ফেসবুক একাউন্ট খুলেছে। বাইরে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য দেখে বাহ্ ভালো লাগতো তো! ভিতর থেকে এমন উচ্চারণের শব্দ শোনার পর মেলায় প্রবেশ করলাম। দেখলাম নিজস্ব স্টাইলে। জেলা প্রশাসনের রুচি ও মননশীলতায় আমি অভিভূত।

নান্দনিক স্টল, ব্যানার, ল্যাপটপ, স্ক্রিন, প্রজেক্টর, সাজসজ্জা দেখে মনে হল কে বলে পিছিয়ে পড়া জনপদ রংপুর? ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার আয়োজনটি এই জনপদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর উন্নত আধুনিক রুচিশীলতার বহিঃপ্রকাশ। পরক্ষণেই একটি বোধ আমাকে একটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করালো। আহা! একটি দেশের সরকার জনগণকে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে কি প্রচেষ্টাই না চালিয়ে থাকেন। আমরা জনগণ জেনে ও যদি না জানার ভান করি। কিংবা হাতের মুঠোয় সোনা পেয়ে যদি তা বে-খেয়ালে তা হাত ছাড়া করে ফেলি তবে দোষ কার সরকারের নাকি জনগণের?

জানতে পারলাম,ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১৫ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত। এসময় উপস্থিত ছিলেন রংপুরের ডিআইজি হুমায়ুন কবীর, জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তি) মাহবুবুল করিম,সিনিয়র জেলা তথ্য অফিসার হুমায়ুন কবীর,প্রেসক্লাব সভাপতি এ.একেএম ফজলুল হক,জেলা শিল্প কলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুলসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মেলা আয়োজক কমিটির প্রধান জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ জানান, সরকারী ও বেসরকারি অফিস সমূহের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থাগুলোর স্টলসহ মেলায় ৩৮টি স্টল স্থান পেয়েছে। তিনদিন ব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় সেমিনার,বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, ডিজিটাল বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়,মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও ইনোভেশনসহ তিনটি বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। থাকবে নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।

জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ একটি তথ্য উচ্চারণ করেছেন গর্বিত কণ্ঠে। তিনি বলেছেন“ গত বছর রংপুর জেলার ৭৬ ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্র গুলো আয়ের দিক দিয়ে একাধারে আট মাস সারা বাংলাদেশে চ্যাম্পিয়ন ছিল। রংপুর জেলার ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার গুলো সারা বাংলাদেশের সেরা তিনটি জেলার তালিকায় স্থান পেয়েছে”।

রংপুরের যে কোন সাফল্যের খবর আমার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে। আনন্দম! আনন্দম!! আনন্দম!!!।

প্রিয় রংপুরকে উন্নয়নে বদলে দেবার জন্য কথার তুরি উড়াই আমরা। জানা উচিত কোন কিছু বদলে দেবার আগে সবার আগে নিজেকে বদলে নিতে হবে। আমরা কি সে চেষ্টা করছি? ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা নিজেকে বদলে দেবার একটি মাধ্যম। রংপুরের শিক্ষিত বেকার যুবক/যুবতিরা ঘরে বসে চাকরী চেষ্টার পাশাপাশি মেলায় আসুন, দেখুন, জেনে নিন, স্বপ্ন আঁকুন। এবার নিজেকে বদলে ফেলুন ডিজিটাল আলোয়। রংপুরের ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় মিলবে আপনার পথের ঠিকানা। যারা ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় এসেছিলেন তাদের স্যালুট। যারা আসেননি আজ সময় আছে চলে আসুন। যদি মিক্স করে আফসোস করে থাকেন তবে চলে আসতে পারেন জেলা প্রশাসনের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগে। আপনার ডিজিটাল আলোয় আলোকিত হওয়ার তথ্য রেডি। জয়তু রংপুর জেলা প্রশাসন।

সাংবাদিক দৈনিক মানবকন্ঠ ও উন্নয়ন কর্মী

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful