Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০ :: ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৭ : ৩৩ অপরাহ্ন
Home / আলোচিত / অলআউট অ্যাকশনে সরকার

অলআউট অ্যাকশনে সরকার

police rangpur ডেস্ক: অবরোধের নামে চলমান সহিংসতা, সন্ত্রাস, পেট্রলবোমা ছুড়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ইত্যাদি প্রতিহত করতে সরকার অলআউট অ্যাকশন (সর্বাত্মক অভিযান) চালাবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন মনে করে, সহিংসতা-সন্ত্রাস রাজনৈতিক সমস্যা নয়, তাই একে প্রশাসনিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাত দিনের মধ্যে সারা দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তোলার জন্য মাঠপর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে গণমান্য ব্যক্তি, সরকারদলীয় নেতৃস্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়েছে। সূত্র জানায়, গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জরুরি বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সভার সভাপতি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এবং জানমালের নিরাপত্তার জন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওই কমিটির সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা। বৈঠক শেষে আমির হোসেন আমু বলেন, মানুষ হত্যা করে অবরোধ হয় না। তিনি বলেন, ‘আমরা যে কারণে উদ্বিগ্ন তা হচ্ছে দেশে রাজনীতি থাকবে কি না, বর্তমানে রাজনীতির নামে যা হচ্ছে তাতে মানুষ আর রাজনীতি করবে না।’ তিনি বলেন, ‘৬৯-এ আমরা আন্দোলন, হরতাল-অবরোধ করেছি। এর পক্ষে স্লোগান দিয়েছি। কিন্তু এখন যারা পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করছে, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করছে তারা অবরোধের পক্ষে কোনো স্লোগান দিচ্ছেন না। মানুষ ভাড়া করে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে রাজনীতি হয় না। এভাবে চলতে পারে না। এটা বন্ধ করতে হবে। আর এটা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে সরকার।’শিল্পমন্ত্রী বলেন, এই সহিংসতা আর সন্ত্রাস বন্ধে পাড়া-মহল্লায় সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হবে। বিএনপি-জামায়াতের অবরোধে নাশকতা ঠেকাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটিকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে যে কমিটি ছিল তাতে যারা বাদ পড়েছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী জানান, গত কয়েক দিনে নাশকতার ঘটনায় সারা দেশে ৭ হাজার ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সবাইকে ধরা হয়েছে নাশকতার ঘটনাস্থল থেকে। অথচ কোনো কোনো নেতানেত্রী বলছেন, তাদের লোক এই নাশকতা করছেন না। মঙ্গলবার রাতেও ঢাকা মহানগর থেকে ১৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে ১৩৪ জন বিএনপির, বাকিরা জামায়াত-শিবির কর্মী। এতেই প্রমাণ হয় খালেদা জিয়া মিথ্যা বলছেন। তিনি বলেন, পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করে, জিম্মি করে দাবি আদায় করা যায় না। তিনি বলেন, দেশ থেকে রাজনীতিকে বিদায় করতে, দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং পাকিস্তানের মতো অবস্থার সৃষ্টি জন্য এসব করা হচ্ছে। কিন্তু এটা করতে দেওয়া হবে না। আমির হোসেন আমু বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সারা দেশের অবস্থা ভালো আছে। রাস্তায় দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল করছে ৩০ থেকে ৫০ হাজার। এদিকে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সিনিয়র মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিরোধী দলের চলমান অবরোধ কর্মসূচিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বৈঠক থেকে বের হয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, এখন যা হচ্ছে তা রাজনীতি নয়, জাস্ট সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এটা চলতে দেওয়া যায় না। সরকার আর এটা টলারেট করবে না। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চূড়ান্তভাবে মোকাবিলা করা হবে। তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে বৈঠকে বলা হয়েছে এক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এজন্য সাহায্যও চাওয়া হয়েছে। পুলিশপ্রধানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের যেসব এলাকায় সহিংসতা হচ্ছে সেগুলো দমনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা দরকার। এটা পেলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পুলিশকে সেই আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই মন্ত্রী আরও জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে বৈঠক থেকে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful